কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

তেল গ্যাস উন্নয়নে বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে নীতিমালা বদলে

প্রকাশিত : ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

রশিদ মামুন ॥ তেল-গ্যাস উন্নয়নের ক্ষেত্রে নীতিমালা পরিবর্তনের মাধ্যমে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এ জন্য নতুন নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে। নীতিমালায় পরিবর্তনও আনা হয়েছে বড় আকারে। নীতিমালাটির নতুন নামকরণ করা হচ্ছে গ্যাস, পেট্রোলিয়াম ও খনিজ উন্নয়ন তহবিল নীতিমালা। নতুন নীতিতে গ্যাসের লভ্যাংশের সঙ্গে পেট্রোলিয়াম কোম্পানির লাভের এক ভাগ জমা হবে। তহবিলের বিনিয়োগে কোন প্রকল্প লাভজনক হলে ১৪ কিস্তিতে দুই ভাগ সার্ভিস চার্জসহ ১০ বছরের মধ্যে সমুদয় অর্থ ফেরত দিতে হবে। তবে গ্যাস, পেট্রোলিয়াম ও খনিজ অনুসন্ধানের কোন প্রকল্প লাভজনক না হলে বিনিয়োগ করা অর্থ অনুদান হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

শুরুতে গ্যাস উন্নয়ন তহবিল শুধু গ্যাস অনুসন্ধান এবং উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সীমাবদ্ধ করা হয়। গ্যাসের বিরতণ খাতেও এই অর্থ বিনিয়োগের কোন সুযোগ ছিল না। নতুন নীতিমালায় খনিজ সম্পদের মধ্যে গ্যাস, কয়লা, তেল, কঠিন শিলা অনুসন্ধান, উন্নয়ন, উৎপাদন,, প্রক্রিয়াকরণ, সঞ্চালন, বিতরণ ও বিপণনের জন্য এখান থেকে অর্থ ব্যয় করা যাবে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সকল সংস্থা এই তহবিল থেকে অর্থ গ্রহণ করতে পারবে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্র জানায় অচিরেই গেজেট প্রকাশ করা হবে। এ বিষয়ে সব কিছু চূড়ান্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন একই প্রক্রিয়ায় গ্রাহকের অর্থে দেশে একটি বিদ্যুত উন্নয়ন তহবিল রয়েছে। গ্যাস উন্নয়ন তহবিলকে বিস্তৃত করা হলে বিদ্যুতের তহবিলের ক্ষেত্রে তা করা উচিত। কেননা দেশের বিদ্যুতের উৎপাদন পর্যায়ে লোকসানী থাকলেও বিতরণ পর্যায়ে নেই। উন্নয়ন কর্মকা-ে বিতরণ কোম্পানির লভ্যাংশের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করা যেতে পারে।

নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে দেশের ৭৩ ভাগ জ্বালানি চাহিদা মেটানো হয় গ্যাসে। দিন দিন প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং অব্যাহত ব্যবহারের ফলে গ্যাসের মজুদ ক্রমান্বয়ে কমে যাচ্ছে। দেশের সার্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গ্যাস অনুসন্ধান এবং উত্তোলনের পাশাপাশি এলএনজি আমদানি, শেল গ্যাস উন্নয়ন ও বাপেক্সকে শক্তিশালী করতে কতিপয় কার্যক্রম গ্রহণ করা জরুরী। প্রাথমিক জ্বালানির পরিপূরক হিসেবে গ্যাসের পাশাপাশি কয়লা সম্পদের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এছাড়া তেল সেক্টরের কিছু প্রকল্পে উন্নয়ন করা জরুরী হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্যাসের ক্রমবর্ধমান চাহিদার বিপরীতে ভারসাম্য বজায় রাখতে গিয়ে এসব খাতের উন্নয়ন করার জন্য সমীক্ষা, গবেষণা, সংক্ষিপ্ত গবেষণা এমনকি সম্ভাব্যতা জরিপ করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। কিন্তু এ ধরনের কোন কার্যক্রম পরিচালনার অবকাশ গ্যাস উন্নয়ন তহবিল নীতিমালাতে ছিল না। যাতে জ্বালানি খাত কাক্সিক্ষত গতি পাচ্ছে না। সংশোধনীতে বলা হচ্ছে জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বাপেক্স, বিপিসি, জিএসবি, হাইড্রোকার্বন ইউনিট, বিপিআই, বিএমডি’র সক্ষমতা সৃষ্টি এবং মানব সম্পদ উন্নয়নে নীতিমালা সংশোধন জরুরী হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন সূত্র জানায়, গ্যাসের দাম বৃদ্ধির সময় ২০০৯ সালে দেখা যায় কোন কোম্পানিই লোকসান করছে না। এ সময় কেবল উন্নয়ন তহবিল গঠন করার শর্তে কমিশন ১০ থেকে ১৫ ভাগ গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করে। ওই সময় তহবিলের নাম ঠিক করে দেয়া হয় গ্যাস উন্নয়ন তহবিল। সরকার ২০১২ সালে ওই তহবিল ব্যবহারের নীতিমালা চূড়ান্ত করে গ্যাস খাতের উন্নয়ন অনুসন্ধানে এই অর্থ ব্যয় করছে। গ্রাহকের দেয়া বিপুল অর্থে ওই তহবিল গড়ে উঠেছে তাই নির্দিষ্ট খাতে এই অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হয়েছিল। ব্যাপক বা বিস্তৃত হলে অপচয় এবং দুর্নীতির সুযোগ থাকে। যদিও এখন এসে সকল খাতে এই অর্থ ব্যবহারের সুযোগ দিতে যাচ্ছে জ্বালানি বিভাগ।

নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে পেট্রোবাংলা গ্যাস, পেট্রোলিয়াম ও খনিজ উন্নয়ন তহবিল নামে একটি পৃথক হিসাব খুলবে পেট্রোবাংলা। গ্যাস বিতরণ, কয়লা ও কঠিন শিলা বিপণন কোম্পানির আদায়কৃত অর্থের নির্দিষ্ট পরিমাণ প্রতি ১৫ দিন পর পর এই তহবিলে স্থানান্তর করতে হবে। সরকারের শুল্ক এবং মূল্য সংযোজন করের ওপর আদায়কৃত অতিরিক্ত অর্থ অর্থ-মন্ত্রণালয় হতে বরাদ্দের মাধ্যমে এই তহবিলে জমা হতে হবে। এছাড়া ব্যাংক সুদ এবং বিপিসির সকল বিপণন কোম্পানির লভ্যাংশও এই তহবিলে জামা করা হবে। তহবিলটির মেয়াদ হবে গেজেট প্রকাশ পরবর্তী ১৫ বছর।

প্রকল্প বাছাইর ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিবের (উন্নয়ন/পরিকল্পনা) নেতৃত্বে একটি কমিটি থাকবে। কমিটিতে পেট্রোবাংলার অর্থ, পরিকল্পনা এই দুই পরিচালক, বিপিসির পরিচালক অপরাশেন/পরিকল্পনা, হাইড্রোকার্বন ইউনিটের মহাপরিচালক, সংশ্লিষ্ট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পেট্রোবাংলার (হিসাব) মহাব্যবস্থাপক এবং পেট্রোবাংলার (প্ল্যানিং এ্যান্ড মনিটরিং) মহাব্যবস্থাপকের সমন্বয়ে আট সদস্যর একটি কমিটি থাকবে। এই কমিটি প্রকল্প মূল্যায়ন শেষে উপযুক্ত প্রকল্পকে অর্থায়ন করা হবে। জ্বালানি বিভাগ নির্দিষ্ট পন্থা মেনেই এসব প্রকল্প দেখভাল করবে। প্রতি ৬ মাস অন্তর তহবিলের অবস্থা জ্বালানি বিভাগ এবং এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে অবহিত করতে হবে।

প্রকাশিত : ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

২৩/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: