মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

প্রত্যন্ত গ্রামে মাসে ৮০ হাজার পরিবারের ঘরে সোলার প্যানেল

প্রকাশিত : ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
প্রত্যন্ত গ্রামে মাসে ৮০ হাজার পরিবারের ঘরে সোলার প্যানেল

সমুদ্র হক ॥ বিদ্যুত নেই তো কি হয়েছে! সূর্য তো আছে! দিনের আলোয় তাপ ধরে রেখে তা যে কোন সময় ব্যবহার করা যাবে। দেশজুড়ে এমন ভাবনার বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে অনেক আগেই। বর্তমানে দেশের সাগরের বক্ষে নদীর চরে হাওর-বাওড় অঞ্চলসহ এমন কোন জায়গা নেই যেখানে সূর্যালোকের বিদ্যুত পৌঁছেনি। প্রযুক্তির নিত্য নতুন অগ্রসরতায় তার বহুমুখী ধারার উন্নয়ন দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। আশির দশকের শেষে বাংলাদেশের একজন বিজ্ঞানী যে সোলার প্যানেল এ দেশে পরিচিতি করিয়ে দিয়েছিলেন সেই প্যানেল বর্তমানে এতটাই ব্যাপ্তি পেয়েছে যে প্রতিমাসে প্রায় ৮০ হাজার পরিবারের ঘরে সোলার প্যানেল বসছে। যেখানে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি নেই সেখানে গৃহস্থ ও কিষান বাড়ির ঘরের চালার ওপরে অথবা ইটের বাড়ির ঘরের ছাদে সূর্যের আলো ধরে রাখার প্যানেল চোখে পড়ে। অনেক আবাদী জমির ধারে ঘর বানিয়ে প্যানেল বসিয়ে সৌরবিদ্যুতে সেচ কাজও চলছে। একটা সময় জমির ভিতরে ছোট্ট ঘরে শ্যালো ইঞ্জিন রেখে ডিজেল ভরে ভট ভট শব্দে শেচ যন্ত্র চলতো। এখন ডিজেল আর লাগবে না শ্যালো ইঞ্জিন চালাতে, সৌরবিদ্যুত (সোলার প্যানেল) যথেষ্ট। মানবজীবনের দৈনন্দিন কাজে বিদ্যুত যেমন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে তেমনই বিদ্যুত উৎপাদনের বিকল্প ব্যবস্থাও তৈরি হয়েছে। সৌরবিদ্যুতের শক্তি ব্যবহার কত হবে তা গ্রাহক সিদ্ধান্ত নেবে। কতক্ষণ বিদ্যুত রাখবে না রাখবে তাও নির্ধারণ করবে সোলার প্যানেলের মালিক। সূত্র জানায়, বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় এ দেশে প্রথম সৌরবিদ্যুত সম্প্রসারণের কার্যক্রম শুরু হয়। বাংলাদেশ রুরাল ইলেকট্রিফিকেশন এ্যান্ড রিনিউিয়েবল এনার্জি ডেভলপমেন্ট (আরইআরইডি) নামের একটি প্রকল্পের মাধ্যমে সারাদেশে জরিপ করা হয় কোথায় বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)ও পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) পল্লী বিদ্যুত সমিতির (পবিস) বিদ্যুত পৌঁছেনি। এরপর এ দুই প্রতিষ্ঠানের বাইরে বিকল্প কি ব্যবস্থায় বিদ্যুত সরবরাহ করা যায় সেই উদ্যোগ নেয়া হয়। এ প্রতিষ্ঠানই ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভলপমেন্ট কোম্পানির মাধ্যমে দেশজুড়ে সোলার প্যানেলের সৌরবিদ্যুত সরবরাহের আয়োজন করে। এরপর দেশের সকল গ্রামে যেখানে বিদ্যুত পৌঁছেনি সেখানে বিদ্যুত সরবরাহের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। এ খাতে যারা উদ্যোক্তা হতে চান তাদের সোলার প্যানেলের ব্যবসার জন্য স্বল্প সুদে আর্থিক সহায়তা দেয়া শুরু হয়। তারা প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়ে প্যানেল ও ব্যাটারি বসিয়ে বাতি জ্বালিয়ে, ফ্যান, ফ্রিজ, টেলিভিশন, কম্পিউটার চালিয়ে, মোবাইল ফোনের চার্জ দেয়ার বিষয়গুলো দেখিয়ে দেয়। কিভাবে সেচ পাম্পে সোলার বিদ্যুত সরবরাহ হবে তাও দেখিয়ে দেয়। সৌরবিদ্যুতের কারণে তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তিও দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। সোলার প্যানেল সরবরাহকারী একটি প্রতিষ্ঠান জানায় গ্রীস্ম ও সেচ মৌসুমে বেশি সোলার প্যানেল সরবরাহ হয়। বর্ষা ও শীত মৌসুমে এখনও এই প্যানেল বিক্রি বাড়েনি। এর কারণ অনেকই বুঝে উঠতে পারেনি বর্ষা ও শীত মৌসুমে কিভাবে সৌরবিদ্যুত ব্যবহার করতে হয়। এ বিষয়ে সরবরাহকারী একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান বললেন, একটি ব্যাটারি পুরোপুরি চার্জ হতে টানা অন্তত ১৫ ঘণ্টা সময় লাগে (তবে নতুন প্রযুক্তিতে এ সময় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টায় নামিয়ে আনা গেছে)। বর্ষা ও শীত মৌসুমে যদি দিনে (রেশনিং করে) পাঁচ ঘণ্টা করে বিদ্যুত ব্যবহার করা যায় তাহলে তিন দিন সূর্যের আলো না থাকলেও কোন অসুবিধা হবে না। আবার সূর্যের আলো কিছুটা থাকলেও ওই সময়ে যতটা সম্ভব চার্জ দিলে বিদ্যুত প্রাপ্তি কিছুটা বাড়বে। এ বিষয়গুলো না জানার কারণে সোলার প্যানেলের গ্রাহকগণ কিছুটা হতাশ হয়ে যান। প্রকৃতির বিষয়গুলোকে বুঝে বর্ষা ও শীতের সময়ে সৌরবিদ্যুত ব্যবহার প্রয়োজন ছাড়া না করলেই এ অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। সোলার প্যানেলের কার্যক্রমটা এ রকম, সূর্যের আলো থেকে শক্তি সঞ্চয় বা আহরণ করে একটি ভোল্টাইক ব্যাটারির মাধ্যমে বিদ্যুতে রূপান্তরিত করে তা দিয়ে লাইট, ফ্যান, ফ্রিজ, কম্পিউটার, টেলিভিশনসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স চলে। যেখানে পিডিবি ও পবিসের বিদ্যুত পৌঁছেনি সেখানেই সোলার প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো হচ্ছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ৫০ প্রতিষ্ঠান সৌরবিদ্যুতের প্যানেল বিক্রি করছে। বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে যমুনার ভিতরে চরগ্রামের আব্দুল মজিদ বছর কয়েক আগে ৯০ ওয়াট ক্ষমতার একটি প্যানেল বসিয়ে সৌরবিদ্যুত ব্যবহার করছেন। চারটি বাতি, একটি ফ্যান, একটি টিভি ও একটি ডেস্কটপ কম্পিউটার চালাচ্ছেন। মোবাইল ফোনে চার্জ দিচ্ছেন। বর্ষাকালে ব্যাটারির ব্যবহার কমিয়ে সীমিত ও প্রয়োজনীয় সময়ে বিদ্যুত ব্যবহার করেন। তিনি কিস্তিতে এ প্যানেল কিনেছিলেন। পরিশোধ হতে মাস দুয়েক লাগবে। এরপর তিনি জমিতে সেচ দেয়ার জন্য প্যানেল নেবেন। গাবতলীর একটি গ্রামে বিদ্যুত পৌঁছেনি। সেখানে কৃষক সৌরবিদ্যুতে সেচ চালাচ্ছে। এক সূত্র জানাচ্ছে, দিনে দিনে দেশে পিডিবিও পবিসের আওতায় বিদ্যুতায়িত এলাকা সম্প্রসারিত হচ্ছে। এর সঙ্গেই সৌরবিদ্যুতের ব্যবহারে দেশের সিংহভাগ এলাকাতেই বিদ্যুত পৌঁছেছে।

প্রকাশিত : ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

২৩/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: