আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ইসলামী র‌্যাডিকেলের উৎস কোথায়

প্রকাশিত : ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা সম্প্রতি বলেছেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, ধর্মকে বিকৃত করা হচ্ছে। একে বিভাজনের বিষয় হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আমরা আরও দেখতে পাচ্ছি যে, যারা ধর্মের পাশে দাঁড়িয়েছে বলে দাবি করছে, ইসলামের পক্ষে দাঁড়ানোর কথা বলছে, তারাই আবার সহিংসতা ও সন্ত্রাস চালাচ্ছে। অথচ বস্তুতপক্ষে তারাই ধর্মের সঙ্গে, ইসলামের সঙ্গে বেইমানি করছে। আমরা দেখতে পাচ্ছি এক নির্মম, ঘাতক সংগঠন আইসিস অকথ্য বর্বরতা চালাচ্ছে।’

ওবামার এই বক্তব্যটি বেশ কড়া, সন্দেহ নেই। তবে ওতে দুটি শব্দের অনুপস্থিতি লক্ষণীয়। তা হলো, ইসলামী র‌্যাডিকেল। ওবামা আইসিস সম্পর্কে অনেক কথা বলেছেন। কিন্তু তারা প্রকৃতই যা, সেই ইসলামী র‌্যাডিকেল হিসেবে তাদের আখ্যায়িত করেননি। কেন করেননি? সম্ভবত তিনি রূঢ় সত্যকে এড়িয়ে যেতে চেয়েছেন। ইসলামী র‌্যাডিকেল সম্পর্কে বলতে গেলে অনেক কথাই চলে আসে। কান টানলে মাথা আসে। ওবামা সেই মাথা টেনে আনতে চাননি।

এই বিশ্বের ১৬০ কোটি মানুষ ইসলাম ধর্মের অনুসারী। এদের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ মনে করে যে, আইসিস মহানবীর শিক্ষা তো অনুসরণ করছেই না, বরং সেটাকে বিকৃত করছে। এরা এক ধর্মোন্মাদ গোষ্ঠী, যারা ধর্মের নামে অমানবিক ও হৃদয়হীন সব কার্যকলাপে লিপ্ত। এদের সন্ত্রাসী, তস্কর, খুনী বর্বর যে নামেই আখ্যায়িত করা হোক না কেন, সবই সত্য। তবে এটাও সত্য যে, তারা মুসলমান।

সিআইএ’র প্রাক্তন পরিচালক মাইকেল হেডেন বলেন, আইসিসের ব্যাপারটা একটা ইসলামী ইস্যু। এটা সকল মুসলমানের বিষয় নয় বা বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদেরও বিষয় নয়। তবে ওদের চলমান সহিংসতার উৎস হলো প্রতিক্রিয়াশীল ইসলামী র‌্যাডিকেল মতবাদ তথা জঙ্গী সালাফিবাদ। যার উৎপত্তিস্থল সৌদি আরব। বারাক ওবামার ইসলামী র‌্যাডিকেল শব্দটি উদ্ভাবন করতে না পারার কারণ অংশত হলো এই যে, তিনি আমেরিকার এই গুরুত্বপূর্ণ আরব মিত্রকে জড়িয়ে কোন বিরূপ মন্তব্য করতে চাননি।

আমেরিকার চোখে সৌদি রাজ পরিবার এ অঞ্চলে স্থিতিশীলতার উৎস। প্রয়াত বাদশাহ আব্দুল্লাহর শাসনামলে দেশটি কিছু কিছু সংস্কারও কার্যকর করেছেÑ বিশেষত শিক্ষাক্ষেত্রে। কিন্তু তারপরও সৌদি এলিট শ্রেণীর কিছু কিছু কার্যকলাপ নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়। সৌদি এলিটরা শুধু আল কায়েদাকে অর্থ লাগানোর কাজই করেনি, তারা ইসলামী বিশ্বের সর্বত্র র‌্যাডিকেল মাদ্রাসাও প্রতিষ্ঠা করেছে বা তাতে অর্থ দিয়েছে। তবে তারা সেটা সরাসরি না করে চাতুর্যের সঙ্গে করেছে এবং এখনও করছে। তারা সেটা ঘরোয়াভাবে, দাতব্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে করেছে। এর প্রভাব হয়েছে সুবিশাল। দৃষ্টান্ত দিয়ে বলা যায় যে, ১৯৯০ এর দশকে টাইমের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের বেনজীর ভুট্টোকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, পূর্ববর্তী ২৫ বছরে তাঁর দেশের কেমন পরিবর্তন ঘটে গেছেÑ বেনজীরের জবাব ছিল ‘আগে হেডস্কার্ফ ছাড়াই জিনস পড়ে রাস্তায় বেরোতে পারতাম। এখন পারি না’। কেন এখন পারেন না, সে প্রশ্নের জবাবে বেনজীর বলেন, ‘সৌদিদের জন্য’। ইঙ্গিত করলেন সৌদি অর্থপুষ্ট মাদ্রাসা এবং মসজিদগুলোর দিকে। বস্তুত পাকিস্তানে এ জাতীয় মাদ্রাসার দ্রুত প্রসার ঘটছে। এসব মাদ্রাসা থেকেই বেরিয়ে এসেছে তালেবানরা। তেমনি এসেছে অনেক আইসিস জঙ্গী।

ওবামা এই সৌদিদের ব্যাপারে কিছুই বলতে পারলেন না। কথাটা সম্ভবও নয়। এটা শুধু ওবামার সমস্যা নয়, বুশেরও সমস্যা ছিল। বুশ তো সৌদি রাজ পরিবারের অতি ঘনিষ্ঠজন ছিলেন। কংগ্রেস গোয়েন্দা কমিটির রিপোর্টের এক গোপন অংশ আছে। সেই অংশটি নাইন ইলেভেনে হামলায় সৌদি ভূমিকার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তারপরও ওবামা কিছু বলতে পারছেন না। সৌদি আরব মার্কিন সামরিক সাজসরঞ্জামের বৃহত্তম ক্রেতা। হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালে সৌদি আরবের মার্কিন সামরিক সম্ভার রফতানি ৩৫শ’ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এরপরও কি ওবামা সৌদিদের ব্যাপারে বিরূপ কিছু বলতে পারেন?

চলমান ডেস্ক

সূত্র : টইম

প্রকাশিত : ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

২৫/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: