মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানায় ইঞ্জিন মেরামত অর্ধেকে নেমে এসেছে

প্রকাশিত : ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

শ আ ম হায়দার, পার্বতীপুর ॥ দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত রেলওয়ে কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানায় উৎপাদন প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। অপ্রতুল অর্থ বরাদ্দ, লোকবলের অভাব ও চট্টগ্রাম পাহাড়তলীর প্রধান সরঞ্জাম স্টোর থেকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সরবরাহে বিলম্ব হওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী দেশের একমাত্র এই কারখানাটি ডিজেল চালিত রেলওয়ের লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) মেরামত করতে পারছে না বলে জানা গেছে। কেলোকা(কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা) সূত্র অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে ২৪ টি ইঞ্জিন মেরামতের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হলেও গত জুলাই থেকে চলতি ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৮ মাসে মেরামত হয়েছে মাত্র ১০ টি। আগামী জুন পর্যন্ত মেরামত হতে পারে ৭ টি লোকোমোটিভ। গত ২০১২-১৩ ও ২০১৩-১৪ দুই অর্থবছরে মেরামত হয়েছিল ১৬ টি। অথচ ২০১১-১২ অর্থবছরে মেরামত করা হয় ২৮ টি লোকোমোটিভ। রেলসূত্র মতে, রেলওয়েতে বর্তমানে লোকোমোটিভ রয়েছে ২৬৪ টি। এসব ইঞ্জিন প্রতি ছয় বছর পর পর একবার মেরামত বা জেনারেল ওভারহলিং করার নিয়ম। তারমধ্যে মেরামতের অপেক্ষায় থাকা ১০৬ টি লোকোমোটিভ মালামাল ও অর্থ সঙ্কটের কারণে মেরামত করা সম্ভব হয়নি। তাছাড়াও এসব ইঞ্জিনের মধ্যে ৭০ ভাগ আয়ুষ্কাল উত্তীর্ণ ও ৩০ ভাগ মেয়াদ উত্তীর্ণ। চলছে ঝুঁকির মধ্যে। ক্রমান্বয়ে ইঞ্জিন অকেজো হয়ে পড়লে সারাদেশের ট্রেন চলাচলে বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলে আশঙঙ্কা করা হয়েছে। সূত্রমতে ইঞ্জিন মেরামতে ব্যবহৃত ৯৯ শতাংশ যন্ত্রাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। গত ২০১১-১২ অর্থবছরে কেলোকা ৭২ টি নতুন ট্রাকশন মোটরের জন্য চাহিদাপত্র দিলেও এখন পর্যন্ত তা পাওয়া যায়নি। বিদ্যুত সঞ্চালনের জন্য প্রায় প্রতিটি ইঞ্জিনে ৬ টি ট্রাকশন মোটর থাকে। তবে সে অনুযায়ী যত সংখ্যক থাকার কথা তা নেই। অকেজোর স্থলে নতুন ট্রাকশন মোটর পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হয়নি। যার ফলে এভাবেই চলছে লোকোমোটিভগুলো। সূত্রমতে কারখানার স্বাভাবিক মেরামত প্রক্রিয়া চালু রাখতে প্রতি অর্থবছরে কমপক্ষে ৭২ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রয়োজন। সেখানে চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে মাত্র ২০ কোটি টাকা। ৬৮১ পদের বিপরীতে রেল কর্মী রয়েছে ৪৪১ জন। এ সমস্যার পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে চট্টগ্রামের পাহাড়তলীর প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক কার্যালয় থেকে যন্ত্রাংশ সরবরাহের ক্ষেত্রে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা। প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের চাহিদাপত্র দিয়ে সি সি এস( প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক কার্যালয়) কে চিঠি দিলে সেখান থেকে যন্ত্রাংশ পেতে লাগে দীর্ঘ সময়। তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, কেলোকার জন্য কিছু যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে প্রধান সরঞ্জাম স্টোরে আসে ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে। সেই মালামাল চট্টগ্রাম থেকে এখানে (কেলোকা) এসে পৌঁছে ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে, ১১ মাস পরে। এছাড়াও সঠিক বাজেট বরাদ্দ এবং মালামাল ক্রয় প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্তহীনতার কারণে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানা গেছে। সমস্যার জটগুলো দূরীভূত করে সিসিএসকে পুনর্বিন্যাস করতে হবে। আধুনিক ও গতিশীল করতে হবে মালামাল ক্রয় ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে। তা নাহলে যেভাবে কেলোকা চলছে তা অব্যাহত থাকলে আগামীতে এই কারখানার উৎপাদন আরও খারাপ পর্যায়ে যাবে; যা জাতীয়ভাবে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। এমন কথা জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পশ্চিম রেলের দায়িত্বশীল কতিপয় কর্মকর্তা।

প্রকাশিত : ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

২৪/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: