কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

চার্লসের সঙ্গে কেমন সম্পর্ক উইলিয়াম ও হ্যারীর

প্রকাশিত : ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • এনামুল হক

প্রিন্স চার্লস এবং তদীয় পুত্র প্রিন্স উইলিয়াম এবং প্রিন্স হ্যারী এই তিনজনই ব্রিটিশ সিংহাসনের উত্তরাধিকারী। চার্লস-ডায়ানার দাম্পত্য সঙ্কট, পরে বিবাহবিচ্ছেদ এবং আরও পরে ১৯৯৭ সালে প্যারিসে এক মোটর দুর্ঘটনায় ডায়ানার মৃত্যুÑ এসব বেদনাদায়ক ও মর্মান্তিক ঘটনা পিতা ও পুত্রদের সম্পর্কে ফাটল ধরাতে পারত পিতার বিরুদ্ধে পুত্রদের মনে ক্ষোভের আগুন জ্বালাতে পারত। কিন্তু তা হয়নি। বরং চার্লস ও পুত্রদের পরস্পরের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক এবং আনুগত্যের পরিচয় পাওয়া যায়। এই সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়েছে। ঐতিহ্যগত কর্তব্যবোধ এবং সুগভীর ও জটিল, ভালবাসার বন্ধন থেকে যা আধুনিক পরিবারগুলোকে একত্রে বেঁধে রাখে।

রাজপরিবারের সন্তান হওয়া মানেই আজীবনের জন্য সেলিব্রেটিতে পরিণত হওয়া। অপার সুযোগ-সুবিধার মধ্যে যেমন তাঁরা বড় হয়ে উঠেছেন, তেমনি ছোট বয়স থেকে বাবা-মা দাম্পত্য অশান্তি থেকে উদ্ভূত অনেক দুঃখ ও বেদনার অভিজ্ঞতাও তাঁদের হয়েছে। তবে সেজন্য তাঁরা বাবাকে দায়ী করেন না, বরং তাঁকে বন্ধু হিসেবে দেখেন। বাবার মতো উইলিয়ামের আবেগ-অনুভূতি কম। তথাপি ডায়ানা সম্পর্কে প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে অনেক সময় আবেগের বহির্প্রকাশ ঘটে। সাংবাদিকদের খুব একটা পছন্দ করেন না উইলিয়াম। ডায়ানার মৃত্যুর জন্য তিনি তাঁদের দায়ী করেন। ডায়ানার গাড়ির পেছনে ধাবমান মোটরসাইকেল আরোহী সাংবাদিকদের হাত থেকে রেহাই পেতে ডায়ানার গাড়িটি আরও জোরে ছুটতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়েছিল, এ ঘটনা ভুলতে পারেন না উইলিয়াম। তবে চার্লসকে অনুকরণ করতে গিয়ে তিনি অনেকটাই তাঁর দাদী, রানী এলিজাবেথের আচরণগত বৈশিষ্ট্য লাভ করেছেন। আবদ্ধ ও সতর্ক এবং কথার চেয়ে কাজেই অধিক স্বচ্ছন্দময়।

রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ মারা গেলে বা সিংহাসন ত্যাগ করলে রাজা হবেন চার্লস। চার্লসের পর রাজা হবেন উইলিয়াম। উইলিয়ামের দুই পুত্র থাকায় হ্যারীর রাজা হওয়ার সম্ভাবনা আরও পরে। চার্লস রাজা হলে তাঁর দাতব্য সাম্রাজ্য ‘দি প্রিন্সেস ট্রাস্টে’র দায়িত্ব তাঁর দুই ছেলের হাতে যাবে। তবে এ ব্যাপারে তাঁদের কোন আগ্রহ নেই, বরং তাঁরা নিজেদের ক্যারিয়ার ও নিজস্ব সংগঠন প্রতিষ্ঠা নিয়েই ব্যস্ত। ছেলেদের সিদ্ধান্তগুলো এখনও পর্যন্ত ইতিহাসই নির্ধারণ করে দিচ্ছে। ডায়ানার মৃত্যুর সময় ছেলেদের শোক ও দুঃখের পরতে পরতে বাবার কাছে মায়ের প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ক্ষোভও মিশেছিল। তবে কালের প্রবাহে সেই ক্ষোভ আর থাকেনি। সন্দেহ নেই যে, চার্লস তাঁর ছেলেদের কর্তব্য ও ঐতিহ্যের প্রতি সচেতন করেই গড়ে তুলেছেন। তিনি তাঁদের লালন করেছেন। প্রবল ভালবাসার চাইতে তিনি তাঁদের আরও বেশি কিছু দিতে সর্বদাই আগ্রহী ছিলেন। ডায়ানার সঙ্গে তিনিও সঙ্কল্পবদ্ধ ছিলেন যে, তাঁদের যতটা সম্ভব জনগণের দৃষ্টির আড়ালে রাখতে হবে এবং যতটা সম্ভব বাবা-মায়ের সঙ্গে সময় কাটাতে হবে। ডায়ানার সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদ ঘটার পর তিনি ছেলেদের ডায়ানাকে নিয়ে ভাবতে ও কথা বলতে এবং ডায়ানার বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে উৎসাহিত করতেন। তাই বলে বাবা ও ছেলেদের সম্পর্কে যে চাপ ও জটিলতা থাকত না, তা নয়। কিন্তু তারপরও সেই সম্পর্ক আগের চেয়ে শক্তিশালী এবং বলিষ্ঠ হয়েছে। সেই সম্পর্ক যে সহজ ও উদার, তা বাপ-ছেলেদের নানা কৌতুকের মধ্যে প্রকাশ পায়। বাবা ছেলেদের ব্যঙ্গ-বিদ্রƒপে বিদ্ধ করছে অবার ছেলেরাও বাবাকে করছে, এমনটি প্রায়ই দেখা যায়। ঠাট্টা- কৌতুকের বিষয়বস্তুও তেমনি মামুলি। যেমন তোমার মাথায় চুল নেই কেন, এ জাতীয়। অভিনেত্রী ইমা টম্পসনের ভাষায়, ‘চার্লসকে আমি তাঁর ছোট ছেলের সঙ্গে কৌতুকভরে প্রায় তিড়িং-মিরিং করে নাচতে পর্যন্ত দেখেছি। এতই মধুর তাঁদের সম্পর্ক।

এক সময় উইলিয়ামের বিয়ে হয়ে গেল। আগমন ঘটল রাজবধূর। ভাবী রানীকে নিয়ে ভাবী রাজার সুখী জীবন শুরু হলো। তাঁদের উত্তরাধিকারীরও আগমন ঘটল এক পর্যায়ে। তাঁদের সেই জীবনে স্ক্যান্ডালের কালিমা নেই। ব্যর্থতায় ভারাক্রান্ত নয় সেটা। রাজপরিবারের এই জুটি এমন জনপ্রিয়তা পেল যে, তাঁর তোড়ে সিংহাসনের প্রথম দাবিদার প্রিন্স চার্লসের অবস্থান টলায়মান। এজন্য কি ঈর্ষাকাতর চার্লস? মিডিয়ায় এ নিয়ে অবশ্য লেখালেখি হয়েছে। কেউ কেউ নাকি পুত্র ও পুত্রবধূর মানুষকে আকর্ষিত করার ক্ষমতা সম্পর্কে চার্লসকে ভারাক্রান্ত সুরে মন্তব্যও করতে শুনেছেন। কিন্তু চার্লসের এক উপদেষ্টা প্যাট্রিক হোল্ডেন এগুলোকে বাজে কথা বলে উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন যে, তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে চার্লসের সীমাহীন গর্ব। তিনি তাঁর সন্তানদের কাছ থেকে সর্বদাই কিছু না কিছু শেখেন। ওরা যা জানে এবং তিনি যা জানেন না, সেসব ভেবে সর্বদাই অবাক হন চার্লস। অন্যদিকে প্রিন্স জর্জের জন্ম এই ঘনিষ্ঠ পরিবারটি সদস্যদের আরও কাছাকাছি টেনে এনেছে। উইলিয়াম ও হ্যারী ক্যামিলাকে শুধু গ্রহণই করেনি। তার প্রতি তাদের ভক্তি শ্রদ্ধাও রয়েছে। ডায়ানাকে তাঁরা ভোলনি, তাঁর স্মৃতি মুছেও যায়নি। তবে ডায়ানা আর তাঁদের মধ্যে বিভাজনের কারণ নন। সূত্র : টাইম।

প্রকাশিত : ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

২৫/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: