মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

গেটম্যান ও আনসারের বুদ্ধিমত্তায় ২ ট্রেন রক্ষা

প্রকাশিত : ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • স্টেশন মাস্টারের গাফিলতি

নিজস্ব সংবাদদাতা, মির্জাপুর, ২৩ ফেব্রুয়ারি ॥ মির্জাপুরে অল্পের জন্য রক্ষা পেল দুটি ট্রেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুই গেটম্যান ও চার আনসার সদস্য দুর্ঘটনা থেকে ট্রেন দুটিকে রক্ষা করেন। মির্জাপুর স্টেশন মাস্টার সঠিক সময়ে ফোন সিগন্যাল না দেয়ায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার ধেরুয়া রেলক্রসিংয়ে মাত্র ৫ মিনিটের ব্যবধানে বেরিয়ার নামানো ছাড়াই দুটি ট্রেন অতিক্রম করে। এ সময় ওই দুই গেটম্যান ও চার আনসার সদস্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়কে চলাচলকারী উভয় পাশের যানবাহন হাত উঁচিয়ে থামিয়ে দেন। এতে তারা বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে ট্রেন দুটিকে রক্ষা করেন বলে জানা গেছে। তবে স্টেশন মাস্টার জানান, ধেরুয়া রেলক্রসিংয়ে সিগন্যাল বাতির ত্রুটি দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে মির্জাপুর স্টেশন মাস্টার আফসার উদ্দিন ও মেইনটেনার মোশারফ হোসেনের মধ্যে বাগ্বিত-াসহ অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে। জানা গেছে, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা দিনাজপুরগামী দ্রুতযান ট্রেনটিকে সোমবার সকাল ১০টা ১০ মিনিটের দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর ধেরুয়ায় ফোন সিগন্যাল ছাড়াই ট্রেনটি আসতে দেখে রেল ক্রসিংয়ে কর্তব্যরত গেটম্যান ও আনসার সদস্যরা। গেটম্যান মনির ও ইসমাইল হোসেন বেরিয়ার (গেটবার) না ফেলতে পেরে কর্তব্যরত অপর চার আনসার সদস্য পিসি আব্দুল মালেক, আলহাজ মিয়া, আব্দুর রহিম ও মেহেদী হাসানকে নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়কের মাঝখানে দাঁড়িয়ে হাত উঁচিয়ে যানবাহন থামিয়ে দেন। ট্রেনটি নির্বিঘেœ রেল ক্রসিং পার হওয়ার পর গেটম্যান মনির হোসেন মির্জাপুর স্টেশন মাস্টার আফসার উদ্দিনকে সিগন্যাল না দেয়ার কারণ জানতে ফোন করেন। এ সময় কিছু বুঝে উঠার আগেই দেখতে পান চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী লোকান ট্রেনটিও ধেরুয়া এলাকায় এসে পড়েছে। তখন দৌড়ে গিয়ে একই পদ্ধতিতে দুই গেটম্যান ও চার আনাসার সদস্য মহাসড়কের মাঝখানে দাঁড়িয়ে দ্রুতগামী ট্রেনটিকে লেবেল ক্রসিং অতিক্রম করান। মির্জাপুর স্টেশন মাস্টার আফসার উদ্দিন বলেন, ধেরুয়া রেল ক্রসিংয়ের সিগন্যাল বাতির ত্রুটি দেখা দিয়েছে। ধেরুয়া রেল ক্রসিংয়ে গেটম্যানকে ট্রেন আসা যাওয়ার বিষয়টি ফোনে কেন জানানো হয়নি প্রশ্ন করা হলে তিনি এর সঠিক জবাব দিতে পারেননি।

মির্জাপুর স্টেশনের মেইনটেনার মোশারফ হোসেনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, স্টেশন মাস্টার টেলিফোনে ট্রেন আসা যাওয়ার সিগন্যাল দিবে রেল ক্রসিংয়ের গেটম্যানকে। টেলিফোন সিগন্যাল পেয়ে গেটম্যান বেরিয়ার ফেলবে। এই কাজটির সঙ্গে সিগন্যাল বাতির ত্রুটি বা নষ্ট হওয়ার কোন সম্পর্ক নেই বলে তিনি জানান। স্টেশন মাস্টার নিজের দোষ অন্যের ওপর চাপানোর জন্য আমাকে লাঞ্ছিতও করেছেন বলে তিনি জানান।

প্রকাশিত : ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

২৪/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



ব্রেকিং নিউজ: