রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

উত্তাপহীন বিশ্বকাপে হিসাব মেলানো দায়!

প্রকাশিত : ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
উত্তাপহীন বিশ্বকাপে হিসাব মেলানো দায়!
  • স্বপ্নের পরিধি বেড়ে গেছে বাংলাদেশ, আয়ারল্যান্ডের
  • জাহিদুল আলম জয়

গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা ক্রিকেট। যার পরতে পরতে ছড়িয়ে থাকে রোমাঞ্চ, উত্তেজনা, উত্তাপ আর বিনোদন। তবে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে চলমান আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ যেন প্রাণহীন, নিরুত্তাপ, আকর্ষণহীন, ঔজ্জ্বল্যহীন! এ পর্যন্ত (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৫) অনুষ্ঠিত হওয়া ম্যাচগুলোর দিকে দৃষ্টি দিলে এ সত্যতারই প্রতিফলন দেখা যাবে।

অবাক করা বিষয় হচ্ছে, এই সময়ে মোট ১৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়। এই ম্যাচটি ছাড়া বাকি ১৩টি ম্যাচেই কোন প্রতিদ্বন্দ্বীতা লক্ষ্য করা যায়নি। প্রতিটি ম্যাচেই বিজয়ী দল হেসেখেলে হারিয়েছে প্রতিপক্ষকে। যে কারণে এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের সেই আমেজ কিংবা উত্তাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। ক্রিকেট বিশ্লেষকরাও এমন অভিমত রেখেছেন।

বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত অঘটন বলতে আয়ারল্যান্ডের কাছে ৪ উইকেটে হার বিশ্বকাপের প্রথম দুই আসরের চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের। দারুণ এই জয়ে চাওয়া আরও বেড়ে গেছে আইরিশদের। তবে পরের দুই ম্যাচে দাপুটে জয়ে ভালভাবেই লড়াইয়ে ফিরেছে উইন্ডিজ। বিশেষ করে মঙ্গলবার জিম্বাবুইয়ের বিরুদ্ধে ক্রিস গেইল যা করেছেন তা রীতিমতো অবিশ্বাস্য। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম ও একমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে করেছেন ডাবল সেঞ্চুরি। ওয়েস্ট ইন্ডিজও বেশ কয়েকটি গৌরবময় রেকর্ডের মালিক হয়েছে। গেইলের অনবদ্য ব্যাটিংয়ে নিরুত্তাপ বিশ্বকাপে কিছুটা হলেও প্রাণ ফিরে এসেছে। বাংলাদেশ আগে থেকেই কোয়ার্টার ফাইনালের লক্ষ্য নিয়ে মিশন শুরু করেছে। কাজটা যে সহজ নয়, তা সবাই জানেন। তবে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানকে ১০৫ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে প্রত্যাশা পূরণের মিশন ভালভাবেই শুরু করেছেন মাশরাফি, সাকিব, মুশফিক, তামিমরা। এরপর দ্বিতীয় ম্যাচে বৃষ্টির কারণে খেলা না হওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে টাইগাররা। এতে করে দুই ম্যাচ শেষে পুল ‘এ’ তে এখন পর্যন্ত অপরাজিত থেকে সেরা আটে খেলার স্বপ্ন দেখছে লাল-সবুজের দেশ। বাংলাদেশের এই স্বপ্নপূরণ হলে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হবে বড় কোন শক্তিধর দেশকে। বাংলাদেশ, আয়ারল্যান্ডের মতো মাঝারি শক্তির দেশগুলোর প্রত্যাশার চাহিদা বেড়ে যাওয়া, প্রতিটি ম্যাচই প্রতিদ্বন্দ্বীতাহীন হওয়া এসব কারণে এবারের একাদশতম বিশ্বকাপ অনেকটাই ম্যাড়ম্যাড়ে হচ্ছে। যে কারণে উত্তাপহীন বিশ্বকাপে হিসাব মেলানোও দুষ্কর হয়ে যাচ্ছে!

বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের নামের সঙ্গে ‘সেমির দল’ টাইটেলটা যেন আষ্টেপৃষ্ঠে লেগে আছে। গত দশটি বিশ্বকাপের মধ্যে ছয়বার সেমিতে উঠে এ সত্যতারই প্রমাণ রেখেছে ব্ল্যাকক্যাপসরা। ২০১১ সালেও একপ্রকার আলোচনার বাইরে থেকে সেরা চারে নাম লেখায় ড্যানিয়েল ভেট্টরির দল। অথচ বিশ্বকাপ শুরুর আগে কিউইদের স্বপ্ন ধোয়াচ্ছন্ন ছিল। কিন্তু মূলমঞ্চে এসে তারা ফিরে পায় ছন্দ। বিশেষ করে শেষ আটের লড়াইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে অবলীলায় বধ করে তারা। এরপর সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কার কাছে হারলেও প্রশংসিত হয় কিউইদের পারফরমেন্স।

আগের দশ বিশ্বকাপের মধ্যে ছয়বার সেমিফাইনাল ও দুইবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলে নিউজিল্যান্ড। কিন্তু দলটির দুর্ভাগ্য, শেষ চারের গেরো ভাঙতে পারেনি কখনও। অর্থাৎ শিরোপা দূরে থাক, একবারও ফাইনাল খেলতে পারেনি দেশটি। তবে এবারের আসরে সে সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছে জোরালোভাবে। বিশ্বকাপের আগে থেকেই দুর্দান্ত ফর্মে আছে কিউইরা। বিশ্বকাপেও সে ধারা অব্যাহত রেখেছে। এখন পর্যন্ত পুল ‘এ’ থেকে টানা তিনটি ম্যাচেই প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দিয়েছে নিউজিল্যান্ড। প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৯৮ রানে, দ্বিতীয় ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ৩ উইকেটে ও তৃতীয় ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ৮ উইকেটে উড়িয়ে দেয় যৌথ আয়োজক নিউজিল্যান্ড। তিন জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা একপ্রকার নিশ্চিত করেছে ব্রেন্ডন ম্যাককুলামের দল। এবার কিউইদের যে পারফরমেন্স তাতে করে অনেক বোদ্ধাই তাদের হাতে শিরোপা দেখছেন। সেমির বাঁধা ডিঙ্গিয়ে দুরন্ত নিউজিল্যান্ড এবার আক্ষেপ ঘোচাতে পারে কিনা সেটাই দেখার।

পুল ‘এ’ তে দুই ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে যৌথ আয়োজকের এক দেশ অস্ট্রেলিয়া। নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ১১১ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে মিশন শুরু করে সাবেক চ্যাম্পিয়নরা। তবে তাদের দুর্ভাগ্য, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে খেলতে পারেনি। যে কারণে পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয়েছে ক্লার্ক, ওয়ার্নার, জনসনদের। এই গ্রুপে অস্ট্রেলিয়ার সমান ৩ পয়েন্ট নিয়ে রানরেটের পার্থক্যে তৃতীয় স্থানে আছে বাংলাদেশ। আফগানদের উড়িয়ে দেয়ার পর অসিদের বিরুদ্ধে এক পয়েন্ট পেয়ে স্বপ্নের পরিধি বেড়ে গেছে টাইগারদের। এখন প্রত্যাশিতভাবে স্কটল্যান্ডকে হারাতে পারলে ও শ্রীলঙ্কা কিংবা ইংল্যান্ডের যে কোন একটি দেশকে কাবু করতে পারলে শেষ আটে খেলার স্বপ্নপূরণ হবে বাংলাদেশের।

দুই ম্যাচে একটি করে জয় ও হার নিয়ে চার নম্বরে আছে সর্বশেষ দুই বিশ্বকাপের রানার্সআপ শ্রীলঙ্কা। টানা দুই হারের পর স্বস্তির এক জয়ে পাঁচ নম্বরে ক্রিকেটের জনক ইংল্যান্ড। ক্রিকেট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পুল ‘এ’ থেকে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াই দারুণ জমজমাট হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের পয়েন্ট ভাগাভাগি হওয়া ‘ফ্যাক্টর’ হতে পারে বলে অনেকের ধারণা।

পুল ‘বি’ থেকে সেরা আটে যাওয়ার দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে গেছে ভারত। টানা দুই ম্যাচে প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দিয়েছে বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। নিজেদের প্রথম ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে ৭৬ রানে হারায় মহেন্দ্র সিং ধোনির দল। এরপর দ্বিতীয় ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে উড়িয়ে দেয় ১৩০ রানের বিশাল ব্যবধানে। শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে শুরুটা দারুণ হওয়ায় আত্মবিশ্বাসও বেড়েছে বিরাট কোহলি, শিখর ধাওয়ানদের। ভারতের ব্যাটিং বিশ্বসেরা, এটা সবাই মানেন। চলমান আসরেও এ স্বাক্ষর রেখে চলেছেন দেশটির ব্যাটসম্যানরা। প্রতিটি ম্যাচেই কেউ না কেউ জ্বলে উঠছেন। ভারতের বোলিং নিয়ে চিন্তিত ছিলেন অনেকে। তবে প্রথম দুই ম্যাচে চিন্তা অনেকটাই দূর করেছেন উমেশ যাদব, মোহাম্মদ শামি, রবিচন্দ্রন অশ্বিনরা। যে কারণে ১৯৮৩ ও ২০১১ আসরের চ্যাম্পিয়নরা এবার তৃতীয়বারের মতো বিশ্বসেরা হওয়ার স্বপ্ন বুনছে।

এখন পর্যন্ত যে অবস্থা, তাতে পুল ‘বি’ থেকে ভারতের সেরা আটে নাম লেখানো সময়ের ব্যাপার মনে হচ্ছে। তবে আর ছয়টি দেশের মধ্য থেকে কোন তিনটি দল নকআউট পর্বের টিকেট পাবে তা নিশ্চিত নয়। এক্ষেত্রে লড়াইটা দারুণ জমে উঠতে পারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুইয়ে, আয়ারল্যান্ড ও পাকিস্তানের মধ্যে। মঙ্গলবারের ম্যাচের আগ পর্যন্ত পাকিরা বাদে বাকি চারটি দলই ২ পয়েন্ট করে পেয়েছে। আর ১৯৯২ আসরের চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান দু’টি ম্যাচেই হেরে গ্রুপের তলানীতে। এই গ্রুপ থেকে তাই কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতের সঙ্গী হবে কোন তিন দেশ সেদিকে দৃষ্টি সবার।

প্রকাশিত : ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

২৫/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: