কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

মাতৃভাষাকে আমরাই হেয় করছি

প্রকাশিত : ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • সেলিনা হোসেন

একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি দেয়ায় ভাষার ক্ষেত্রে আমাদের অর্জন কতটা?

একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর। এ ক’বছরে আমাদের অর্জন প্রায় শূন্য। আমরা বড় গলায় বলতে পারব না, এ কাজটি করেছি। একটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউ নির্মাণ শুরু করেছিল গত আওয়ামী লীগ সরকার; কিন্তু পরবর্তী সরকার সে কাজটিতে আর হতে দেয়নি। যেটুকু শুরু হয়েছিল সেটুকুতেই পড়ে ছিল। বর্তমান সরকার এসে আবার কাজ শুরু করেছে। ভবনের কাজও মাতৃভাষা বিষয়ক পত্রিকা প্রকাশনার কাজ চলছে।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্যকে পৃথিবীর অন্যান্য দেশে পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব আমাদের দূতাবাসগুলো নিতে পারে। তারা যদি যথাযথ উদ্যেগ গ্রহণ করে তবে এ দিবসের তাৎপর্য প্রতিটি দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে। এই একটি দিবসকে কেন্দ্র করে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের আদিবাসী গোষ্ঠীর মাতৃভাষার লড়াইয়ে প্রত্যেক দেশের সরকারকে দায়িত্বশীল করতে পারলে শুধু বন্যা আর জলচ্ছ্বাসে আক্রান্ত দরিদ্র মানুষের ছবি দেখে বাংলাদেশকে চিনতে অভ্যস্ত হওয়া বিদেশীরা বাংলাদেশ সম্পর্কে আরেকটি ভিন্নচিত্র পাবে। মাতৃভাষার জন্য জীবন দানকারী জাতি হিসেবে আমাদের গৌরবের জায়গাটি তাদের কাছে স্পষ্ট হবে। গৌরবকে আড়াল করলে সাফল্যের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয় জাতি।

ভাষা আন্দোলনের মতো এত বড় আন্দোলনের ঐতিহ্য আমাদের। আমরা কি পেরেছি মাতৃ ভাষাকে যোগ্য মর্যাদা দিতে? এখনকার শিল্প-সাহিত্যে বাংলা ভাষার অবস্থা কেমন?

১৯৫২ সালের পর থেকে আমাদের শিল্প-সাহিত্যের একটি ভিন্নযাত্রা শুরু হয়েছিল। ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র পাকিস্তানে ইসলামী ভাবধারা জাগিয়ে রাখার জন্য আরবী ও ফারসি শব্দের মিশেল ঘটিয়ে বাংলা গদ্য তৈরির চেষ্টা হয়েছিল। পঞ্চাশের দশকের লেখকরা এ প্রবণতা প্রত্যাখ্যান করে প্রমিত বাংলা গদ্য ভঙ্গি গড়ে তুলেছিলেন। আমার বিশ্বাস, এটি ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রত্যক্ষ ফল। আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিম-লে জীবনের গল্প উঠে এসেছিল আমাদের লেখকদের হাতে। এ সূচনা বাংলা ভাষার মূল স্রোতের ধারা থেকে একটি ভিন্ন ধারার যাত্রা নিঃসন্দেহে। জীবনে নানান রাজনৈতিক ঘটনার অভিঘাত আছে। ১৯৫২ সালের পর থেকে এ কারণে আমরা বলি ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ। ভাষা আন্দোলন এভাবে আমাদের জাতীয় জীবনের একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত। ১৯৯৯ সালের ১৭ নবেম্বর অমর একুশের দিনটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষিত হয়েছিল ইউনেস্কো কর্তৃক। তাহলে দেখতে পাচ্ছি, ভাষা আন্দোলন আমাদের নিজেদের শিল্প-সাহিত্যের জায়গা তৈরি করেছিল, একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অনুপ্রেরণার উৎস ছিল এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস দিয়ে বিশ্বের সামনে ভাষার জন্য প্রাণ প্রদানকারী জাতি হিসেবে একটি গৌরবের জায়গা তৈরি করেছিল। বর্তমানে আমরা এ মর্যাদাকে ঠিকভাবে ধরে রাখতে পারিনি। শিক্ষা ব্যবস্থার নানানমুখী নৈরাজ্য এ ব্যবস্থাকে ত্বরান্বিত করেছে। আমাদের মাতৃভাষাকে আমরাই হেয় করছি।

এর পেছনে রাজনৈতিক অব্যবস্থা কতটা দায়ী বলে মনে করেন?

স্বাধীনতার পর থেকে রাজনৈতিক অস্থিরতা গণতন্ত্র চর্চার পথকে রুদ্ধ করেছে। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর জিয়াউর রহমানের সামরিক শাসন, জিয়া হত্যার পর এরশাদের সামরিক শাসন আমাদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনকে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। পরে আমরা নির্বাচিত সরকারের শাসন দেখেছি; কিন্তু সে শাসন যতটা না গণতান্ত্রিক তার চেয়ে বেশি ছিল স্বৈরাচারী। ফলে গণমানুষের জীবনে অস্থিরতা, বিভ্রান্তি, অনিশ্চয়তা নানাভাবে প্রভাব ফেলেছে। মানুষের জীবনে স্বস্তিময়-শান্তিময় সময় ছিল না কালো টাকা ও সন্ত্রাসী দৌরাত্ম্যের কারণে। অন্যদিকে এ অস্থিরতা থেকে উদ্ভূত নানান সামাজিক অনুষঙ্গ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নষ্ট করেছে। নষ্ট হয়েছে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা, সৎ জীবন যাপনের নৈতিক বোধ ও মানবিক আদর্শের সমন্বিত চেতনা। ফলে প্রতিটি ব্যক্তি নিজ অবস্থানে দাঁড়িয়ে তার পরিবারকে রক্ষা করার জন্য নানান অব্যবস্থার মধ্যে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন। একটি উদাহরণ-ছেলেমেয়েদের নিশ্চিত ভবিষ্যতের চিন্তা। এ চিন্তা থেকে তারা সন্তানদের ইংরেজী মাধ্যম স্কুলগুলোতে ব্যাপক হারে ভর্তি করিয়েছেন চাকরির নিশ্চয়তার আশায়। স্কুলগুলো বাণিজ্যকে গুরুত্ব দিয়ে ছেলেমেয়েদের ইংরেজী ভাষা শিখিয়েছে জীবিকার প্রশ্নে। গুরুত্ব দেয়নি তার মানবিক মূল্যবোধ তৈরিতে। তাই আজ সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় প্রবলভাবে আমাদের পীড়িত করছে। ধরা যাক, রাতারাতি বাংলাদেশ থেকে দারিদ্র্য দূর হয়ে গেল, প্রতিটি মানুষ আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্যের অধিকারী হলো- তাই বলে কি আমরা মানবিক মূল্যবোধের সমাজ পাব? সন্ত্রাস দূর হবে, কোন হত্যাকা- ঘটবে না, কোন মেয়ে ধর্ষণের শিকার হবে না কিংবা ঘরে ঘরে নারীরা পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হবে না-এমন ভাবা অলীক স্বপ্ন ছাড়া কিছু নয়। যে শিক্ষা ব্যবস্থা চাকরিজীবী তৈরির জন্য চালু থাকে, শুধু বাণিজ্য বিষয়ে ডিগ্রী প্রদান করে, ডাক্তারী শিক্ষা মানবিক মূল্যবোধ ছাড়া প্রদান করা হয় তাতে সমাজের গুণগত পরিবর্তন কীভাবে হবে? একটি দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিবেশ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধহীনতা যদি রাষ্ট্র ব্যবস্থায় দীর্ঘ সময় ধরে টিকে থাকে তাহলে সেখান থেকে বড় কিছু আশা করা যায় না।

এ বিষয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে উদ্যোগের ঘাটতি আছে কি?

নীতিনির্ধারনী পর্যায়ে উদ্যোগের ঘাটতি তো রয়েছেই। মূলধারার শিক্ষার বাইরে আরও দুটি শিক্ষা পদ্ধতি (মাদ্রাসা ও ইংরেজী মাধ্যম) চালু থাকায় শিক্ষা পদ্ধতি প্রবল নৈরাজ্যের সৃষ্টি হয়েছে। আমার বিশ্বাস, আমাদের একটি শিক্ষা ব্যবস্থা থাকলে প্রয়োজনে বিভিন্ন ক্ষেত্রের উপযুক্ত মানুষ তৈরি করা কঠিন হতো না। যেমন আমি আমার মসজিদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ধর্মতত্ত্বে পাস করা একজন ইমাম চাই। ফরেন সার্ভিসের জন্য মেধাসম্পন্ন ইংরেজী জানা মানুষ চাই। অন্যান্য ক্ষেত্রের জন্য বিভিন্ন ভাষা জানা মানুষ চাই; যারা অনবরত ভাষার কাজগুলো দেখাশোনা করবে। লাখ লাখ ছেলেমেয়েকে পাইকারি হারে ভিন্ন শিক্ষা মাধ্যমে ঠেলে দিয়ে সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করার যুক্তি আছে বলে আমি মনে করি না।

বাংলা কারিকুলামের যা অবস্থা তাতে অনেক অভিভাবকই এর ওপর ভরসা করতে পারেন না। যাদের সঙ্গতি আছে তারা তাই ইংরেজি মাধ্যমে সন্তানকে পড়াচ্ছেন-আপনার মতে শিক্ষার মাধ্যম (গবফরঁস ড়ভ রহংঃৎঁপঃরড়হ) হিসেবে মাতৃভাষার গুরুত্ব কতখানি?

শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে মাতৃভাষার কোন বিকল্প নেই। মাতৃভাষা ছাড়া অন্য কোন ভাষায় শিশুকে শিক্ষা দিলে তার ভেতরে দুই ধরনের মনোভাব তৈরি হয়।

এক. শিশু মাতৃভাষার প্রতি প্রবল ভালবাসা অনুভব করে না এবং সে ভাষাটি ঠিকমতো শিখতেও চায় না।

দুই. মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষা না দিলে শিশুটি তার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, ইতিহাস ইত্যাদি থেকে বিছিন্ন হয়ে পড়ে। ফলে ওই শিশুটি শেকড়হীন মানুষ হিসেবে অন্য সংস্কৃতিতে মুখ থুবড়ে পড়ে; যেখানে তার আইডেন্টিটির বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

আজকের বিশ্বায়নের যুগে শুধু বাংলা ভাষায় একটি শিশুর শিক্ষা সম্পন্ন করা কি সম্ভব?

জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চার জন্য এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের জন্য ইংরেজী অবশ্যই জানতে হবে। তাই বলে কোনভাবেই নিজের মাতৃভাষাকে উপেক্ষা করে নয়। মাতৃভাষার পাশাপাশি একটি শিশু যদি আর দুয়েকটি ভাষা জানে তবে সত্যিকার অর্থে সে-ই হবে আন্তর্জাতিক মানুষ। তার নিজস্ব সংস্কৃতির ঘর থাকবে এবং একই সঙ্গে তার সামনে পুরো পৃথিবীর দরজা খোলা থাকবে। আমাদেরই বুঝতে হবে মাতৃভাষার মর্যাদা ও গুরুত্বের কথা।

আজকের শিশু কি নিজ সংস্কৃতিবিমুখ মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠছে? যদি তাই হয় তাহলে কাকে দায়ী করবেন?

দুটি উদাহরণ দিয়ে প্রশ্নটির উত্তর দিচ্ছি। গত ২৫ ডিসেম্বর বড়দিনের অনুষ্ঠানে একজন মায়ের সঙ্গে দেখা হয়, তার ছেলের সঙ্গে ইংরেজীতে কথা বলছিল। জিজ্ঞাসা করলাম, তুমি ওর সঙ্গে ইংরেজী বলছ কেন? মেয়েটি আমাকে জানাল, তার ছেলে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়ে, সে কিছুতেই বাংলা শিখতে চায় না, বাংলাকে যধঃব করে। আমি প্রচ- ধাক্কা খাই ‘যধঃব’ শব্দটি শুনে। অন্য আরও দু’জন মায়ের সঙ্গে আরেকদিন একই বিষয়ে কথা বললে তারা বলেন, আমাদের ছেলেমেয়েরা যে স্কুলে পড়ে তারা তাদের ঠিকমতো বাংলা শেখায় না। সে জন্য তারা বাংলা বলতে চায় না। এখানে আমি পরিবার এবং স্কুল দুটিকেই দায়ী করি। আমি মনে করি, যে পরিবার সন্তানদের মাতৃভাষা শেখায় না তারা সন্তানদের মানবাধিকার লঙ্ঘন করে। শুধু তাই নয়, তাদের শেকড়হীন শরণার্থী মানুষে পরিণত করে যাদের কোন দেশ থাকে না, সংস্কৃতি থাকে না।

আমাদের দেশে ক্ষুদ্র জাতিসত্তাগুলোর মাতৃভাষায় শিক্ষা এবং সবক্ষেত্রে ব্যবহারের সুযোগ কতটা রয়েছে?

প্রতিটি দেশেই নৃতাত্তিক জনগোষ্ঠী বাস করে যথাযথ পরিচর্যার অভাবে এসব জনগোষ্ঠীর ভাষা প্রায় বিলুপ্ত হওয়ার পথে চলেযাচ্ছে। দেশের সরকার জনগণকে নিয়ে সম্মিলিত উদ্যোগ নিয়ে এসব ভাষা বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করতে পারে। বর্তমান সরকার

জ্ঞান চর্চার বিভিন্ন শাখায় বাংলা ভাষায় পর্যাপ্ত বই নেই। কিভাবে এ সমস্যা উতরানো যাবে?

বিশেষ করে বিজ্ঞান, চিকিৎসা বিজ্ঞান, প্রকৌশল ইত্যাদি বিষয়ে পর্যাপ্ত বই বাংলা ভাষায় অবশ্যই নেই। ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের কাজগুলো অনবরত করে যেতে হবে। বাংলা একাডেমী ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এ কাজগুলো যদি করে তাহলে বাংলা ভাষায় জ্ঞান চর্চার জায়গা অনেক বাড়বে।

নারীর ভাষা বলে সাহিত্যে আলাদা ভাষা আছে কি?

এক সময় সই, সখী ইত্যাদি শব্দ ছিল নারীর জন্য আলাদা। এখন এ শব্দগুলো ব্যবহার করা হয় না। এর প্রয়োজন আছে বলেও মনে করি না। ভাষাকে জেন্ডার সমতার ভিত্তিতে তৈরি করলে নারী-পুরুষের বৈষম্যের জায়গাটি পারিবারিক পরিম-লে খানিকটা কমতে পারে। এছাড়া সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে নারী-পুরুষকে কেন্দ্র করে ভিন্ন শব্দ তৈরি করার পক্ষে আমি নই। যেমন অফিসের ক্ষেত্রে পরিচালক বা শিক্ষাক্ষেত্রে শিক্ষক নামবাচক বিশেষ্য। একে স্ত্রীলিঙ্গ করে পরিচালিকা বা শিক্ষিকা করার যুক্তি নেই। নারী, না পুরুষ তা নামেই বোঝা যায়। অনেক সময় বলা হয়, নারীর নিজস্ব জগৎ যে গল্প-উপন্যাসে রচিত হবে তাতে নারীর ভাবনার জগৎ নারীর ভাষায় প্রস্ফুটিত হবে। এখানেও আমার আপত্তি আছে। নারীর ভাবনা একান্তভাবেই নারীর, ভাষা দিয়ে তাকে আলাদা করার যুক্তি নেই। ভাবনা প্রকাশের জন্য সহজ বাংলাই যথেষ্ট।

বেশ ক’বছর আগে আপনি এবং ভারতের দেবযানী সেনগুপ্ত যৌথ সম্পাদনায় দক্ষিণ এশিয়ার নারীবাদী গল্পের সংকলন করেছেন । বইটি সম্পর্কে কিছু বলুন। কোন্ উপলব্ধি থেকে এ ধরনের সংকলনে হাত দিয়েছিলেন?

লেখকের দেশ থাকে। নিজের সংস্কৃতির মধ্যে তার দিন যাপন থাকে; কিন্তু তার জন্য সীমান্ত থাকে না। উন্মুক্ত সীমান্তপথে ভেসে আসে ভিন্ন দশ লেখকের ভিন্ন সংস্কৃতির কথা ও জীবনের গল্প। দেশের সীমানার ভেতর কিভাবে কাটে নারীর জীবন, সাহিত্যই তা প্রকাশ করে হৃদয়ছোঁয়া অনুভবে ও অভিজ্ঞতায়। ‘দক্ষিণ এশিয়ার নারীবাদী গল্প’ আটটি দেশের খোলা সীমান্তপথে ছুটে আসা নানান জনগোষ্ঠীর নারীর কথা। এ গল্পগুলো থেকে নারীর সমঅবস্থানের বিপরীতে গড়েওঠা পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গি, আচরণ, ধারণা ইত্যাদির একটি পূর্ণচিত্রও পাওয়া যায়। দেখা যাবে রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থার বৈষম্যমূলক আচরণের বিপরীতে নারীর অসহায়ত্বের চিত্র। বলা যায়, এই চিত্র পাঠকের সামনে তুলে ধরার জন্যই এ প্রয়াস। সঙ্কলনের প্রতিটি গল্প একটি পূর্ণ ছবির মতো। দক্ষিণ এশিয়ার নারীর কণ্ঠস্বর এ গ্রন্থ। যে কোন রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থার ভেতরে বাস করা নারী কোন বিচ্ছিন্ন মানুষ নন। সংবিধানে তার সমান অবস্থান উল্লেখিত হলেও পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি নারীর জন্য ভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রথা তৈরি করে। নারীকে ঠেলে দেয়া হয় বৈষম্যের ভেতর। পুরুষ সমাজ ব্যবস্থার অনুমোদনে দমন করে নারীকে। পারিবারিক পরিম-ল থেকে শুরু করে রাষ্ট্র ব্যবস্থার নানান অনিয়ম ও আইনের ফাঁকফোকরে মুখ থুবড়ে পড়ে নারীর জীবন। সেই জীবনের সুর যেন এক সূত্রে গাথা। ভৌগোলিক অবস্থানে পার্থক্য থাকলেও অন্তর্জগতে পরস্পরের কতটা কাছাকাছি তা বোঝা যাবে বইয়ের গল্পগুলো পড়লে।

আমাদের সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ

জনকণ্ঠকেও ধন্যবাদ।

প্রকাশিত : ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

২৭/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: