কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

সাফল্য পেতে হলে শেষ মাথায় রেখে কাজ

প্রকাশিত : ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

শেষ মাথায় রেখে কাজ শুরু করার মূল বক্তব্য হলো নিজের গন্তব্য সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা। তার অর্থ আমরা কোথায় পৌঁছাতে চাই এবং বর্তমানে আমাদের অবস্থান কোথায়? এবং সেই কাক্সিক্ষত পথের সঠিক পদক্ষেপসমূহ কি?

প্রচুর কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকা কিংবা পরিশ্রম কি আদৌ সাফল্যের চাবিকাঠি, নাকি বৃথা প-শ্রম। আমাদের কাজ, মেধা, পরিশ্রম সব বিফলে যায় যখন আমরা সঠিক পথ খুঁজে নিতে ব্যর্থ হই। জীবনের মই সঠিক দেয়ালে আছে কিনা, তা অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাপার। অন্যথায় দেখব, সব পদক্ষেপ ঠিক, কিন্তু পথটিই ভুল। এই কারণে নিজের গন্তব্য সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা খুবই প্রয়োজনীয়।

পরিকল্পনার দুটি ধাপ

একটি হলো মানসিক এবং অপরটি হলো শারীরিক।

উদাহরণ হিসেবে একটি বাড়ি তৈরির কথা বলা যাক। আমরা একটি বাড়ি তৈরি করার পূর্বে তার একটি পরিকল্পনা করি। আর্কিটেক্ট দিয়ে বাড়ির নকশা তৈরি হলো এর প্রথম ধাপ। আমরা যে রকম বাড়ি চাই, তার একটি নমুনা প্রথমেই আমাদের ধারণায় থাকে। এরপর নক্সাকারকে নিজের পছন্দের ব্যাপারগুলো খুলে বলি। তিনি নিজ শৈল্পিক চেষ্টায় কল্পনার সেই বাড়ির নকশা আমদের সামনে তুলে ধরেন। এরপর সেই নকশা অনুযায়ী বাড়ি তৈরির কাজে হাত দেই। বাড়ি করার সময় যখন পিলার, ছাদ এসব তৈরি হতে থাকে তখন সেই নকশার সঙ্গে কাজে অগ্রগতি কিংবা সামঞ্জস্যা মিলিয়ে নিই। এভাবেই একদিন কল্পনার সেই বাড়িটি ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ দালানে রূপ নেয়। উপরোক্ত উদাহরণের সঙ্গে নিজেদের কল্পনা এবং কাজকে মিলিয়ে নেই। প্রথমে কাজের পরিকল্পনা, এরপর সেই অনুযায়ী কাজ।

প্রধান বিষয়সমূহের পরিকল্পনা

নিজস্ব কার্যপরিকল্পনা তৈরি করার পূর্বে আমাদের মাথায় রাখা উচিত, কি কি বিষয় আমাদের চিন্তাভাবনা এবং কাজকে প্রভাবিত করে। আমাদের চিন্তাভাবনার কেন্দ্রবিন্দুতে কিছু ব্যাপার আছে, যা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রভাবিত করে। আর সেই সব বিষয় হলোÑ

নিরাপত্তা হলো নিজস্ব সম্মানবোধ, ব্যক্তিগত আবেগ, ব্যক্তিগত পরিচয় এবং মৌলিক ক্ষমতাসমূহ। নির্দেশনা হলো জীবনের গন্তব্যের গতিপথ, যে পথ ধরে আমরা হাঁটতে চাই। নিজের ব্যক্তিগত কর্মপরিকল্পনা আমাদের সাহায্য করে, সঠিক গন্তব্যে পৌঁছাতে। প্রজ্ঞা হলো জীবনের নির্দেশনা, নিজস্ব বোধ, যা আমাদের ভারসাম্য রক্ষায় সাহায্য করে। উপলব্ধি, বিচার বিশ্লেষণ এবং সচেতনতা প্রজ্ঞার অন্যতম উপাদান।

আর ক্ষমতা হলো কাজ করার সামর্থ্য। নিজের শক্তি এবং ইচ্ছা দ্বারা কাজ সম্পাদনের মানসিকতা। পছন্দ এবং সিদ্ধান্ত নেয়ার মূল্য শক্তিই হলো ক্ষমতা।

উপরোক্ত চার প্রধান বিষয় : নিরাপত্তা, নির্দেশনা, প্রজ্ঞা এবং ক্ষমতা প্রত্যেকটি একে অপরের উপর ক্রিয়াশীল।

নিরাপত্তা এবং নির্দেশনা নিজেকে প্রজ্ঞাবান করতে সাহায্য করে। আবার সঠিক প্রজ্ঞা আমাদের কাজের ক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি করে। যখন উপরোক্ত চার উৎপাদক সমন্বয়ভাবে আমাদের মধ্যে কাজ করে, তখন এর সুফল আমরা ভোগ করি। এসব ব্যাপার আমাদের একজন ব্যক্তিবান মানুষে পরিণত করে। এবং ভারসাম্যপূর্ণ একটি সুন্দর জীবন উপভোগ করতে সাহায্য করে।

উপরোক্ত বিষয়ের ভারসাম্য ও সামঞ্জস্য, সম্পূর্ণতা এবং ইতিবাচক প্রভাব আমাদের জীবনের প্রতিটি কাজকে যে আরও সুন্দর এবং পরিকল্পিত করবে, সন্দেহ নেই।

ডিপ্রজন্ম ডেস্ক

প্রকাশিত : ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

২৪/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: