হালকা কুয়াশা, তাপমাত্রা ১৮.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বই মেলা ॥ শেষ দুই দিনে শুধু বই কিনুন

প্রকাশিত : ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • মারুফ রায়হান

সময় বাড়ানো না হলে কাল শনিবার বইমেলার প্রবেশদ্বার ১১ মাসের জন্য বন্ধ হওয়ার কথা। প্রকাশকদের পক্ষ থেকে এবারও মেলার সময়সীমা বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। অবরোধ-হরতালের কারণে ব্যবসা তো তেমন ভাল হয়নি। অবরোধ না উঠে গেলে সময় বাড়িয়ে কোন লাভ হবে বলে মনে হয় না। তাছাড়া বাংলা একাডেমির নজিরও নেই সময় বাড়ানোর, ব্যতিক্রম শুধু একবার। তৎকালীন এক মন্ত্রীর বই বেরিয়েছিল সেবার (এখনও অবশ্য তিনি মন্ত্রী), তাঁরই হস্তক্ষেপে মেলা ৭দিন বাড়ানো হয়। বইমেলা চলাকালীন এ ধারাবাহিক লেখার শেষ রচনা এটি, তাই প্রয়োজনীয় কথাগুলো এবারই বলে ফেলতে হবে। কর্তৃপক্ষ বিবেচনায় নিক বা না নিক সাজেশনগুলো দিয়ে রাখতে হবে। প্রথমত, মেলা দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেলেও আসল মেলাটি যে সোহরাওয়ার্দি উদ্যানেই হচ্ছে সেটা যথাযথভাবে প্রচারের ব্যবস্থা নিতে হবে, মেলার এই অংশের প্রতি বিমাতাসুলভ দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আনতে হবে। প্রধান সড়ক থেকে উদ্যানে ঢুকে কিছুটা পথ পেরিয়ে বইমেলার প্রবেশদ্বারের পথটুকু সুগম, আকর্ষণীয় ও মেলাবান্ধব করে তুলতে হবে। বইমেলার স্টলবিন্যাস পরিকল্পনার জন্য চিত্রশিল্পী ও স্থপতিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করতে হবে। সেই কমিটিতে দেশবরেণ্য লেখক বুদ্ধিজীবী থাকতে পারেন। সচিব/ অতিরিক্ত সচিবের পরিবর্তে স্বয়ং সংস্কৃতি মন্ত্রীই থাকুন না। এই মেলার সঙ্গে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার বিষয়, আন্তর্জাতিক পরিম-লে দেশের মননশীলতার ভাবমূর্তি এবং লেখক-প্রকাশকদের অর্থ ও সম্মান জড়িত। তাই কোন ছেলেখেলা নয়, বিন্দুমাত্র উপেক্ষা নয়। বাংলা একাডেমি যদি এই মেলাটিকে সুষ্ঠু সর্বাঙ্গীন সুন্দর করে তোলার কাজটি যোগ্যতার সঙ্গে করতে না পারে, তাদের যদি আন্তরিকতার অভাব থেকে থাকে বলে প্রতীয়মান হয়, তাহলে অচিরে আয়োজক পরিবর্তন বিষয়ে নতুন প্রস্তাবনা উঠলেও উঠতে পারে। সচেতন মেলাপ্রেমীরা শিল্পী-লেখক-প্রকাশক-সংস্কৃতিকর্মীদের সমন্বয়ে জাতীয়ভিত্তিক মেলা পরিচালনা কমিটি করে বইমেলার আয়োজন করার দাবি তুললে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

বইমেলায় বই কিনতে আসা পাঠকের জন্য কী সুবিধা বজায় ছিল এবার? একটি মাত্র ক্যান্টিন ছিল একাডেমি প্রাঙ্গণে, সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে নয়। পাঠক বিশাল মেলার মাঠ ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হবেন, তৃষ্ণার্ত ও ক্ষুধার্ত হবেন। তার প্রয়োজন মেটানোর ব্যবস্থা রাখা চাই। উদ্যানের মেলার নান্দনিক দিকটি কেবল উপেক্ষিতই হয়নি, রুচিহীনতা উৎকট হয়ে উঠেছে। বাঁশের সরু পথ দিয়ে প্রবেশের সময়েই রুচিবান মানুষের মনে ধাক্কা লাগবে। প্রবেশের পর ডানে-বাঁয়ে তাকালেই উভয় দিকে বিশাল ব্যানার চোখে পড়বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কন্ট্রোল রুমের। ১০টি প্যাভিলিয়নের বেশির ভাগই হয়ে উঠেছে তিন দিক খোলা বড় দোকান। এতে প্রকাশকদের রুচির দৈন্যও ফুটে উঠেছে। প্রথম বছর না হয় প্রথম ছিল ব্যাপারটা। এ বছরও কেন সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে সুন্দর, পাঠকবান্ধব, আকর্ষণীয় বইমেলা করা গেল নাÑ এ প্রশ্নের উত্তর আমরা কার কাছ থেকে পাব?

নিরাপত্তা প্রসঙ্গ

বইমেলার নিরাপত্তার বস্তুনিষ্ঠ ছবি উঠে এসেছে লিটল ম্যাগাজিন চত্বরের একটি স্টলের এক কর্মীর (যিনি একজন কবিও) ফেসবুকে প্রদত্ত বক্তব্যে। তিনি লিখেছেন : নিজেকে এত বিবশ কখনও লাগেনি, গত চৌদ্দ তারিখে এই বইমেলাতেই হারিয়েছি নিজের মূল্যবান দীর্ঘদিনের স্মৃতিময় ক্যামেরাটি। দায়িত্বরত পুলিশকে জানিয়েছি, জিডি করেছি কোন লাভ হয়নি। এসব ক্ষেত্রে হয়ও না, গতকাল আমাদের স্টল থেকেই আমাদের উপস্থিতিতেই কোন একটি অসতর্ক মুহূর্তে আমার বন্ধুর লক্ষাধিক টাকার দুটি মোবাইলসহ ব্যাগ উধাও। সাথে সাথে ছুটলাম মেলার পুলিশ কন্ট্রোল রুমে, সব শুনে ওদের চেহারা যা দাঁড়ালো তা আমার আর আমার বন্ধুর চেয়ে করুণ। একজন পুলিশের এস আই বললেন, আপা কি বলব, এই মেলাতেই আমার নিজের দুটি মোবাইল নিয়ে গেছে। বললাম, তথ্য কেন্দ্র থেকে বার বার ঘোষণা দেয়া হচ্ছে পুরো বইমেলা সিসি ক্যামেরা এবং সাদা পোশাকের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন গিজগিজ করছে, আমরা নিশ্চিন্তে মেলায় বিচরণ করতে পারি তার কি হবে? তখন তারা আমাদের নিয়ে চললেন তাদের সিসি ক্যামেরা মনিটরিং রুমে, সেখানে গিয়ে দেখলাম কোন কাজের জায়গাতেই সিসি ক্যামেরা নেই। লিটলম্যাগ চত্বরে যে বৃক্ষটিকে ঘিরে বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য কিছু কাজ করেছেন ঐ জায়গাটির দিকেই মুখ করা একটি সিসি ক্যামেরা লাগানো আছে, কোন স্টলে কিছু ঘটে গেলে সেটা সিসি ক্যামেরা কাভার করতে পারবে না। পারেওনি।

প্রাজ্ঞ প্রকাশকের অভিমত

দেশের বনেদি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান সুবর্ণ-এর বর্ষীয়ান প্রকাশক আহমেদ মাহফুজুল হক এবারের বইমেলা সম্পর্কে তাঁর অভিমত তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, এবার বইমেলা অন্যরূপ পেয়েছে বৃহৎ পরিসরে আয়োজনের জন্য। সরকারের সবরকম লজিস্টিক সাপোর্টে বইমেলার ব্যাপ্তি ক্রমশ কাক্সিক্ষত পরিণতির দিকে এগুচ্ছে। কিন্তু একটা খটকা থেকে গেল। বাংলা একাডেমি চত্বর ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মেলার স্থান নির্ধারিত হওয়াতে পাঠক ও দর্শনার্থী মাত্রই বিভ্রান্তিতে পড়েছেন। মেলা আয়োজনে দুই প্রান্ত না থাকাই ভাল। অন্যদিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নতুন সংযোজন হয়েছে প্যাভিলিয়ন। পাঠক ক্রেতাকে প্যাভিলিয়ন যথেষ্ট আকর্ষণ করেছে নিঃসন্দেহে। কিন্তু স্টলগুলো কেমন যেন অবহেলিত থেকেছে অপরিকল্পিত ও অসামঞ্জস্য বিন্যাসের কারণে। বিশেষ করে উদ্যানের উত্তর-পূর্ব দিকের শতাধিক স্টল পড়েছে মহাবিপাকে। কারণ দর্শক ক্রেতা খুবই কম সংখ্যক সেখানে যেতে চেয়েছেন ও পেরেছেন। ফলে স্টল মালিকরা কাম প্রকাশকরা তাদের লগ্নিকৃত অর্থ ফেরত তো পাবেই না, যথেষ্ট ক্ষতি স্বীকার করে নিতে হবে নীরবে নিভৃতে।

এবার আসা যাক বইয়ের প্রসঙ্গে। বাংলা একাডেমি থেকে জানা গেল এবার তিন সহস্রাধিক বই প্রকাশিত হয়েছে। একথা স্বীকার করে নেয়া ভাল প্রকাশকরা ও লেখকরা বিষয় বৈচিত্র্যের দিকে ঝুঁকেছেন। এখানেও কিন্তু রয়েছে- বইগুলো প্রযুক্তির কল্যাণে, প্রচ্ছদ শিল্পীদের পরিশ্রমে বাইরের অংশটি দৃষ্টিনন্দন ও উজ্জ¦ল হয়ে উঠেছে। তাতে কি? বইয়ের ভেতরের অংশ এতকাঁচা লেখা যে পড়তে গেলে হোঁচট খেতে হয়। আরও আছে কাটিং ও পেস্টিং-এর বই। ভুলে ভরা, শ্রীহীন ও অনাকর্ষণীয় বই, এর উপর বিষফোঁড়া হয়ে আছে পাইরেট বইয়ে মেলা সয়লাব। তাই অনেকেই বলেন, বইমেলা থেকে ৩০-৫০টি উল্লেখযোগ্য বইয়ের নাম বলতে খুবই কষ্ট হয়। কথাটা একদম সত্যি। তাহলে এত এত বই বের করে প্রকাশকরা কিভাবে লাভবান হচ্ছেন? বইমেলা শেষে প্রকাশিত বইয়ের অবিক্রীত বইগুলো লোকচক্ষুর অন্তরালে হারিয়ে যায়। এতে কি অর্থ ও পরিশ্রমের অগাধ ভরাডুবি হলো না। অন্যদিকে বইয়ের নাম নির্বাচনে বিশেষ করে উপন্যাসে অনেক লেখক ও প্রকাশককে দেখেছি বাংলা সিনেমার মতো নাম নির্বাচনে রুচিহীনতার পরিচয় দিতে।

এবার প্রচারণার দিকটি নিয়ে বলে নেয়া যাক। বেশ কিছু প্রিণ্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া গোষ্ঠীগত স্বার্থ রক্ষা করেছে প্রতিদিন তাদের দায়সারা গোছের প্রতিবেদন প্রকাশ করে। কিছু মানসম্মত ও উল্লেখযোগ্য বইয়ের খবর প্রচারে কেমন যেন অনীহা দেখা গেছে। ফলে ভাল বইয়ের প্রসারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

তবু জয়তু বইমেলা।

সংগ্রহযোগ্য দশটি গ্রন্থ

পাঠকদের বই নির্বাচনে সহায়তার উদ্দেশ্যে এখানে বিচিত্র স্বাদের দশটি সংগ্রহযোগ্য নতুন বইয়ের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরা হলোÑ

কালের সাক্ষী : সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী (প্রকাশক : বেঙ্গল পাবলিকেশন্স লিমিটেড)। সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ষাট বছরের সাহিত্যচর্চা ও সাধনার মধ্য দিয়ে হয়ে উঠেছেন দেশের অগ্রণী ব্যক্তিত্ব। তাঁর প্রবন্ধ মননের ঔজ্জ্বল্যে, বিশ্লেষণের স্বাতন্ত্র্যে, বক্তব্যের স্পষ্টতায় অনন্য। প্রকৃতই কালের সাক্ষী হয়ে উঠেছেন এই সমাজ-চিন্তাবিদ। তাঁর অবলোকন ও মূল্যায়ন অত্যন্ত মূল্যবান। গ্রন্থপাঠে পাঠক তার প্রমাণ পাবেন।

সংস্কৃতির যত শত্রু : ফজলুল আলম (প্রকাশক : কথাপ্রকাশ)। এই বইটি অ্যান্টি-কালচারালিজম বা সংস্কৃতিতত্ত্ব-বিরোধিতার ওপর বাংলায় প্রথম প্রকাশনা। সংস্কৃতির শত্রু আছে, এই কথাটিই অনেকের কাছে অপ্রত্যাশিত, তার ওপরে এই বইয়ের শিরোনাম একজন শত্রুর নয়, অনেক শত্রুর আভাস দিচ্ছে। ‘সংস্কৃতি’র ওপর আক্রমণ করার প্রসঙ্গ উঠছে। কোন কিছু আক্রান্ত হলে সেটার জৌলুস কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই আক্রমণের ফলে সংস্কৃতির উচ্চ অবস্থান কি আর রইবে?

মানবতাবিরোধী অপরাধ : বিচার ও রাজনীতি : মুনতাসীর মামুন (প্রকাশক : সুবর্ণ)। মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের রাজনীতির সূচনা পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের পর। বইয়ের শত রচনায় দেশের মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সক্রিয়তা, দীর্ঘ প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে সেই অপরাধের বিচার শুরু করা ছাড়াও পূর্বাপর প্রাসঙ্গিক বিষয় আলোচিত হয়েছে।

শেখ মুজিব আমার পিতা : শেখ হাসিনা (প্রকাশক : আগামী প্রকাশনী)। বঙ্গবন্ধুর জীবন ও তাঁর পরিবারের নানা অজানা কথা উঠে এসেছে বঙ্গবন্ধুকন্যার স্মৃতিচারণে। ইতিহাস বিকৃতির ধারাবাহিক অপচেষ্টার মধ্যে এ বইটি নতুন প্রজন্মকে সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেবে। সহজ সরল ভঙ্গিতে উচ্চারিত হৃদয়স্পর্শী বয়ান পাঠককে ইতিহাসলগ্ন হতে প্রেরণা দেয়।

ইলিয়াড : হোমারÑভূমিকা, অনুবাদ, পাঠ-পর্যালোচনা : মাসরুর আরেফিন (প্রকাশক : পাঠক সমাবেশ) ‘ইলিয়াড’Ñ বিশ্বসাহিত্যের প্রথম ক্ল্যাসিক, প্রথম ট্রাজেডি। হোমারের এই ইলিয়াডের হাত ধরেই শুরু পশ্চিমা সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সভ্যতার পথচলাÑ আজ থেকে তিন হাজার বছর আগে। প্রথমবারের মতো ট্রয়ের যুদ্ধকেন্দ্রিক এ মহাকাব্যÑ হেলেন, হেক্টর, প্যারিস ও একিলিসের এই অমর গাথাÑ বাংলায় অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও আক্ষরিক অনুবাদে। বাংলাদেশের অনুবাদসাহিত্যে এক অসামান্য কালজয়ী সংযোজন।

চীনের শ্রেষ্ঠ গল্প : অনুবাদ : ফজল হাসান (প্রকাশক : ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ)। চীনের আধুনিক সমকালীন গল্প নিয়ে বাংলা ভাষায় অনূদিত একমাত্র সংকলন। রয়েছে কুড়িজন চৈনিক সাহিত্যিকের মোট বিশটি কালোত্তীর্ণ ছোটগল্প। লেখক তালিকায় রয়েছেন দুজন নোবেল বিজয়ীÑ জাও জিঙ্গিয়ান এবং মো ইয়ান। সংগ্রহযোগ্য বইটির অনুবাদক যথেষ্ট শ্রম দিয়েছেন অনুবাদকর্মে।

হাসান আজিজুল হকের প্রথম উপন্যাস শামুক (প্রকাশক : কথাপ্রকাশ)। আঠারো বছর বয়সে লেখা এ উপন্যাসটি সম্পর্কে পাঠকদের কৌতূহল থাকা খুবই সংগত। এটি রচনার ইতিহাস স্বয়ং লেখক জানাচ্ছেন উপন্যাসের ভূমিকায়। জানতে পারছি মূলত মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্মৃতি পুরস্কার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের অভিপ্রায়েই এটির সৃষ্টি-প্রক্রিয়ার সূচনা। নির্বাচিত ১০০ উপন্যাসের চূড়ান্ত বাছাইয়ে সেরা সাতটির ভেতর ছিল ‘শামুক’।

তোমার গন্ধে ফুল ফুটেছে : আল মাহমুদ (প্রকাশক : বই কারিগর)। শরীর-মনের বৈরিতা ছাপিয়ে এখনও কবিতায় পরিপূর্ণভাবে নিমজ্জিত সোনালি কাবিনের কবি। এখনও তাঁর স্পন্দিত শব্দের চরণে নূপুর পায়ে হেঁটে চলে ছন্দ; প্রেমের সাম্পান ভাসিয়ে দেয় বিরহী ভাবুক। এখনও কবির প্রেয়সী কবিতা ও দয়িতা-নারীর সৌগন্ধে প্রাণ পায় প্রকৃতি, ফুটে ওঠে ফুল, হেসে ওঠে তারকাম-ল।

মাকাল লতা : হরিশংকর জলদাস (প্রকাশক : মাওলা ব্রাদার্স) সমাজের প্রান্তজনদের বঞ্চিত লাঞ্ছিত সংগ্রামী ও বর্ণহীন জীবনের আন্তরিক পরিচয় উঠে আসে এই লেখকের গল্প-উপন্যাসে। মাকাল লতার গল্পগুলোও তার ব্যতিক্রম নয়।

অন্নপূর্ণায় : শাকুর মজিদ (প্রকাশক : উৎস প্রকাশন) চলতি সময়ের পাঠকপ্রিয় ভ্রমণলেখক শাকুর মজিদ বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। পাঠক সেসবের স্বাদ ও ঘ্রাণ ঠিকই পেয়ে যান তাঁর লেখা পড়তে পড়তে। নেপাল ভ্রমণ নিয়ে লেখা বইটি পাঠকের ভ্রমণতৃষ্ণা বাড়াবে।

২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

marufraihan71@gmail.com

প্রকাশিত : ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

২৭/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: