কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

ম্যাককুলাম তাণ্ডব, সাউদি ঝড়!

প্রকাশিত : ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • বিউটি পারভীন

দুই যুগ আগে পারেনি নিউজিল্যান্ড। ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ আয়োজিত হয়েছিল ১৯৯২ সালে প্রথমবার। রবীন লীগ পদ্ধতির সে আসরে গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত ছিল কিউইরা। তবে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের কাছেই শুধু হেরে গিয়েছিল টানা সাত ম্যাচ জেতা ব্ল্যাক ক্যাপস শিবির। সেটাই যেন কাল হয়েছিল। সেমিফাইনালে গিয়ে ওই পাকিস্তানের কাছে দ্বিতীয়বার হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল। চোখের সামনে দিয়ে নিউজিল্যান্ডবাসীকে হতাশ করে বিশ্বকাপ নিয়ে গিয়েছিল পাকরা। এবার আরেকটি সুযোগ কিউইদের। ২৩ বছর পর ঘরের মাঠে আবার ফিরেছে মর্যাদার বিশ্বকাপ আসর। সেজন্য যেন এবার আদাজল খেয়ে শিরোপা জিততে উন্মাদ সর্বাধিক ৬ বার বিশ্বককাপ সেমিফাইনাল খেলা কিউইরা। এবারও দুর্দান্তভাবে শুরু করেছে তারা। জিতে গেছে টানা তিনটি ম্যাচ। শ্রীলঙ্কা ও স্কটল্যান্ডের পর তাদের দাপটে বিপর্যস্ত হয়েছে ইংল্যান্ড। আর এই ম্যাচে অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককুলাম ছিলেন ব্যাট হাতে বিধ্বংসী। বিশ্বকাপের দ্রুততম অর্ধশতকের রেকর্ড গড়েন তিনি মাত্র ১৮ বলেই হাফসেঞ্চুরি করে। স্টুয়ার্ট ব্রড, জেমস এ্যান্ডারসন আর স্টিভেন ফিনের সমন্বয়ে গঠিত দুর্ধর্ষ পেস আক্রমণ খড়ের মতো উড়ে গেছে তাঁর বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে। আর পরে বল হাতে নির্ভরযোগ্য পেসার টিম সাউদি মাত্র ৩৩ রানে ৭ উইকেট নিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের তৃতীয় সেরা এবং নিউজিল্যান্ডের ওয়ানডে ইতিহাসে সেরা বোলিংয়ের নজির স্থাপন করেন। এবার বিশ্বকাপে পেসাররা যে ব্যাটসম্যানদের নিয়ন্ত্রণ করবেন সেটারই উপযুক্ত প্রমাণ দিয়েছেন সাউদি। চলতি আসরে ৩ ম্যাচে ১১ উইকেট শিকার করে শীর্ষে তিনি। বিশ্বকাপের ১৪ দল নিয়ে বিশ্লেষণে ক্রিকেটবোদ্ধারা আভাস দিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ডের দলটিই সবচেয়ে ব্যালান্সড হয়েছে এবং এবার শিরোপা জয়ের অন্যতম ফেবারিট তারা। সেটারই প্রমাণ যেন বিশ্বকাপের শুরুতেই দিতে শুরু করেছে তারা। দলটির অধিনায়ক খর্বকায় ম্যাককুলাম। তাঁর সুপরিচিতি আছে মার মার কাট কাট ব্যাটিং করে প্রতিপক্ষ বোলারদের কড়া শাসন করার। ‘সাইজ ডাজন্ট মেটার চপিং উড’ এ কথাটির যথার্থ প্রমাণ ম্যাককুলাম তাঁর কাঠের ব্যাটের তা-ব দেখিয়ে। ব্যাটসম্যানের আচরণে তিনি সব সময়ই আক্রমণাত্মক মেজাজের। আকৃতিতে সতীর্থদের তুলনায় এবং বিশ্বের অন্যান্য পরাশক্তি দেশগুলোর ব্যাটসম্যানদের তুলনায় ক্ষুদ্রকায় হলেও ব্যাটের ঝড় তোলায় কোন সমস্যা নেই। সেটা এবার বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই টের পেয়েছিল শ্রীলঙ্কা। ওপেনার ম্যাককুলাম সেদিন খেললেন মাত্র ৪৯ বলে ১০ চার ও ১ ছক্কায় ৬৫ রানের ইনিংস। শুরুটা এত চমৎকার হলে এবং স্বয়ং অধিনায়কের কাছ থেকে এ ধরনের ইনিংস আসলে দলের অনুপ্রেরণা হয়ে যায় অন্যরকম। সেটাই হয়েছে ৬ উইকেটে ৩৩১ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে নিউজিল্যান্ড। সে ম্যাচে সাউদি গতির ঝড় তুলে শিকার করেছিলেন ১০ ওভারে ৪৩ রান দিয়ে ২ উইকেট। পরের ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে অবশ্য ম্যাককুলাম ব্যর্থ হয়েছেন। মাত্র ১৫ রান করতে পেরেছেন। তবে সাউদি আবারও দুই উইকেট নিয়েছেন। ভালভাবেই বোঝা যাচ্ছিল এবার বিশ্বকাপে ম্যাককুলামের ব্যাটিং ঝড় এবং সাউদির গতির তোপে ভালই ভুগতে হবে প্রতিপক্ষ শিবিরকে। ইংল্যান্ডের জন্য বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মেলবোর্নে ১১১ রানে অসিদের কাছে বিধ্বস্ত হয়ে এবার আরেক আয়োজক নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে মুখোমুখি হতে ওয়েলিংটনে এসেছিল তারা। কিন্তু সেখানে এসে আরও বড় ঝড়ের মুখে পতিত হলো তারা। ইংলিশ ব্যাটসম্যানদের ওপর ছড়ি ঘোরালেন সাউদি। ইংলিশ ইনিংসের আগাগোড়া থাকল সাউদির নাম। দশ ব্যাটসম্যানের সাতজনই কুপোকাত হলেন সাউদির বিধ্বংসী গতির কাছে। ৩৩ রানে দখল করলেন ৭ উইকেট। নিউজিল্যান্ডের বোলিং বিশ্লেষণে অবশ্য সবচেয়ে বেশি ৩৩ রান দিয়েছেন তিনিই। সাউদির বোলিং বিশ্লেষণ ৯-০-৩৩-৭! বিশ্বকাপ ইতিহাসে তৃতীয়সেরা বোলিংয়ের নতুন নজির এটি। সেরা ২০০৩ বিশ্বকাপে পচেফস্ট্রমে নামিবিয়ার বিরুদ্ধে গ্লেন ম্যাকগ্রার (৭/১৫) ও দ্বিতীয় স্থানে আরেক অসি পেসার এ্যান্ডি বিকেলের (৭/২০) একই বিশ্বকাপে পোর্ট এলিজাবেথে এই ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধেই।

সতীর্থ এমন এক কীর্তি করে দেখিয়েছেন, ভেতরে ভেতরে টগবগ করে ফুটেছেন উত্তেজনায় ম্যাককুলাম। সেই প্রতিচ্ছবিটা দেখা গেল তাঁর ব্যাটিংয়ে। নেমেই বিস্ফোরোন্মুখ হয়ে উঠলেন তিনি। অর্ধশতক করতে খরচা করলেন মাত্র ১৮টি বল। বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্রততম হাফ সেঞ্চুরির নতুন রেকর্ড। নিজের রেকর্ড নিজেই ভেঙ্গেছেন তিনি। ২০০৭ বিশ্বকাপে কানাডার বিরুদ্ধে ২০ বলে ফিফটি করেছিলেন, সেটিই ছিল এতদিন বিশ্বকাপের রেকর্ড। শেষ পর্যন্ত ২৫ বলে ৮ চার ও ৭ ছক্কায় ৭৭ রান করে আউট হন কিউই সেনাপতি। তবে ওয়ানডের ইতিহাসে এটি যৌথভাবে তৃতীয় দ্রুততম। কিছুদিন আগেই দক্ষিণ আফ্রিকার এবি ডি ভিলিয়ার্স ১৬ বলে ৫০ করেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে আর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শ্রীলঙ্কার সনাথ জয়াসুরিয়ার আছে ১৭ বলে ৫০ করার রেকর্ড। তবে ম্যাককুলাম তা-ব চালিয়ে জানিয়ে দিয়েছেন প্রতিপক্ষ বোলারদের জন্য আগামী ম্যাচগুলোয় ভয়ঙ্কর বিপদ হয়ে আসছেন তিনি।

প্রকাশিত : ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

২৫/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: