আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

সিডনির মেলব্যাগ ॥ ঐক্য ও দেশপ্রেম

প্রকাশিত : ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • অজয় দাশগুপ্ত

বাংলাদেশের জন্য আমাদের অন্তরের টান না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন হতো। একটা কথা তো সত্য, দেশ যত মায়ার বা ভালবাসার হোক শান্তি আসেনি এখনও। সময়ের ব্যবধানে তার গুরুত্ব বোঝার পরও আমাদের ভেতর না আছে অনুশোচনা, না কোন উত্তরণ প্রক্রিয়া। বাংলাদেশের রাজনীতি আজ এমন হিংস্র, এমন ঔদ্ধত্য, ঐক্য, ধৈর্য-সহিষ্ণুতা- এসব কথা কারও মনে ছায়াপাত করে না। মনে হয় কোন বিদেশী ইন্ধন আর অন্যদেশের নাগরিকরাই যেন আগুন দিয়ে পুড়িয়ে জান শেষ করে কয়লা বানিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু এটাই শেষ কথা না, হতেও পারে না। তার প্রমাণ মিলছে বিশ্বকাপের খেলায়। অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরা জীবনে এত রঙিন মানুষ একসঙ্গে দেখেনি। মানুকা ওভাল নামে পরিচিত এ দেশের ছোট স্টেডিয়ামটি ভরিয়ে তোলা ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ ক্যাঙ্গারুর দেশের মানুষদের তাক লাগিয়ে দিয়েছে। বিদেশীদের তাকলাগানো এই ঐক্য ও প্রীতির বন্ধনে না ছিল কোন ধর্মীয় পরিচয়, না কোন রাজনৈতিক ব্যবধান। যে দেশটি পরিকল্পিত হিংসার আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে, সন্ত্রাসীদের রাজনৈতিক সহিংসতায় ধুঁকছে, ধর্মান্ধ রাজনীতির বলি হয়ে স্থবির হয়ে পড়ছে, তার মানুষরা যেন কোন এক ম্যাজিকে ঐক্যবদ্ধ পর্বতের মতো হয়ে উঠেছিল। প্রমাণ করে দিল দেশে যা চলছে তার পেছনে ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা ব্যতীত আসলে কোন সমর্থন নেই। খেলার দু’দিন পর স্থানীয় বাংলাদেশী অঞ্চলে গিয়ে দেখি এখনও জয়-জয়কারের প্রবাহ চলছে, তরুণ-তরুণীরা গাড়িতে বাংলাদেশের পতাকা লাগিয়ে ঘুরছে। আমার সন্তানও বাড়ির দেয়াল থেকে খুলে নিয়ে গেছে লাল-সবুজের নিশান। দেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী বলা উচিত সম্প্রদায় খ্রীস্টানদের আগ্রহ দেখে আমি রীতিমতো রোমাঞ্চিত, দল বেঁধে গাড়ি সাজিয়ে বাংলাদেশকে ধারণ করে এমন যাত্রা কী প্রমাণ করে? আহ্বান করি রাজাকারদের, চোখ খুলতে বলি প্রবাসে ধর্ম ও আচরণগত কারণে মৌলবাদীদের। যারা ভাবেন, এই দেশে আর কোন দিন প্রগতি ফিরে আসবে না। সব আশা-ভরসা শেষ, যে সব সংখ্যালঘু কপাল চাপড়ে অন্যদেশে পাড়ি দিতে ভালবাসেন বা প্রবাসে দিনরাত নিজের দেশকে অন্যায়ভাবে শাপ-শাপান্ত করে শান্তি পান, এটা তাদের জন্যও লেসন বটে। অস্থিতিশীল ও অকার্যকর বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এখন এখানকার জনমতও সংগঠিত হয়ে উঠছে। গত সপ্তায় অস্ট্রেলিয়ান কয়েক বুদ্ধিজীবীর সঙ্গে আলাপের প্রেক্ষিতে আমি নিশ্চিত, তাঁরা এখন ঘটনার মূল ও নেপথ্যচারীদের চিহ্নিত করতে পারছেন। অধ্যাপক রিভস বহুকাল থেকেই বাংলাদেশপ্রেমী ড. ইউনূসবান্ধব এই অধ্যাপক এখন ভিন্ন সুরে কথা বলছেন, তাঁর পর্যালোচনায় মৌলবাদ ও জঙ্গীবাদীরাই বাংলাদেশের ঘটমান বাস্তবতার জন্য দায়ী। সেদিন যুবলীগ নেতা এক যুবক তেড়ে-ফুঁড়ে টেলিফোনে দু’কথা শুনিয়ে ছাড়ল। তার অভিযোগ আমরা অর্থাৎ অগ্রজরাই নাকি সব কিছুর জন্য দায়ী। তার ক্ষোভ ও উষ্মার কারণ ছিল সিডনির মিডিয়া অর্থাৎ বাংলাদেশী প্রকাশনা টিভি ও রেডিওর জগত ধীরে ধীরে বিএনপি-জামায়াতের দখলে চলে যাচ্ছে। অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য কিছু নয়। ইতোপূর্বে মোসাদ্দেক আলী ফালুর আগমন। জামায়াত-বিএনপিঘেঁষা টিভি চ্যানেলের প্রচার অপপ্রচার বাংলা পত্রিকায় তারেক ও খালেদা জিয়ার জন্য মায়াকান্না দেখে এমন মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক। তাছাড়া যুবকটির অভিযোগও ফেলনা নয়। স্থানীয় আওয়ামী লীগের এমন সব নেতা যাদের কাছে জামায়াত-শিবির বা বিএনপি কোন ফ্যাক্টর না। তাদের হিট লিস্টজুড়ে আছে নিজেদের মানুষ। কাকে মঞ্চে তুলবেন, কাকে নামাবেন আর কে কার বড় দুশমন সে চিন্তায় দিন গুজরান করলে এসব দুর্ভাবনা বা অঘটন চোখে বা মনে ছায়া ফেলবে কিভাবে? ফলে বিএনপি-জামায়াতের বাড়ন্ত তো হবেই।

তারপরও মানুষই ভরসা আওয়ামী লীগ বা কোন সংগঠনের ডাক বা ছায়া ছাড়াই তারা ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ দেখিয়ে দিয়েছে। আমাদের দেশের মানুষ এত সরল, এত আবেগপ্রবণ আর দেশপ্রেমী, কিভাবে যে তাদের ভেঙ্গে খাওয়ার চিন্তা মাথায় ঢোকে ভাবলেই লজ্জিত হই। লজ্জাহীন সুশীল নামধারী বদলে যাওয়া কিছু মানুষ ক্ষমতালোভী রাজনৈতিক দল আর সন্ত্রাসীরা দেশের প্রতীক নয়। আশ্চর্য হয়ে দেখি কোনদিন বাংলাদেশে যায়নি বা গেলেও বড় হয়ে ওঠেনি, তেমনভাবে থাকেনি এমন তারুণ্যেও এই দেশ এই দেশের মায়া বড় এক ছায়া বিস্তার করে আছে। সে ভরসা এখানে অম্লান। সেটাই নতুন করে স্বপ্ন দেখাবে আমাদের।

dasguptaajoy@hotmail.com

প্রকাশিত : ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

২৫/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: