মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

নৃশংস না হলে বিএনপি-জামায়াত করা সম্ভব নয়

প্রকাশিত : ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • মুনতাসীর মামুন

(২৩ ফেব্রুয়ারি ‘চতুরঙ্গ’ পাতার পর)

We fail to understand hwo the accused Subhan being a Bengali Muslim actively aided, abetted and facilitated the commission of such crimes with extreme cruelty against the non combatant civilians of his own locality. Did it match to humanity.

সাতবাড়িয়ার আওয়ামী লীগ নেতা মহিউদ্দীন প্রামাণিককে একজন পাকিস্তানী সৈন্য সুবহানের নির্দেশে গুলি করে হত্যা করে। সুবহান তখন মৃত প্রামাণিকের শরীরে লাথি মারতে মারতে বলে- দ্যাখ, জয় বাংলা কেমন দ্যাখ। আদালত প্রশ্ন রাখেন- কোন্ ধরনের ইসলামী দলের নেতারা এমন কাজ করতে পারে? এ কারণেই উপসংহারে পৌঁছা যায় জামায়াত একটি অপরাধী সংগঠনঅ “The accusedi rote thus impels the conclusion that Jamaat to which the accused Subhan belonged was a criminal organi“ation.

প্রায় সব রায়েই জামায়াতকে অপরাধী বা ক্রিমিনাল সংগঠন বলা হয়েছে। আদালত তার রাজনৈতিক নিবন্ধনও বাতিল করেছে। সেজন্য প্রশ্ন জাগছে, সরকার ক্রিমিনালদের কেন রাজনীতি করতে দিচ্ছে? এমন প্রশ্নও উঠছে, সরকারের কি কোন স্বার্থ আছে এই ক্রিমিনালদের প্রকেটশন দেয়ার? সরকারকে নানা দিক সামলাতে হয়, নানা রকম সমঝোতা করতে হয়, সে সব সবার জানা। কিন্তু তাই বলে আদালত বর্ণিত ক্রিমিনালদের কেন প্রটেকশন দিতে হবে, তা বোধগম্য নয়।

এ রায়গুলো আমাদের লুপ্ত ইতিহাসের পুনরুজ্জীবন ঘটাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে বীরত্বগাথা যেভাবে উঠে এসেছে নির্যাতন বা গণহত্যার বিষয়টি তেমনভাবে আসেনি। মুক্তিযুদ্ধ যে বিশ্বব্যাপী সাধারণ মানুষের সমর্থন পেয়েছিল তার অন্যতম কারণ নির্যাতন [শরণার্থী, ধর্ষণ, বাস্তুচ্যুতকরণ, লুট, অগ্নিসংযোগ ইত্যাদি] ও গণহত্য। সেখানে বীরত্বের বিষয়টি তেমন গুরুত্ব দেয়া হয়নি। বংশপরম্পরায় নির্যাতন-অপমানের বিষয়টি যত মনে থাকে, বিজয়ের ততটি নয়। তবে বীরত্বের বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়ার কারণ আছে। কারণ, বাঙালীর ইতিহাসে এত বড় বিজয় আর কখনও ঘটেনি।

গণহত্যা-নির্যাতনের বিষয়টি চাপা পড়ে যাওয়ায় মুক্তিযুদ্ধের তাৎপর্য হ্রাস পেয়েছে। মুক্তিযুদ্ধকে সাধারণ পর্যায়ে নামিয়ে আনার জন্য ও বিতর্কিত করার জন্য বিএনপি-জামায়াত বা পাকিস্তানী বাঙালীরা একটি কৌশল অবলম্বন করে। স্বাধীনতার ঘোষণা বিতর্ক, স্বাধীনতার তারিখ নিয়ে বিতর্ক, গণহত্যা ও ধর্ষণ নিয়ে বিতর্ক, যুদ্ধাপরাধ নিয়ে বিতর্ক ইত্যাদি। গণহত্যা নিয়ে খালেদা জিয়া প্রশ্ন তুললেন, ব্রিটিশ নাগরিক বার্গম্যান প্রশ্ন তুললেন; বার্গম্যানকে সমর্থন করলেন ৪০ ব্যক্তি, কাদের মোল্লাকে সমর্থন করল পাকিস্তান, তারেক রহমান বঙ্গবন্ধুকে বললেন পাকবন্ধু, আদালত সাঈদীর মৃত্যুদ- হ্রাস করল, কোন এক বিচারক খালাস-ই দিলেন সাঈদীকে অপরাধ থেকে, কিছু টেলিভিশন ও পত্রিকা কিছু ব্যক্তিকে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরতে সচেষ্ট হলেন যারা শুধু ‘সংলাপের’ আহ্বান জানান; কিন্তু ওই সব বিষয়ের প্রতিবাদ জানান না। শর্মিলা বসু নামে এক ভারতীয় মহিলা পাকিস্তানী জেনারেলদের পোষ্য হয়ে লিখেই বসলেন মস্তো বই, যার মূলকথা হলো- চুকনগরে গণহত্যা হয়নি, ৩ হাজারের বেশি বাঙালী নারী ধর্ষিত হয়নি। এসব পড়লে শর্মিলাকে ধর্ষকামী মনে হয়, পাঞ্জাবি জেনারেল দেখলে যার নিগৃহীত হওয়ার বাসনা জাগে।

আমরা চেষ্টা করেছি গণহত্যা ও নির্যাতনের বিষয়টিকে সমান গুরুত্ব দেয়ার। এ কারণে ইতিহাস সম্মিলনীর প্রচেষ্টায় খুলনায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ‘গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর ট্রাস্ট।’ গণহত্যা নির্ঘণ্ট নামে প্রতিটি গণহত্যার ওপর বই বের করা হচ্ছে, প্রদর্শনী হচ্ছে। জাতীয় জাদুঘরে গণহত্যা ও নির্যাতন শীর্ষক একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিল গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর। তাতে বিপুল পরিমাণ মানুষ এসেছেন, আপ্লুত হয়েছেন। তখন ১৯৭১ এবং পাকিস্তান ও জামায়াতের নির্দয় নৃশংসতার বিষয়টি উপলব্ধিতে এসেছে।

আদালত সুবহান ও অন্যান্য রায়ে জামায়াতের গণহত্যার কাহিনীগুলো তুলে ধরছেন। এতে নতুন নতুন তথ্য জানা যাচ্ছে, যা আমাদেরও মনে নেই। যেমন- সুবহান মসজিদ থেকে মুসল্লিকে তরবারির আঘাতে হত্যা করছেন, কাদের মোল্লা বা কামারুজ্জামানের মতন আলবদররা চোখ উপরে ফেলছে, মহিলা পেলেই ধর্ষণ করছে। যে সাঈদী নিজের নামের আগে আল্লামা লাগিয়েছিলেন তিনি যে একজন ভাল ধর্ষক, তা আদালতেই প্রমাণিত হয়েছে। হাটহাজারির জনাব শফি একজন মর্দে মুজাহিদ ছিলেন ১৯৭১ সালে। এসব খুনী, ধর্ষক, লুটেরা পরবর্তীকালে বিএনপির সাহায্যে দেখি আল্লামা, পীর, আলেম ইত্যাদি বনে গেছেন। কপাল আমাদের!

গণহত্যা ধর্ষণের এসব তথ্য সব বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে গেছে, এখন সেগুলো আবার স্মৃতিতে ফিরে আসছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে আমরা প্রস্তাব জানিয়েছিলাম বিচার শেষে পুরনো হাইকোর্ট ভবনে একটি গণহত্যা আর্কাইভ করার। আইনমন্ত্রী আনিসুল হকও নির্মূল কমিটির এক সভায় বলেছিলেন, সেখানে তিনি আর্কাইভ করার ব্যবস্থা করবেন, যাতে বিচারসংক্রান্ত নথিপত্র সংরক্ষণ করা যায়। এখনও হয়নি। মাননীয় বিচারকরা তাঁদের রায়ে কোন একটি পর্যবেক্ষণে যদি ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য এগুলো সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন তাহলে কাজটি হতে পারে। দুঃখের কথা কি বলব, মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত কোন কাজ করতে হলে দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়, হতাশ হতে হয়। মুক্তিযুদ্ধ ছাড়া অন্য যে কোন কাজ ত্বরিত সম্পন্ন করা যায়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের রায়গুলো আরেকটি বিষয় তুলে ধরছে। এসব হত্যাকা- ৪৪ বছর আগে ঘটেছে। অনেকে ৪৪ বছর বাঁচেনও না। হত্যাকা-ের সময় একটি এলাকায় যারা থাকতেন তারাও হয়ত থাকেন না। প্রত্যক্ষদর্শী খুঁজে পাওয়া যায় না। আর এসব বিষয়ে কেউ কোন কথা বলতেও চান না, ভয়ে। তদন্ত দল কিন্তু সাক্ষীও পেয়ে যাচ্ছেন সংখ্যা কম হলেও এবং যারা বেঁচে আছেন তারাও হত্যাকা-ের বয়ান দিচ্ছেন।

(বাকি অংশ আগামীকাল)

প্রকাশিত : ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

২৪/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: