মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

এক ভাষাসৈনিক ও সাংবাদিকের কথা

প্রকাশিত : ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

মীর নাসিরউদ্দিন উজ্জ্বল, মুন্সীগঞ্জ থেকে ॥ বিক্রমপুরের জলকদর দেওয়ানের বাড়িটি ব্রিটিশ শাসনামলে হয়ে উঠেছিল বাম রাজনীতিকদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল। সে সময় বাড়ির বাংলোতে বাম রাজনীতিকদের মাঝে খাবার বিতরণ ও তাদের চিঠি আদান-প্রদান করতেন তিনি। বিপ্লবী কমিউনিস্টদের সংস্পর্শে এভাবেই রাজনীতির প্রতি দুর্বলতা জন্মেছিল সফিউদ্দিন আহমেদের। মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার গাঁওদিয়ার হারিদিয়া গ্রামের জলকদর দেওয়ানের ছোট ছেলে তিনি। তখন তিনি ছিলেন স্কুলের ছাত্র। পাশাপাশি কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘জনশক্তি’ পত্রিকা বিক্রি করতেন। পত্রিকা বিক্রি ও পড়ার মধ্য দিয়ে তাকে কাছে টানে সাংবাদিকতাও। পরবর্তীতে ব্রিটিশ আমলের তেভাগা আন্দোলনসহ নেত্রকোনায় অনুষ্ঠিত সর্ব-ভারতীয় সভায় জিতেন ঘোষের সঙ্গে বিক্রমপুর কৃষক সভার কর্মী হিসেবে যোগদান করেন। মাত্র ১৭ বছর বয়সে বড় ভাই শামসুদ্দিন আহমেদের সঙ্গে ১৯৪০ সালের লাহোর সম্মেলনে যোগ দেন সফিউদ্দিন আহমেদ। এরপর ১৯৪৮ সালে পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠীর ‘উর্দু হবে একমাত্র রাষ্ট্র ভাষা’Ñ ঘোষণার প্রতিবাদ করে কারাবরণ করেন তিনি।

ঢাকার জগন্নাথ কলেজ ছাত্র-সংসদের জিএস থাকাকালীন সফিউদ্দিন আহমেদ ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে। সংগ্রামী জীবদ্দশায় ৭বার গ্রেফতার হয়েছিলেন। ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও রাজশাহীসহ বিভিন্ন কারগারে বিভিন্ন মেয়াদে সর্বমোট ১০ বছর দিয়ে রাখায় জীবন কাটিয়েছেন। খাপড়া ওয়ার্ডের স্মৃতি ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে কষ্টের। জেলখানায় তাঁকে বরফের পাটা চাপা দিয়ে রাখায় এ্যাজমায় আক্রান্ত হন। শেষ বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হন। ’৫২ সালে তিনি ছিলেন জগন্নাথ কলেজ ছাত্র সংসদের জিএস। এছাড়া রাজনৈতিক কারণে তিনি ১শ’ ৩০ দিন অনশনে কাটান। রাজশাহীর খাপড়া ওয়ার্ডে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে জেলবন্দী ছিলেন তিনি। বন্দী অবস্থায় খাপড়া ওয়ার্ডে হাজতীদের ওপর যে গুলিবর্ষণ হয় সে সময় নিজের বুদ্ধিমত্তায় সফিউদ্দিন প্রাণে রক্ষা পান। তিনি হাঙ্গার স্ট্রাইক পর্যন্ত করেন। জেলখানায় বরফ চাপাসহ নানা নির্যাতনেও তিনি মাথানত করেননি। তবে রাষ্ট্রীয় কোন সম্মান তিনি পাননি। জনকণ্ঠ সম্মাননাই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান বলে তিনি গর্ব করতেন।

১৯৭১ সালের আত্মগোপন করেও নানাভাবে মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখেন। সফিউদ্দিন আহমদ সংবাদপত্র ও মফস্বল সাংবাদিকতাকে ব্রত করে দেশ ও জনগণের সমস্যা এবং গণমনের অধিকার সম্বন্ধে সচেতন করার দায়িত্বটুকু নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করে গেছেন। তিনি মফস্বল সাংবাদিকতার কিংবদন্তি হিসেবেও পরিচিত। তিনি অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র থাকাকালে কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়ার সাপ্তাহিক মুখপত্র ‘জনযুদ্ধ’ পত্রিকা ও বোম্বে থেকে প্রকাশিত ইংরেজী ভার্সন ‘পিপলস ওয়ার বোম্বে’ পত্রিকার প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দিয়ে সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেন। ১৯২২ সালের পয়লা নবেম্বর লৌহজং উপজেলার হাড়িদিয়া গ্রামে জন্ম নেয়া সফিউদ্দিন আহম্মেদ ১৯৩৫ সালে সাংবাদিকতা শুরু করেন। সর্বশেষ তিনি দৈনিক বাংলায় মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি ছিলেন।

প্রকাশিত : ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

২৮/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: