কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

মৌলবাদ-জঙ্গীবাদ খালেদা জিয়ার জাতীয়তাবাদ

প্রকাশিত : ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর

লিবার্টি হচ্ছে প্রতিটি ব্যক্তির হেরিটেজ। এই হেরিটেজের বিরোধী যত ভায়োলেন্স : যত রকম ভায়োলেন্স মানুষ মরে তৈরি করেছে। ভায়োলেন্সের পক্ষে যেমন মানুষ, ভায়োলেন্সের বিরুদ্ধে তেমন মানুষ। মানুষ প্রণীত এই ভায়োলেন্স মানুষকে গিলে খায়। ভায়োলেন্সের অন্য নাম ক্ষমতা : ক্ষমতা মাত্র অবৈধ। ক্ষমতার বিরোধী লিবার্টি; লিবার্টি যাতে মানুষ মাত্রের হেরিটেজ না হতে পারে তার জন্য বাংলাদেশে মৌলবাদ ও জঙ্গীবাদ একত্রে এক স্ট্র্যাটেজি গ্রহণ করেছে। এই স্ট্র্যাটেজির যুক্ত আবার সংবিধানবিরোধী ক্ষমতালোভী এক চক্র।

মৌলবাদ-জঙ্গীবাদ এবং সংবিধানবিরোধী চক্র : সবার অবস্থান বাংলাদেশের ইতিহাসের বাইরে। এই অবস্থানের সঙ্গে বাংলাদেশ যে রাষ্ট্র গঠনের প্রক্রিয়া থেকে উৎসারিত এবং ধনতান্ত্রিক ঔপনিবেশিক সব উন্নয়নের ফল, তার সম্পর্ক নেই। বাংলাদেশ ব্রিটিশ আমল থেকে এবং পাকিস্তান আমল থেকে এবং ঔপনিবেশিক-উত্তর বাংলাদেশ থেকে একটি বিশেষ ধরনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ফর্ম তৈরি করেছে। ফর্মটি হচ্ছে সংবিধানবিরোধী ফর্ম যে ফর্ম, জঙ্গীবাদী-মৌলবাদী-সাংবিধানিক ফর্ম।

মৌলবাদ-জঙ্গীবাদ এবং সংবিধানবিরোধী সামরিকবাদ এই সবকিছু প্রত্যাখ্যান করেছে : বাংলাদেশের ইতিহাসকে দক্ষিণ এশিয়ার মুসলমানদের রাষ্ট্র গঠনের লড়াইয়ের সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং সংবিধানবিরোধী সামরিকবাদী মধ্য এশিয়ার মুসলমানদের জাতীয়তাবাদী লড়াইয়ের অন্তর্গত করেছে। সেজন্য এই দুই ইতিহাস গঠন ও রাষ্ট্র গঠন পরস্পরবিরোধী অবস্থান নিয়েছে। এই অবস্থানের দরুন মৌলবাদ-জঙ্গীবাদ-সংবিধানবিরোধী সামরিকবাদ বাংলাদেশের নব্য-এলিট ইতিহাসের উৎসারণ : কৃষক আন্দোলনের ইতিহাস, স্থানীয় ইতিহাস, শ্রেণী ও কলোনাইজেশনের জটিলতা, নারীবাদী ইতিহাস এবং নারীবাদী আন্দোলন তাদের ইতিহাস থেকে বাদ দিয়েছে।

মৌলবাদ-জঙ্গীবাদ-সামরিকবাদ এসব বিভিন্ন উপাদান থেকে একটি উপাদান গ্রহণ করেছে। সেটি হচ্ছে ধর্ম, একটি এথনিক জাতিগোষ্ঠীর ক্রিয়াকলাপ : মুসলমান। এভাবে রাষ্ট্র গঠনের আখ্যানে একটি ধর্ম, একটি জাতি এবং জাতি-ধর্মের স্বতন্ত্র্যতা বড় করেছে মৌলবাদ-জঙ্গীবাদ-সামরিকবাদ। তার লড়াই আধুনিক গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে, আধুনিক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে, বিভিন্ন ধর্ম ও জাতির বিরুদ্ধে। এই লড়াইয়ের একদিকে আছে প্রবল জাতীয়তাবাদী মডার্নিটি, অন্যদিকে আছে ইসলামিক সাম্রাজ্যবাদী আখ্যান। মৌলবাদ-জঙ্গীবাদ-সামরিকবাদ সচেষ্ট এই ইসলামিক সাম্রাজ্যবাদী আখ্যানের ভেতরে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সাম্প্রদায়িক ফর্ম এবং ভিন্নতাভিত্তিক এথনিক এক্সকু¬সিজন ঢুকিয়ে দিতে নাগরিকত্বের মধ্যে প্রোথিত সমতার কনসেপ্ট উধাও করে দিতে।

মডার্নিটি ও রাষ্ট্র গঠনের অবস্থান থেকে ইসলামিক ঐতিহ্য ও সেকটারিয়ালিজমের দূরত্ব অনেক দূর। মৌলবাদের ও জঙ্গীবাদের ন্যারেটিভ কাঠামো এবং খালেদা জিয়ার জাতীয়তার ন্যারেটিভ কাঠামো একেবারে ভিন্ন। তার দরুন মৌলবাদ-জঙ্গীবাদও খালেদা জিয়া প্রণীত জাতীয়তা অন্য সমাজ গ্রুপ, অন্য ধর্মজ গ্রুপকে অবিরত অসম সম্পর্কের মাধ্যমে অধস্তন করেছে। আমরা যখন কৃষকদের লড়াই, নারীবাদী ইতিহাস কিংবা নন-এলিট সাংস্কৃতিক ফর্মের কথা বলি, তখন মৌলবাদী জঙ্গীরা এবং খালেদা জিয়ারা আল্লাহর আইন কিংবা বেহেশতি সংঘাত কিংবা মানুষের তৈরি আইনের নিকৃষ্টতা প্রমাণে সচেষ্ট হয়ে ওঠে।

বাংলাদেশের মৌলবাদ ইসলামের দূরবর্তী অঞ্চল, এই অঞ্চলটি ধারাবাহিকভাবে ইসলামিক ধর্মজ সাম্রাজ্যের অন্তর্গত হয়েছে : সাম্রাজ্যের অংশ হিসেবে ও কলোনি হিসেবে। বাংলাদেশ ও অন্য ইসলামিক দেশসমূহের সম্পর্কের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ উন্মোচিত করেছে ধনতান্ত্রিক কলোনিয়াল অব-উন্নয়ন। আবার রাষ্ট্র গঠনের প্রক্রিয়ার দিক থেকে বাংলাদেশে উন্মোচিত রয়েছে অভ্যন্তরীণ কলোনিয়ালিজমের ধারা : মৌলবাদ-জঙ্গীবাদ-খালেদা জিয়ার জাতীয়তাবাদ অভ্যন্তরীণ কলোনিয়ালিজমকে শক্তিশালী করেছে। মৌলবাদ-জঙ্গীবাদ-খালেদা জিয়ার জাতীয়তাবাদ সমাজ গঠন ও রাষ্ট্র গঠনের দিক থেকে বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার ও মধ্য এশিয়ার রাজনীতির মধ্যে লুপ্ত করার চেষ্টা করেছে। এই চেষ্টা থেকে উদ্ভূত হয়েছে হিন্দু ভারতের সঙ্গে মুসলমান বাংলাদেশের সম্পর্ক, বৌদ্ধ মিয়ানমারের সঙ্গে মুসলমান বাংলাদেশের সম্পর্ক। মৌলবাদ-জঙ্গীবাদ-খালেদা জিয়ার জাতীয়তাবাদ এসব সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক ধরনের ধনতান্ত্রিক কলোনিয়ালিজম ব্যবহার করেছে।

লেখক : কথাসাহিত্যিক, গবেষক ও শিক্ষাবিদ

প্রকাশিত : ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

২৫/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: