রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

ভৈরবে পর্যটকের ভিড় ॥ সবুজের কোলাহল

প্রকাশিত : ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • কাজী ইসফাক আহমেদ বাবু ভৈরব থেকে

দুই ধারে সেতু মাঝ খানে নদীর জল, তীরে সবুজের মেলা। নদীর মাঝে অপরূপা বেলাভমি সেই সঙ্গে নদীর ঢেউ মিলে তৈরি হয়েছে দৃষ্টি নন্দন দৃশ্য। নদীর উপর দিয়ে এপার ওপারকে বেঁধেছে দুটি সেতু। জোড়া সেতুর তীরে হাজার হাজার দর্শক পর্যটক ভিড় করে।

ভৈরব বাজার মেঘনা নদীর উপর নির্মিত শহীদ আব্দুল হালিম সেতু ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের) সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু। এ জোড়া সেতুর চারপাশের নৈসর্গিক দৃশ্য দিন দিন দৃষ্টি কাড়ছে দর্শনার্থীদের। বছরের উৎসবের দিনগুলোতে এই তীরে হাজার হাজার মানুষ মিলিত হয়। এছাড়া প্রতিদিন শত শত মানুষের কোলাহলে মুখরিত এলাকাটিতে সরকারী ও ব্যক্তি মালিকানার যৌথ উদ্যোগে গড়ে উঠতে পারে পর্যটন কেন্দ্র। সবুজে ছায়াঘেরা এলাকাটিতে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুললে সরকার যেমন লাভবান হবে, তেমনি চিত্তবিনোদনের জন্য ভাল পরিবেশ পাওয়া যাবে।

ভৈরব মেঘনার তীরে সেতুর মাঝে সবুজ গাছের নিচে প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে প্রেমিক-প্রেমিকা ছুটে আসে নির্জনে কথা বলার অবকাশে। নদীর তীরে বড় বড় পাথর যেন রাজসিংহাসন। সে পাথরের উপর বসে একে অপরের সঙ্গে গল্প করে সময় কাটে দুরন্ত বেগে। কমল ও বিথী এসেছে নরসিংদী থেকে। ভৈরবের এই জোড়া সেতু দেখার অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল তাদের। দেখে মুগ্ন হলো। পূনরায় আসার শপথ নিল এই প্রেমিক যুগল। একই কথা বলল, বি-বাড়িয়া থেকে আসা ফটিক ও তার মেয়ে বন্ধু। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল হওয়ায় প্রতিদিনই আসার ইচ্ছা পোষণ করেন তারা।

নদীর সীমাহীন জলরাশি বুকে নিয়ে উচ্ছল মেঘনার বিরামহীন ছুটে চলা। কৃষ্ণজলের তরঙ্গ সাঁতরে কোন্ দূর গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যান্ত্রিক অযান্ত্রিক নৌযানের যাত্রা। কখনও কখনও নাম না জানা বিশাল প্রজাতির মাছের উঁকি দিয়ে নীলাকাশ দেখা-এইসব দৃশ্য দৃষ্টি কাড়ছে ভৈরবের মেঘনা নদীর তীরে বেড়াতে আসা দর্শনার্থীদের। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মেঘনার চঞ্চল হৃদয় চিরে নির্মিত বাংলাদেশ রেলওয়ের শহীদ আব্দুল হালিম রেলসেতু এবং সড়ক ও জনপথের সড়ক সেতু। দুই সেতুর এপ্রোচ রোডের দু’পাশে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা সারি সারি বৃক্ষরাজি। নানাজাতের দেশী-বিদেশী ফুলের ম ম সুবাস। সৌন্দর্য্য পিপাসুদের প্রতিদিন টেনে আনে এখানে। বছরের উৎসব তো বটেই-সকাল, বিকেল, সন্ধেবেলায় সকল বয়সের নারী-পুরুষ, যুবা-শিশুদের কোলাহলে মুখরিত থাকে এলাকাটি। প্রতিদিনকার বিরামহীন কর্মমুখর জীবনে এতটুকু ক্লান্তি নিরসনে এখানে ছুটে আসে মানুষ।

প্রকাশিত : ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

২৮/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: