আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

এবার লঙ্কা বধের পালা!

প্রকাশিত : ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • রোকসানা বেগম

দক্ষিণ এশিয়ার যে দলগুলো ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলে তাদের মধ্যে ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশিবার শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু আফসোস, বিশ্বকাপেই যে একবারও হারানো গেল না। এবার শ্রীলঙ্কাকে হারানোর আরেকটি সুযোগ রয়েছে। বৃহস্পতিবার মেলবোর্ন ক্রিকেট মাঠে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা। এবার কী তাহলে শ্রীলঙ্কাকে হারানোর পালা?

বিশ্বকাপে সবার আগে দক্ষিণ এশিয়ার দলগুলোর মধ্যে পাকিস্তানকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়েই, ১৯৯৯ সালে। এরপর ২০০৭ সালে প্রথম ম্যাচেই ভারতকে হারিয়েছে। আর এবার প্রথম ম্যাচেই আফগানিস্তানকে হারিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু ২০০৩ ও ২০০৭ সালে দুবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অংশ নিয়েও হারানো যায়নি। এবার তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে বাংলাদেশের মুখোমুখি হচ্ছে শ্রীলঙ্কা। দেখা যাক, এবার জয় আসে কিনা বাংলাদেশের।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্রিসবেন ম্যাচ বৃষ্টিতে প- হতেই বাংলাদেশ ১ পয়েন্ট পেয়ে যায়। এর আগে (১৯৯৯, ২০০৩, ২০০৭, ২০১১ সালে) চারবার বিশ্বকাপ খেলে বাংলাদেশ। একবারও পরপর দুই ম্যাচে পয়েন্ট পায়নি বাংলাদেশ। এবার আফগানিস্তানকে হারানোর পর অসিদের বিপক্ষে ম্যাচ প- হওয়ায় টানা দুই ম্যাচেই পয়েন্ট মিলল। সেই পয়েন্ট পেয়ে খুশি হওয়ার সঙ্গে বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা বলে দিয়েছিলেন, ‘শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচটি নিয়েই এখন ভাবছি।’ লঙ্কানদের বিপক্ষে জয়ও চান মাশরাফি, ‘সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারলে জয় অসম্ভব নয়। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয় সম্ভব।’

আফগানিস্তানের মতো দলের বিপক্ষে যেখানে বাংলাদেশ ১০৫ রানের বড় ব্যবধানে জিতেছে, সেখানে এবার বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচেই নিউজিল্যান্ডের কাছে ধরাশায়ী হওয়া শ্রীলঙ্কাকে কষ্ট করেই জয় পেতে হয়েছে। মাত্র ১০ বল বাকি থাকতে জিতেছে শ্রীলঙ্কা। তাও আবার আফগানিস্তানের ছুড়ে দেয়া ২৩২ রান অতিক্রম করতে ৬ উইকেটের পতন ঘটেছে। লঙ্কানরা যেভাবে খেলছে তাতে বাংলাদেশ জয় পেয়েও যেতে পারে। যদি পর পর দুই ম্যাচেই পয়েন্ট পেয়ে যে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়ে গেছে, তা ধরে রাখা যায়।

শ্রীলঙ্কা অধিনায়ক এ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস অবশ্য আফগানিস্তানের বিপক্ষে যেভাবেই জয় আসুক, তা দলের উপকারেই আসবে মনে করছেন। বিশ্বকাপে জয়তো মিলল। এখন এ ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই মুখ্য। ম্যাথুস বলেছেন, ‘এ মুহূর্তে জয়টি অনেক নির্বার করে তুলেছে।’ এখন ম্যাথুসও বাংলাদেশকে নিয়েই ভাবতে শুরু করে দিয়েছেন। বলেছেন, ‘জয় মেলাটা অনেক জরুরী ছিল। তা মিলেছে। এখন সামনে যে ম্যাচগুলোই আসবে এ ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে।’

এ লড়াইয়ে নামতে দুই দলই শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সেরে নিচ্ছে। বাংলাদেশ দল মেলবোর্নে প্রস্তুতি নিচ্ছে। একদিন বিশ্রাম নেয়ার পর আবার নেমেছে প্রস্তুতিতে। মঙ্গলবার থেকেই নেমে পড়েছে প্রস্তুতিতে। শ্রীলঙ্কা দলও মেলবোর্নে প্রস্তুতি নেয়া শুরু করে দিয়েছে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে রবিবার ম্যাচ খেলায় লঙ্কানদের মেলবোর্ন যাত্রা হয়েছে সোমবার। লঙ্কানরাও মঙ্গলবার থেকেই নেমেছে অনুশীলনে। দুই দলই দুই দিনের অনুশীলন শেষে মাঠের লড়াইয়ে নেমে পড়বে। যে লড়াইয়ে কোনভাবে বাংলাদেশ জিতে গেলেই কোয়ার্টার ফাইনালে এক পা দিয়ে রাখবে। শ্রীলঙ্কার বেলাতেও তাই ঘটবে। তবে এখন বাংলাদেশের পয়েন্ট তালিকায় দুই ম্যাচে শ্রীলঙ্কার চেয়েও ১ পয়েন্ট বেশি আছে। ৩ পয়েন্ট যুক্ত আছে। আর শ্রীলঙ্কা ২ ম্যাচের মধ্যে ১টি জেতায় ২ পয়েন্ট পেয়েছে। দুই দলেরই বৃহস্পতিবারের ম্যাচটি হবে এবারের বিশ্বকাপে তৃতীয় ম্যাচ। যে দল জিতবে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পথে সেই দলই এগিয়ে যাবে।

বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলতে নামার আগে বিধ্বস্ত ছিল। অস্ট্রেলিয়া একাদশ, পাকিস্তান, আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে হেরেছে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কাও তেমনি জিম্বাবুইয়ের মতো দলের কাছে হেরেছে। অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে বাংলাদেশ মূল পর্বে তা শুরু থেকেই উতরে নেয়ার ইঙ্গিত দিলেও শ্রীলঙ্কা পারেনি। অবশেষে লঙ্কানদের জয় মিলেছে। সেই জয়ই শ্রীলঙ্কাকে এখন পরিবর্তনের হাওয়ায় ভাসাতে পারে। এমনই মনে করা হচ্ছে। তবে বাংলাদেশ যে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে পরপর দুই ম্যাচে পয়েন্ট পেয়েছে সেটি ক্রিকেটারদের আরও চাঙ্গা করে তুলেছে। যে চাঙ্গা ভাব সামনে যে কোন প্রতিপক্ষের জন্যই হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। নির্দিষ্ট দিনে বাংলাদেশ যে কতটা ভয়ঙ্কর দল, তা শ্রীলঙ্কা ভালভাবেই জানে। বিশ্বকাপে তো একটি বড় দলকে বাংলাদেশ হারাতে পারে, সেই সক্ষমতা বরাবরই দেখিয়েছে। ১৯৯৯ সালে পাকিস্তান, ২০০৭ সালে ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, ২০১১ সালে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছে বাংলাদেশ সেই ভীত গড়ে নিয়েছে। এখন সামনে বড় দলগুলোর মধ্যে আছে শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড। যে কোন একটি দলকে হারানোর সঙ্গে দুর্বল স্কটল্যান্ডকে হারাতে পারলেই কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা নিশ্চিত হয়ে যাবে বাংলাদেশের। বৃহস্পতিবারের ম্যাচে শ্রীলঙ্কা যে হারবে না, তা কে বলতে পারে।

বড় একটি দলকে হারানোর কোঠা লঙ্কানদের বিপক্ষে জয় দিয়েও পূরণ হতে পারে বাংলাদেশের। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আবার প্রথমবারের মতো এ দুই দল মুখোমুখি হবে। এ বিষয়টিও বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচকই হয়ে উঠতে পারে। মেলবোর্নে অবশ্য বাংলাদেশ কখনই ম্যাচ খেলেনি। তবে দলের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান বিগব্যাশে ঠিকই এ মাঠে খেলেছেন। তাই তার কাছ থেকেই মাঠের উইকেটের অবস্থা সম্পর্কে জানা যাবে। আর যে ম্যাচগুলো এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে হয়েছে এবং প্রস্তুতি নিয়ে উইকেটের সঙ্গে মানিয়ে নেয়া গেলেই হয়ে গেল। এবার শ্রীলঙ্কাকে হারানোর অর্জনটিও যুক্ত হয়ে যেতে পারে।

প্রকাশিত : ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

২৫/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: