মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

হুতিদের চোখ এবার ইয়েমেনের তেলসমৃদ্ধ প্রদেশের দিকে

প্রকাশিত : ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

ইয়েমেনের রাজধানী সানার পূর্বাঞ্চলীয় তেলসমৃদ্ধ মারিব প্রদেশ দখলের হুমকি দিয়েছে দেশটির শিয়া হুতি বিদ্রোহীরা। এর ফলে সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিতে সর্বাত্মক গৃহযুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। হুতিরা ইয়েমেন সরকারকে গতমাসে ক্ষমতাচ্যুত করে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজধানী সানার নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর এখন দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে তারা। খবর ওয়াশিংটন পোস্টের।

হুতিরা ইতোমধ্যে সহজেই দেশটির উত্তরাঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকা দখল করে নিয়েছে। কিন্তু তারা যদি মারিব প্রদেশের দিকে অগ্রসর হয় তাহলে তারা কঠিন প্রতিরোধের মুখে পড়বে। কারণ, ওই এলাকার বেশিরভাগ সুন্নি উপজাতীরা ট্যাঙ্ক ও রকেটচালিত গ্রেনেডসহ নিজেদের অস্ত্র সজ্জিত করেছে। এছাড়া ওই প্রদেশের গবর্নর সুলতান আল আরাদা এলাকাটি উপজাতীয় যোদ্ধা এবং সামরিক ইউনিট দিয়ে ঘিরে রেখেছে। উপজাতীয় নেতারা একথা জানিয়েছেন। মারিব প্রদেশের মুরাদ উপজাতীয় নেতা মোহাম্মদ আল ইউলস বলেছেন, যদি হুতিরা এখানে আসে তাহলে গৃহযুদ্ধ শুরু হবে। এদিকে হুতিরা বলেছে, তারা মারিবের জনগণকে আরব উপদ্বীপের আল কায়েদার (একিউএপি) হাত থেকে রক্ষা করতে চায়। আল কায়েদা যোদ্ধারা প্রায়ই এই প্রদেশে হামলা চালিয়ে থাকে। তবে কূটনীতিক ও বিশ্লেষকরা বলেছেন, এই সংঘর্ষের ফলে ইয়েমেনের আল কায়েদা শাখা তাদের শক্তি আরও বৃদ্ধি করবে এবং তারা নিজেদের সুন্নিদের রক্ষক হিসেবে তুলে ধরতেও সক্রিয়। একিউএপি যোদ্ধারা ইতোমধ্যেই যুদ্ধের উদ্দেশে ইয়েমেনের বিভিন্ন অংশ থেকে মারিবে জড়ো হচ্ছে। এছাড়া অন্য প্রদেশগুলোতে উপজাতীয় ও সুন্নি যোদ্ধাদের মধ্যে যুদ্ধ বাধতে পারে। শিয়া-সুন্নি উত্তেজনা এই পরিস্থিতিকে অগ্নিগর্ভ করে তুলেছে। দেশটির দুই কোটি ৪০ লাখ জনগণের মধ্যে সুন্নিরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। বেশিরভাগ ইয়েমেনী মনে করে, শিয়া অধ্যুষিত দেশ ইরান হুতি বিদ্রোহীদের মদদ দিচ্ছে। এদিকে ইয়েমেনকে নিজেদের প্রভাবাধীন দেশ হিসেবে দেখে প্রতিবেশী দেশ ও সুন্নি শক্তিকেন্দ্র সৌদি আরব। হুতি কর্মকর্তা ও পশ্চিমা কূটনীতিকরা এখন বলছে, হুতিদের মোকাবেলায় নিজেদের অস্ত্রসজ্জিত করতে মারিব বাসিন্দাদের অর্থ দিচ্ছে সৌদি আরব।

ইয়েমেনের এক রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলী সাইফ হাসান বলেছেন, বাইরের শক্তিগুলোর হস্তক্ষেপের কারণে দেশে শিয়া-সুন্নি সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে উঠছে। গত মাসে হুতিরা সানা দখল করে এবং মার্কিনপন্থী প্রেসিডেন্ট আব্দু রাব্বু মনসুর হাদিকে ক্ষমতাচ্যুত করে। এই বিদ্রোহীরা সম্প্রতি মারিবে যাওয়ার একটি সামরিক ঘাঁটি এবং প্রদেশটির দক্ষিণের কিছু অংশ দখল করে নিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে যে, তারা শীঘ্রই এই গুরুত্বপূর্ণ তেল উৎপাদনকারী প্রদেশটির দিকে অগ্রসর হবে। মারিব কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশ। ইয়েমেন তার প্রতিবেশীদের তুলনায় ছোট তেল উৎপাদনকারী দেশ। তবে দেশটির জাতীয় বাজেটের সিংহভাগ আসে তেল বিক্রি থেকে। এছাড়া প্রদেশটিতে প্রধান বিদ্যুতকেন্দ্র রয়েছে; যেখান থেকে রাজধানী সানা ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলে বিদ্যুত সরবরাহ করা হয়।

প্রকাশিত : ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

২৮/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

বিদেশের খবর



ব্রেকিং নিউজ: