আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

এখনও ক্রিশ্চিয়ান ডিওর

প্রকাশিত : ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

মানুষ তার চলার পথে নিত্যনতুন ফ্যাশনের সৃষ্টি করে আসছে বহুকাল ধরে। ঠিক কবে থেকে ফ্যাশন সচেতন হয়ে উঠেছে মানুষ, তার সঠিক ইতিহাস জানা না গেলেও বর্তমানে ফ্যাশন মানুষের মধ্যে বড় একটা জায়গা দখল করে আছে। ড্রেস, জুতো, অলঙ্কার ইত্যাদি এখন ফ্যাশনের আওতাভুক্ত। মজার বিষয় হচ্ছে, মাথার হ্যাট নিয়েও রীতিমতো চলছে ফ্যাশন শোর আয়োজন। সম্প্রতি প্যারিসে বিখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার ক্রিশিয়ান ডিওর ডিজাইনকৃত বিভিন্ন হ্যাট ও সামার পোশাক নিয়ে আয়োজন করা হয়েছিল বিশাল এক ফ্যাশন শোর। ক্রিশিয়ান ডিওরের জন্ম ফ্রান্সের নরম্যান ডে শহরে ১৯০৫ সালে। ছোটবেলা থেকেই খুব উৎসুক প্রকৃতির ছেলে ছিল বলে তার বাবা-মা চাইতেন ছেলে যেন পলিটিক্যাল সায়েন্স নিয়ে লেখাপড়া করে এবং সক্রিয়ভাবে পলিটিক্সের সঙ্গে যুক্ত হয়। সে মোতাবেক স্কুল জীবন শেষে তাকে পলিটিক্যাল সায়েন্স পড়তে উদ্বুদ্ধ করেন তার বাবা-মা। ১৯২০ থেকে ১৯২৫ সাল পর্যন্ত ডিওর এ বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করে। কিন্তু ঐ বিষয়ে আরও পড়তে তার মন সায় দিচ্ছিল না। তার সব সময় ইচ্ছা ছিল, শিল্প-সংস্কৃতির সঙ্গে নিজেকে জড়ানো। এ সময় তিনি পেন্সিলে আঁকা স্কেচে সিদ্ধহস্ত হন। তার স্কেচ করা ডিজাইন সবাকে মুগ্ধ করে। বন্ধুদের উৎসাহে স্কেচ করা ডিজাইনের বাস্তব রূপ প্রদান করার জন্য তিনি মরিয়া হয়ে ওঠেন। ১৯৩৮ সালে হ্যাট কাউটার হাউস নামক প্রতিষ্ঠানে স্কেচ ডিজাইনার হিসেবে চাকরি শুরু করেন। এ সময় তিনি বিভিন্ন রকম হ্যাটের ডিজাইন করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন। মাথায় পরার হ্যাটেও যে একজন মানুষকে সুন্দর বা স্মার্ট করে তুলতে পারে তা আগে কেউ ভেবে দেখেনি। ইস্টার্ন-ওয়েস্টার্ন হ্যাটের নানা রকম প্যাটার্ন স্কেচ করে খুব অল্প সময়ের মধ্যে তিনি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হন। ১৯৪৬ সালে মার্শেল বাউস্যাকের সঙ্গে ডিজাইনার হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হন। বাউস্যাক হ্যাট ডিজাইন এবং প্যাটার্নের কারণে ডিওরের কাজ খুব পছন্দ করতেন। তাছাড়া কোন হ্যাটে কি ধরনের ফেব্রিক্স ব্যবহার হবে তা অত্যন্ত সুচারুভাবে ম্যাচ করিয়ে দিতে পারতেন ডিওর। এ কারণে হ্যাট ডিজাইনে বেশ সুখ্যাতি অর্জন করেন ডিওর। এরই ফাঁকে নারী এবং পুরুষের ড্রেস ডিজাইনেও বেশ দক্ষতা অর্জন করেন। নিউ লুক নামে একটি প্রতিষ্ঠা করেন ১৯৪৯ সালে। এই হাউজটি দিতে বাউস্যাক অবশ্য দারুণভাবে হেলপ করে ডিওরকে। নিউ লুক ফ্যাশন হাউজটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্যারিসে স্টাবলিশ করেন ডিওর। সে সময় নিউ লুক ফ্যাশন আইকন হিসেবে সবার নজর কাড়ে। ১৯৫৩ সালে তিনি সেইন্ট লরেন নামে একজনকে এ্যাসিস্ট্যান্ট নিয়োগ দেন। বিশ্বের নামী-দামী তারকারা ডিওরের ডিজাইন করা ড্রেস পরতে স্বাচ্ছন্দবোধ করত। তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন ডিওর। কিন্তু হঠাৎ করেই ইতালিতে ১৯৫৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন ক্রিশ্চিয়ান ডিওর। তার মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা না গেলেও থেমে নেই তার প্রতিষ্ঠান এবং রেখে যাওয়া কাজ। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত যত ডিজাইন করে গেছেন তা এখন পর্যন্ত টপ মডেল অভিনেত্রীদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়।

ফ্যাশন ডেস্ক

প্রকাশিত : ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

২৭/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: