আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলাভাষা

প্রকাশিত : ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • রেজা নওফল হায়দার
  • সুমন সাহা

ভাষা মানুষের কাছে ভাব প্রকাশের সব থেকে সহজ মাধ্যম। বর্তমান পৃথিবীতে বাংলাদেশে ষোল কোটি, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, অসম ত্রিপুরা মিলিয়ে নয় থেকে দশ কোটি, পৃথিবী ছড়িয়ে থাকা বাংলা ভাষাভাষীদের সংখ্যাও কমবেশি এক কোটি, সব মিলিয়ে প্রায় পঁচিশ কোটি মানুষের মাতৃভাষা এটি। অসম রাজ্যের বরাক উপত্যকা এবং আন্দামান দ্বীপপুঞ্জেও বাংলা ভাষাতে কথা বলা হয়।

এ বিবেচনায় পৃথিবীতে বাংলা ভাষার অবস্থান চতুর্থ। অন্যদিক থেকে ব্যবহারকারীদের সংখ্যা বিচারে বাংলা ভাষার স্থান ষষ্ঠ। বিশ্বের ভাষা নিয়ে যাঁরা কাজ করেন সেসব সংস্থার পরিসংখ্যান অনুসারে তা-ই। আমাদের নিজস্ব বর্ণমালা রয়েছে। আমাদের ভাষার সাহিত্য নিঃসন্দেহে বিশ্বমানের। বিশাল জনগোষ্ঠী এই ভাষায় কথা বললেও এর ব্যবহারিক দিকের ব্যবহার খুবই নাজুক পর্যায়ে রয়েছে। তার অবশ্য কিছু কারণ আছে। কিন্তু আমরা সেদিকে না যেয়ে বরং কিভাবে নিজেদের এই প্রিয় বাংলাভাষাকে খ্যাতিমান করা যায় সেই প্রায়গিক দিকটার দিকে নজর দেয়া যাক।

বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্র। বাংলা বাংলাদেশের একমাত্র স্বীকৃত রাষ্ট্রভাষা, জাতীয় ভাষা ও সরকারী ভাষা। ভারতীয় সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত ২৩টি সরকারী ভাষার মধ্যে বাংলা অন্যতম। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং ত্রিপুরা রাজ্যের সরকারী ভাষা হলো বাংলা এবং অসম রাজ্যের বরাক উপত্যকার তিন জেলা কাছাড়, করিমগঞ্জ ও হাইলাকান্দিতে স্বীকৃত সরকারী ভাষা হলো বাংলা। বাংলা ভারতের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের অন্যতম প্রধান স্বীকৃত ভাষা।

আন্তর্জাতিক পরিম-লে বাংলাতে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য একমাত্র ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করা ছাড়া কোন উপায় নেই। তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলাভাষাকে অন্তর্ভুক্ত করতে বাংলাদেশ ইউনিকোড কনসাটিয়ামের সদস্য হয়। ৩০ জুন ২০১০ সালে সদস্যপদ লাভ করে বাংলাদেশ। ইউনিকোড পৃথিবীর প্রতিটি ভাষার প্রতিটি অক্ষরের জন্য একটি একক সংখা বা নম্বর বরাদ্দ করে। সেটা যে প্লাটফর্মের হোক না কেন, যে প্রোগ্রামের জন্যই হোক না কেন, আর যে ভাষার জন্য হোক না কেন। ইউনিকোড একটি বিশাল লিপি সঙ্কেতের সমর্থন থাকায় ক্লায়েন্ট সার্ভার বা বহুমুখী এ্যাপ্লিকেশন এবং ওয়েবের গঠনে পুরনো লিপিমালার ব্যবহার না করে ইউনিকোডের ব্যবহার করে খরচ কমিয়ে আনতে পারে।

ইউনিকোড কোন বাড়তি প্রকৌশল ছাড়াই একটি সফটওয়্যার বা ওয়েবসাইটকে বিভিন্ন প্লাটফর্ম, ভাষা এবং দেশে ব্যবহারযোগ্যতা প্রদান করে। এটা ব্যবহারের ফলে ডাটা বিভিন্ন সিস্টেমের মধ্যে দিয়ে আনাগোনা করতে পারে কোন রকম বিকৃতি ছাড়াই।

অপরদিকে কম্পিউটারে বাংলাভাষা নানাভাবে লেখা যায়। কেউ বিজয়, কেউ অভ্র আবার অন্যরা কোন কিবোর্ড লে-আউট ব্যবহার করে বাংলা লিখছেন। কম্পিউটারে আমাদের দেশে আমরা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কিবোর্ড ব্যবহার করছি। তাতে ইউএস ইন্টারন্যাশনাল কিবোর্ড, লে-আউট অনুসরণ করেই ইংরেজী অক্ষরে সাজানো থাকে। আধুনিক কয়েকটি ব্র্যান্ডের কিবোর্ডের লে-আউটের সঙ্গে দ্বৈতভাবে বাংলা বিজয় কিবোর্ডের লে-আউট অনুসরণ করে ইংরেজী অক্ষরের পাশাপাশি বাংলা অক্ষরগুরোকেও তুলে ধরেছেন। ইউএস ইন্টারন্যাশনাল কিবোর্ড লে-আউটের মতো বাংলা লিখার জন্য দেরিতে হলেও বাংলাদেশের ন্যাশনাল কিবোর্ড লে-আউট তৈরি করা হয়েছে। বিভিন্ন সরকারী দফতরে টাইপের জন্য এই কিবোর্ডের ব্যবহার করার নির্দেশনা দিয়েছে সরকার।

বাংলা ভাষায় ইন্টারনেট ডোমেইন ব্যবহার করার রেজিস্ট্রেশন চালুর প্রক্রিয়া চলছে। ওয়েবসাইটের ডোমেইন নেম সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণীমূলক যাবতীয় কাজ করে থাকে ইন্টারন্যাশনাল কর্পোরেশন ফর নেমস এ্যান্ড নাম্বার (আইসিএএনএন)। প্রধানমন্ত্রী এরই মধ্যে তাদের বরাবর চিঠি লিখে পাঠিয়েছেন। ইন্টারন্যাশনাল কর্পোরেশন ফর নেমস এ্যান্ড নাম্বার (আইসিএএনএন) বাংলা ভাষার জন্য স্ট্রিং ইভেলুয়েশন ( বাংলা অক্ষর চিনবার কোড- আইডিএনসিসিএলডি) প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। এখন শুধু ইন্টারনেট এসাইন্ড নাম্বারস অথোরিটি বাংলার জন্য কোডটি অনুমোদন করলেই ইন্টানেটে বাংলা ডোমেইন করা যাবে। ডেলিগেশন সম্পন্ন হলেই বিশ্বেও সব বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি বাংলায় নিজ নিজ ওয়েবসাইটের ডোমেইন নেম রেজিস্ট্রেশন করে ইন্টারনেটে প্রচার করতে পারবে। ইন্টারনেটে বাংলা লেখা নিঃসন্দেহে একটি অহঙ্কারের ও বড় সম্মানের। এরই মধ্যে আমদানি করা মোবাইল ফোনের সেটগুলোতে বাংলা কিবোর্ড থাকতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি বোর্ড । বাংলা কিবোর্ড ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। যার ফলে মোবাইল ফোনে বাংলা ব্যবহারের প্রচলন বাড়বে। শুধু টার্চস্ক্রিন ফোন এই নির্দেশ বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক নয়। অবশ্যই এই ক্ষেত্রে বাংলা কিবোর্ড লে-আউট থাকা আবশ্যক। সারা বিশ্বকে জানার অন্যতম মাধ্যম ইন্টার্নেট। এদিকে আন্তর্জাতকি মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের ওয়েব পজেটিভ তৈরি হয়েছে সম্পূর্ণ বাংলা ভাষায়। তবে বেশ কয়েকটি অসঙ্গতি চোখে পড়ে এখনও। বিশ্ব মাতৃভাষা গবেষণার একমাত্র সাইট তাই এই সাইটে উচিত ছিল কম করে হলেও ইংরেজী ভার্সন চালু রাখা। এতবড় সাইটের কোথাও জায়গা হয়নি সাইট ম্যাকার সেই কানাডীয় দুই বাংলাদশী প্রবাসীর বরং একরকম তাদের উপেক্ষা করেই সরকারের গুণকীর্তনেই পঞ্চমুখ হয়ে রয়েছে সাইটি। এখানে কোথাও ভালভাবে ফুটে ওঠে নাই ১৯৫২ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা, আমাদের ভাষা নিয়ে সংগ্রামের কথা। বেশ কয়েক বছর পার করলেও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট এখনও পর্যন্ত তাদের গবেষণার ক্ষেত্রে ফলাফল শূন্য। মাত্র ৩টি প্রকাশনা প্রকাশ করেই ক্লান্ত হয়ে পড়েছে আন্তর্জাতকি মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট। এখনও আমাদের দেশে সত্যকিার অর্থে অনলাইন তালিকা তৈরি হয়নি ভাষা সৈনিকদের।

প্রকাশিত : ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

২৮/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: