কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

শাহরিয়ার কবিরের দু’টি বই

প্রকাশিত : ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হয়েছে প্রাবন্ধিক-গবেষক-সাংবাদিক শাহরিয়ার কবিরের ধর্মনিরপেক্ষতা ও সাম্প্রদায়িকতা বিষয়ক দুটি উল্লেখযোগ্য বই। এর মধ্যে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা বনাম ধর্মের নামে সন্ত্রাস’ বইটি প্রকাশ করেছে অনন্যা, আর ‘সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে’ বইটি প্রকাশিত হয়েছে চারুলিপি প্রকাশন থেকে। ধর্মের নামে সন্ত্রাসের অভিঘাত যেভাবে বাংলাদেশে পড়েছে, যেভাবে বাংলাদেশকে আল কায়েদা ও আইএসের আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী বলয়ের অংশে পরিণত করার ষড়যন্ত্র চলছে সেসব বিষয়ে গত এক বছরে শাহরিয়ার কবির যা লিখেছেন তার ভেতরে কয়েকটি প্রবন্ধ লেখকের ‘ধর্মনিরপেক্ষতা বনাম ধর্মের নামে সন্ত্রাস’ বইটিতে সঙ্কলিত হয়েছে। বিএনপি-জামায়াতের চলমান সন্ত্রাস এবং বাংলাদেশে আইএসআইয়ের তৎপরতা, ঢাকা থেকে প্যারিসে জঙ্গী মৌলবাদী সন্ত্রাস ও প্রতিরোধে নতুন মাত্রা, ডেটলাইন ২৪ জানুয়ারি : কয়েকটি মৃত্যু, শোক, শিষ্টাচার এবং আজকের বাংলাদেশ, বিএনপির সীমাহীন মিথ্যাচার ও দেশদ্রোহিতা, খালেদা জিয়ার জামায়াতপ্রেম এবং জামায়াতের মমতাপ্রেম, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গে জামায়াত ও জঙ্গীদের সন্ত্রাসী তৎপরতা এবং দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ায় আল কায়েদার নেটওয়ার্ক : সরকার ও নাগরিক সমাজের করণীয়, জামায়াতের ভারত কানেকশন এবং এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তা, ২১ আগস্ট ট্র্যাজেডির এক দশক : ষড়যন্ত্র অব্যাহত, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং জামায়াত নিষিদ্ধকরণের আন্দোলনে প্রতিবন্ধকতা, বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও জামায়াতে ইসলামী ইত্যাদি শিরোনামের লেখাগুলো উঠে এসেছে বিভিন্ন সময়ে বিএনপি-জামায়াত কীভাবে ধর্মকে অপব্যবহার করেছেন, রাজনীতিকে করেছেন কলুষিত।

দক্ষিণ এশিয়ার ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার চূড়ান্ত অভিব্যক্তি ছিল ১৯৪৭-এর দেশভাগ। ঔপনিবেশিক ইংরেজ শাসকরা ভারতবর্ষ থেকে বিদায় নেয়ার আগে মুসলিম লীগের প্রধান নেতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ধর্মীয় দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ধর্মভিত্তিক কৃত্রিম রাষ্ট্র পাকিস্তানের জন্ম দিয়েছিল। সাম্প্রদায়িকতার বোধ শক্তিশালী করার জন্য সূচনাকাল থেকেই পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতারা রাজনৈতিক ইসলামকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন, যে কারণে জন্মের দুই যুগ না পেরোতেই দেশটি বিভক্ত হয়েছে। ১৯৭১-এ রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের ভেতর দিয়ে পাকিস্তান ভেঙ্গে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটেছে একটি ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে, ’৭১-এর পরাজয়ের প্রতিশোধ গ্রহণ এবং বাংলাদেশকে পাকিস্তানের মতো সন্ত্রাসী মুসলিম রাষ্ট্র বানাবার জন্য পাকিস্তান তাদের এদেশীয় এজেন্টদের দ্বারা স্বাধীন বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী তাঁর সহযোগীদের নির্মমভাবে হত্যা করে। বিগত কয়েক বছর ধরে ঢাকা ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন পত্রিকায় বাংলাদেশে মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী নানা প্রবন্ধ-নিবন্ধ লিখেছেন লেখক। বইটিতে সেসব লেখা থেকে নির্বাচিত কয়েকটি প্রবন্ধগ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ধর্ম : বাংলাদেশ এখন, আমাদের ভাষা আন্দোলন : সাম্প্রদায়িক দ্বিজাতিতত্ত্বের মৃত্যুবার্তা, বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতার চালচিত্র ও গণমাধ্যম, শীর্ষস্থানীয়দের বিচার শেষ এখন চাই জামায়াত ও পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, নিজামীর মৃত্যুদ- : দ- কার্যকর যেন দীর্ঘ না হয়, গাজার গণহত্যা, উদাসীন মুসলিম বিশ্ব এবং একজন সঞ্জয় মিত্র, আটকেপড়া পাকিস্তানি এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বহুমাত্রিক সংকট, মুসলিম বিশ্বে আত্মপরিচয়ের সংকট, সংখ্যালঘুর অধিকারই মানবাধিকার ও মানবধর্ম, দেশে-বিদেশে জামায়াতের বহুমাত্রিক ষড়যন্ত্র শিরোনামের লেখাগুলোতে উল্লিখিত বিষয়গুলোই ফুটে উঠেছে। এসব লেখার মধ্য দিয়ে লেখকের পর্যবেক্ষণ ও প্রস্তাব ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে সহায়ক হবে আশা করা যায়।

গদ্য আচার্য

প্রকাশিত : ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

২৭/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: