মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

রুশ হস্তক্ষেপ রোধে ব্যর্থ পাশ্চাত্য

প্রকাশিত : ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • ইউক্রেনে যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে ॥ হুঁশিয়ারি ন্যাটো কমান্ডারের

পর্ব ইউক্রেনে যুদ্ধ পরিস্থিতির ক্রমশ অবনতি ঘটছে। রুশ হস্তক্ষেপ রোধ করতে পশ্চিমাদের চেষ্টা সামান্যই ফল বয়ে আনছে। ন্যাটোর শীর্ষ কমান্ডার বুধবার কংগ্রেস ও পেন্টাগনে এ কথা বলেন। একই সময়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ‘ভূমি দখলের’ মাধ্যমে ইউক্রেনে অস্থিরতা সৃষ্টির দায়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনকে অভিযুক্ত করেছেন। মস্কো ও বিদ্রোহীরা অস্ত্র বিরতির শর্ত মেনে চলতে ব্যর্থ হয়েছে বলেও তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন। খবর ওয়াশিংটন পোস্ট ও এএফপির।

ইউরোপে মোতয়েন মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনীর কমান্ডার এয়ারফোর্স জেনারেল ফিলিপ এম ব্রিডলাভ ইউক্রেনে সঙ্ঘাতের এক গভীর হতাশাজনক বিবরণ দেন। তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেন যে, রাশিয়া ইউক্রেনে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে সফল হলে পুতিন অন্যত্রও বিভেদের বীজ বপন করতে উৎসাহিত হবেন। তিনি বলেন, ন্যাটোকে রাজনৈতিক দিক দিয়ে দুর্বল করা এবং ওই অঞ্চলে মস্কোর প্রভাব বাড়ানোর এক কৌশলের অংশ হিসেবে পুতিন বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারেন। ইউক্রেন সরকারকে অস্ত্র সরবরাহ করে রাশিয়াকে আরও কড়া জবাব দেয়া হবে কিনা এ প্রশ্ন নিয়ে ওবামা প্রশাসন ব্যতিব্যস্ত রয়েছে। এরূপ কোন উদ্যোগ এক জুয়াখেলাই হবে বলে ব্রিডলাভ স্বীকার করে। তিনি বলেন, পুতিনের মাথায় এখন কি কাজ করছে তা আমি আপনাদের বলতে পারবো না। কিয়েভে অস্ত্র পাঠানো হলে রাশিয়া হটে যাবে, না যুদ্ধের মাত্রা বাড়িয়ে দেবে, সেই সম্পর্কে মার্কিন কর্মকর্তারা নিশ্চিত নন। ব্রিডলাভ বলেন, আমাদের সচেতন থাকতে হবে যে, যদি আমরা ইউক্রেনীয়দের অস্ত্র দেই, তাহলে এটি ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে। এটি নেতিবাচক ফলও নিয়ে আসতে পারে। কিন্তু এখন আমরা যা করছি, তা রণক্ষেত্রের ফলাফলে পরিবর্তন ঘটাচ্ছে না। তিনি প্রতিনিধি পরিষদের সশস্ত্র বাহিনী কমিটিতে সাক্ষ্য দিচ্ছিলেন। পরে পেন্টাগনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ব্রিডলাভ জানান, মস্কোকে এবং পূর্ব ইউক্রেনের রুশপন্থী বিদ্রোহীদের প্রতি রুশ সমর্থন প্রতিহত করতে হলে ওয়াশিংটনের অন্যান্য কি কি পদক্ষেপ নেয়া উচিত, সেই সম্পর্কে তিনি তার পেন্টাগনের চেন অব কমান্ডের মাধ্যমে হোয়াইট হাউসের কাছে আনুষ্ঠানিক সুপারিশ পেশ করেছেন। ব্রিডলাভ তার প্রস্তাবগুলো বিস্তারিতভাবে জানাতে অস্বীকার করেন। তবে তিনি বলেন, ইউক্রেনের ঘটনাবলির মোড় ঘোরাতে হলে যুক্তরাষ্ট্র ও এর ন্যাটো মিত্রদের আরও কার্যকরভাবে কূটনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক কৌশলগুলো একযোগে প্রয়োগ করতে হবে। তিনি বলেন, আমরা ইউক্রেনে বড় আকারের যুদ্ধ চাই না। আমাদের অবশ্যই এক কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সমাধান খুঁজে পেতে হবে। যা স্পষ্ট তা হলো পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। দিন দিন এর অবনতিই ঘটছে। ওবামা প্রশাসন কর্মকর্তারা বলেছেন, তারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন দফায় অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা এবং ইউক্রেনে ট্যাংক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য অস্ত্রশস্ত্র পাঠানো হবে কিনা তা বিবেচনা করছে। এখনও পর্যন্ত ওয়াশিংটন ইউক্রেনকে অপ্রাণঘাতী যন্ত্রপাতির, যেমন বর্ম, নাইট ভিশন চশমা, রেডিও ও পোশাক ইত্যাদির মতো সামরিক সহায়তা প্রদান করে এসেছে।

প্রকাশিত : ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

২৭/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: