মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

কবিতা

প্রকাশিত : ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

আত্ম দার্শনিক

বদরুল হায়দার

আমি ফুল কিংবা প্রিয়ার মুখ দেখে

তোমাকে ভালোবাসিনি।

জোয়ার সাহারা বুকে তোমার উত্তরা

হাওয়ার দখলে নকলে মূল্যবোধে

বিবিধ কবির মনে সময়ের শত অভিধান।

স্বপ্ন হারানোর ভয়ে প্রতিরাতে

ঘর বিড়ালের মনের ইঁদুরে আমি

বেঁধে রাখি রাত ঘুম।

প্রভাতের অধিবেশনে তোমার

বৃক্ষমায়া জুড়ে ক্রমাগত অতিথিরা বুনে

পাইকারি ও কুচরা বুনিয়াদি।

আঁধারেরা বাড়তে থাকলে প্রহরী বাঁশির সুরে

দূর অশেষের গতিপথ ধরে

বেসুরে অচেনা দিন বলী হয় আপোস নগরে।

হৃদয়ের দুঃখগুলিকে আত্মা থেকে

খুলে নিলে বাসনার হৃদভূমি জ্বেলে দিলে

জোনাকীরা কান্নাভুলে হয় স্বপ্নতারা।

আকাশের বাসরে আসন পেতে ছিলে বলে

মনে বাসনাগুলি প্রতিবেশী চোখে

অধিক স্বীকৃতি মুচে উড়াল বাতাসে রেখা টানে।

ফাল্গুন-সনেট ১৪২১

মারুফ রায়হান

উদ্ভট শহর হলো শেষমেশ আমার ঠিকানা!

এখন নতুন করে হাঁটতে শিখছিÑ যেন শিশু

ভুলে যাচ্ছি মাতৃভাষা, কবিগণ বোবা, ভাব-কানা;

ভ-, শয়তান আর হঠকারী বরেণ্যবরেষু

এখানে গোলাপবনে খুনিদের গোপন আস্তানা

শ্বাসরোধী বাতাসে অদৃশ্য ফণা ছোবলে উন্মুখ

বন্ধুতার রক্তমাখা করতল পরেছে দস্তানা

পেট্রোল বোমায় দগ্ধ দেবদূত সুন্দরের মুখ!

বাজলো নিরোর বাঁশিÑ নিজ কক্ষে শুধু আমি ধ্বস্ত

আমার সকাল দীর্ণ, চেয়ে দেখি বাকিরা অভ্যস্ত

বসন্ত-বসনে রানী বসে আছে প্রেম-ভিখারিনী.

ভস্মস্তূপ হতে ডানা মেলবে কি অঙ্গার-হরিণী

পোড়া পাপড়ির গন্ধে নির্বিকার ফিরেছে ফাল্গুন

কোথায় খুঁজবো বলো অলৌকিক আশ্চর্য আগুন?

দগ্ধপুর ২০১৫

মুস্তাফিজ শফি

ওয়াইনের গ্লাসে আজ তুমি মেয়েটির

রক্ত পান করো মহীয়সী,

আজ তুমি কাঁটারে-কাঁটাচামচে

থালায় তুলে নাও ছেলেটির

মাংস পোড়ানো কাবাব।

আজ তুমি জিহ্বায় চেখে দেখো

মেয়েটির মগজে বানানো ভর্তা

আজ তুমি রেপিং পেপারে মোড়ানো

রুটি ভেবে শিশুটির দলা পাকানো

শরীর তুলে নাও মুখে,

আজ তুমি নৃত্য করো নৃত্য করো

আদিম মুদ্রায়।

আজ তুমি মহীয়সী, পরিপাটি বসো সিংহাসনেÑ

আজ তুমি শিশুটির মায়ের চোখের জলে

ভর্তি করো স্যুপের বাটি,

আজ তুমি ফ্রাইপ্যানে ভাজো

পেট্রোলবোমায় পোড়া মেয়েটির

প্রেমিকের আর্তনাদ।

আজ তুমি গ্রাস করো হাজার ঘুড়ি স্ট্রুপ

আজ তুমি ছেলেটির বাবার হাহাকারে

আস্ত গিলে খাও গণতন্ত্র, মানবিক মূল্যবোধ।

আজ তুমি সরিয়ে নাও সভ্যতার সিঁড়ি,

আজ তুমি গহীন অতলে নিমজ্জিত হও.

নিমজ্জিত হও মহীয়সী।

মাগো! তোমার কাছে যাবো

হামিদা খানম

মা! তুমি কোথায়?

আমি তোমার কাছে যাবো,

তুমি আমাকে নিয়ে যাও মা,

আমার সারা শরীর যে জ্বলছে,

চোখ মুখ হাত পা

বুকের মাংসটাও পুড়ে গেছে,

দগ দগে ঘায়ের মতো।

পোড়া শরীর থেকে গন্ধ বেরুচ্ছে,

সেই পোড়াগন্ধে আমার শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে মা,

মা! তুমি কোথায়?

আমি যে আর আগুনে দগ্ধ শরীরের যন্ত্রণা

সইতে পারছি না মা!

হাতে পায়ের চামড়া উঠে গেছে

শরীরের পুরোটা ব্যান্ডিজে বাঁধা।

অক্সিজেনের পাইপটা আমার নাকের ভেতরে,

তবুও আমি কেন শ্বাস নিতে পারছি না মা!

তুমি কোথায়! আমি যে তোমার কাছে যাবো।

মা! তুমি কোথায়!

আমার ব্যান্ডেস বাঁধা শরীরটা

ডাক্তার বাবুরা হাসপাতালের সিটে বেঁধে রেখেছে।

সিস্টার দিদিরা আস্তে করে ইনজেকশন দেয়,

ঔষধ খাওয়ায়, মুখে খাবার তুলে দেয়,

কিন্তু, আমি যে খাবার খেতে পারি না মা, গলা জ্বলে পুড়ে যায়।

সিস্টার দিদিরা আমায় লক্ষ্মী সোনামণি বলে আদর করে,

আমি কাঁদতে থাকি, কাঁদতে কাঁদতে চোখের জল শুকিয়ে যায়।

মাগো! তুমি বলতে পারো কী?

অই সব দুষ্টু ছেলেরা আর কতদিন

পেট্রোলবোমা আর ককটেল মেরে আমাদের পুড়িয়ে মারবে?

আর কতদিন জ্বলন্ত আগুনে পুড়ে,

মৃত্যুর সাথে লড়বো?

ওদের ঘরে কী মা, বাবা, ভাই, বোন আর

আমার মতো কোনো ছোট্ট সোনামণি বোন নেই?

ওরা কবে এই নির্মম নিষ্ঠুর আগুন নিয়ে খেলা বন্ধ করবে?

কবে ওরা দানব থেকে মানবে পরিণত হবে মা!

মা! তুমি কোথায়Ñ

আমার যে ভীষণ কষ্ট হচ্ছে,

শরীরের পুড়ে যাওয়া মাংসগুলোতে টান পড়ছে

আমর দম বন্ধ হয়ে আসছে,

আমি আর শ্বাস নিতে পারছি না মা...

তুমি কোথায় মা! আমি যে তোমার কাছে যাবো,

আমাকে মায়ের কাছে নিয়ে চলো।

অতঃপর,

আমাদেরই সাধারণ ঘরের আটপৌঢ়ে এক ‘মা’

শিশুটির নিথর দেহটা কোলে নিয়ে,

আঁচলের নরম কাপড় দিয়ে ঢেকে রেখেছে,

নির্বাক, নিঃশ্চুপ তার মুখঅবয়ব।

অবনত চোখ দিয়ে অনবরত জলের ধারা বয়ে চলেছে,

এ সমাজের নষ্ট রাজনীতির আজ তাঁর আর কোন প্রশ্ন নেই।

প্রকাশিত : ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

২৭/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: