মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

হত্যা সন্ত্রাস ॥ ৫০ দিন

প্রকাশিত : ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
হত্যা সন্ত্রাস ॥ ৫০ দিন
  • এ পর্যন্ত প্রাণহানি ঘটেছে ১১ জনের
  • পেট্রোলবোমা মেরে এ পর্যন্ত হত্যা করা হয়েছে ৫৭ জনকে। ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন ৫ জন
  • এ সন্ত্রাসের প্রতিবাদ করছে সারাপৃথিবী, বিএনপির সিনিয়র নেতারাও বিব্রত

জনকণ্ঠ রিপোর্ট ॥ সারাদেশে বিএনপি-জামায়াত জোটের নাশকতা সৃষ্টির ৫০ দিন পূর্ণ হচ্ছে আজ। আন্দোলনের নামে নাশকতা করে নির্বিচারে সাধারণ মানুষকে হত্যা, আতঙ্ক সৃষ্টি, অর্থনীতি আর শিক্ষার্থীদের জীবন বিপর্যয় সৃষ্টি ছাড়া অন্য কোন সফলতা নেই। দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় আর বারবার জাতিসংঘ এবং বন্ধুরাষ্ট্র আন্দোলনের নামে সন্ত্রাস সৃষ্টি থেকে সরে আসার আহ্বান জানালেও বিএনপি তা অব্যাহত রেখেছে। আন্দোলনে এখন পর্যন্ত ১০১ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, যাদের বেশির ভাগই সাধারণ মানুষ।

খোদ বিএনপি নেতাকর্মীরাও দলের শীর্ষ পর্যায়ের খামখেয়ালিতে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। দলের স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন। ঘর থেকে বের হলেই নির্বিচারে হত্যাকা- নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে এজন্য অনেকেই সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক আনুষ্ঠানিকতাকে এড়িয়ে চলছেন। দলের স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য লেখালেখি আর বই পড়ে সময় কাটাচ্ছেন। অন্যদিকে সারাদেশের কোথাও হরতাল-অবরোধে বিএনপির কোন নেতাকর্মীকে চোখে পড়ে না। কেবলমাত্র বিএনপি এবং জামায়াতের সন্ত্রাসী গ্রুপ আকস্মিকভাবে পেট্রোলবোমা মেরে, বোমা ফাটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।

আন্দোলনের নামে নাশকতা সৃষ্টি বন্ধ করার জন্য স্কুলের কোমলমতি ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে শ্রমিক-জনতা, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, শিল্পী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বিএনপি নেত্রীর কাছে আবেদন করেছেন। কিন্তু কোনক্রমেই বিএনপি এ পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসছে না। প্রথমদিকের তুলনায় এখন পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে এলেও প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও পেট্রোলবোমায় আক্রান্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

পরিসংখ্যান বলছে, আওয়ামী লীগের কোন স্তরের নেতাকর্মীই পেট্রোলবোমার স্বীকার হননি। প্রথমদিকে মাত্র একটি বা দুটি জায়গায় বিএনপি নেতাকর্মীরা স্থানীয় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ এবং ভাংচুর করেছে, এখন যা একেবারে নেই। সারাদেশে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা এই আন্দোলনকে ঘিরে কোন বিবাদেও জড়াননি। কেবলমাত্র খেটেখাওয়া সাধারণ মানুষই হচ্ছে আন্দোলনের প্রধান লক্ষ্যবস্তু।

একদিকে মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা, অন্যদিকে তাদের পুড়িয়ে মারা এই দ্বৈতনীতি বিএনপির জঙ্গীরূপের বহির্প্রকাশ বলে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন। মধ্যবর্তী নির্বাচন বা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নয়, জামায়াত অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর জন্য পেছন থেকে এ আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছে। এ সব কর্মসূচীতে জামায়াতের সাধারণ নেতাকর্মীরাও অংশ নিচ্ছে না। প্রায়ই সাধারণ মানুষের ওপর পেছন থেকে আকস্মিক হামলা হচ্ছে। যেভাবে পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানে জঙ্গীরা সাধারণ মানুষের ওপর হামলা করে একই পন্থা অবলম্বন হচ্ছে আমাদের এখানেও।

এখন পর্যন্ত ভয়ঙ্কর পেট্রোলবোমা হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন ৫৭ জন। পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ৩০ জন নিহত হয়েছেন। আগুন দেয়া হয়েছে ৫৯৪টি যানবাহনে এবং ভাংচুর করা হয়েছে ৫৭৯টিতে।

অবরোধ চলাকালে প্রথম নির্মম ঘটনার সূত্রপাত হয় রংপুরের মিঠাপুকুরে। গত ১৩ জানুয়ারি ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের মিঠাপুকুরে একটি বাসে আগুন দিলে ঘটনাস্থলেই পাঁচজন পুড়ে মারা যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা যান আরও দু’জন। একইভাবে ৩ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোলবোমা ছুড়লে আটজন মারা যান। একইভাবে ৬ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে একটি বাসে পেট্রোলবোমা হামলায় দগ্ধ হয়ে মারা যান আটজন।

অবরোধ কর্মসূচী চলাকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা গেছেন ১১ জন। আর এ সময় সারাদেশে পেট্রোলবোমা হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন ৫৭ জন। রবিবারও বার্ন ইউনিটে বাপ্পি নামের একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন আছেন অন্তত ৫০ জন। তাঁরাও সহিংস এ রাজনীতি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।

গত ৫ জানুয়ারি অবরোধ শুরুর প্রায় তিন সপ্তাহের মাথায় ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো মারা গেলে শোকাহত খালেদা জিয়াকে সমবেদনা জানাতে গুলশানে তাঁর কার্যালয়ে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু বিএনপি নেত্রী ফটক আটকে রেখে আলোচনার সব সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।

অগ্নিদগ্ধরা সারাদেশের মানুষের হয়ে এই দুর্বৃত্তদের কাছে ক্ষমা চেয়েও পরিত্রাণ পাচ্ছেন না। আগুনে পুড়ে নিহত যশোরের জাসদ নেতা নুরুজ্জামান পপলুর স্ত্রী মাফরুহা বেগম আর্তনাদ করে বলেন, এভাবে মানুষকে পুড়িয়ে মেরে কোন কিছু পাওয়া যায় না; দয়া করে থামেন আর দেশের মানুষকে পুড়িয়ে মারবেন না। নিজের চোখের সামনে স্বামী আর সন্তানের পুড়ে অঙ্গার হয়ে যাওয়ার বর্ণণা দিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন এই হতভাগ্য মা। নিজের শরীরেও বয়ে বেড়াচ্ছেন আগুনের ক্ষত।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি ভোরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ঢাকামুখী বাসে অবরোধকারীদের পেট্রোলবোমায় নিহত আটজনের মধ্যে তাদের স্কুলপড়ুয়া মেয়ে মাইশাও ছিল। দগ্ধ হন মাফরুহা নিজেও। কক্সবাজারে সমুদ্র দেখে বাড়ির উদ্দেশে যাত্রা করে পথে আক্রান্ত হন নুরুজ্জামান পপলু ও তাঁর স্ত্রী-সন্তান।

কান্নাভেজা কণ্ঠে মাফরুহা বলেন, আমি কী নিয়ে বাঁচব? আমার মাইশা আমার কোলে পুড়ে মরল। যারা পুড়িয়ে মারছে, তাদের ধরুন, তাদের শাস্তি দিন। স্বামীর পকেটে থাকা তসবিহ দেখিয়ে অবরোধকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এসব বন্ধ করুন। পেট্রোলবোমা মারা বন্ধ করুন; দেশকে, জনগণকে ভালবাসতে শিখুন।

রাজধানীর শ্যামলীতে গত ৭ ফেব্রুয়ারি হরতাল-অবরোধ সমর্থকদের ছোড়া হাতবোমায় মাথায় আঘাত পাওয়া ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট গোলাম মাওলা বলেন, কোন সংঘর্ষ বা বাদানুবাদ নয়, আকস্মিক এসে তাঁর মাথা ও শরীরে একের পর এক বোমা ছোড়ে দুর্বৃত্তের দল।

গত ২৩ জানুয়ারি ঢাকার যাত্রাবাড়ীর কাঠেরপুলে বাসে পেট্রোলবোমা হামলায় বাদাম বিক্রেতা মোশারফ হোসেনের দুই হাত পুড়ে যায়। তিনি বলেন, আগুন যে এত ভয়াবহ! আমরা কেন এর শিকার হব? আমরা তো সাধারণ মানুষ। আমরা তো কাজ না পেলে চলবে না। আমাদের এ অবস্থা। এটা কেমন রাজনীতি? যারা করেছে, তারা সরকারের সঙ্গে কমপিটিশন করুক। আমাদের সাধারণ মানুষের সঙ্গে কেন? যারা করছে তাদের শুধু বলব, আগুনে পুড়িয়ে মারবেন না।

এসব মানুষের আর্তনাদেও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার অন্তর কাঁদেনি। সারাদেশে প্রতিবাদী মানুষের কণ্ঠস্বরও তাঁকে সামলাতে পারেনি। রোজই রাজধানীসহ দেশের সর্বত্র বিএনপির এ নাশকতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে সাধারণ মানুষ।

খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে ব্যতিক্রমী কর্মসূচী পালন করেছে বিভিন্ন পেশার মানুষ ॥ গাছের সঙ্গে আগুনে পুড়ে নিহত ৫৪ জনের নাম সংবলিত কালো ব্যানার সেঁটে সেখানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন সংসদ সদস্য তারানা হালিমের নেতৃত্বে বিভিন্ন পেশার মানুষ। আন্দোলনের নামে পেট্রোলবোমার আগুনে পুড়িয়ে মানুষ হত্যার প্রতিবাদ জানাতে এক ব্যতিক্রম কর্মসূচী পালন করা হয়। রবিবার দুপুরে তাঁরা বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ের সামনে চলমান হরতাল-অবরোধ কর্মসূচী চলাকালে পেট্রোলবোমার আগুনে পুড়ে নিহত ৫৪ জনের নাম সংবলিত একটি কালো ডিজিটাল ব্যানার একটি গাছে সেঁটে দিয়ে তার সামনে ফুল দিয়ে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। ব্যানারে নিহতদের নামের তালিকার ওপরে বড় অক্ষরে লেখা রয়েছেÑ ‘আর কত লাশ চান খালেদা জিয়া।’

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গুলশান-২ নম্বর গোল চত্বরে জড়ো হন শিল্পী, সাহিত্যিক, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, কৃষিবিদ, চিকিৎসকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ। হরতাল-অবরোধ ও নাশকতা করে মানুষ হত্যার প্রতিবাদে বিভিন্ন সেøাগান সংবলিত ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকাড বহন করে এখানে প্রায় ১ ঘণ্টা মানববন্ধন করেন তাঁরা। এ সময় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব তারানা হালিম ও পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায়সহ বিভিন্ন পেশার বেশ কয়েকজন প্রতিনিধি বক্তব্য রাখেন। তাঁরা বলেন, আন্দোলনের নামে জঙ্গী কায়দায় যেভাবে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে, তা মেনে নেয়া যায় না। যারা এভাবে নাশকতা করে মানুষ হত্যা করছে তারা জাতির শত্রু, তাদের প্রতিহত করতে হবে। অবিলম্বে হরতাল-অবরোধ বন্ধ না করলে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয় ঘেরাও করা হবে।

বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তারা হরতাল-অবরোধ ও পুড়িয়ে মানুষ হত্যার প্রতিবাদে বিভিন্ন ধরনের সেøাগান দিতে দিতে খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ের দিকে অগ্রসর হন। খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের কাছে ৮৬ নম্বর সড়কের দক্ষিণ পাশে গেলে পুলিশ তাদের আটকে দেয়। পরে সংসদ সদস্য তারানা হালিম ও নাট্যকার পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ের সামনে যান। তারা খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের বিপরীত পাশে গুলশান পার্কসংলগ্ন দেয়ালের পাশে একটি গাছের সঙ্গে বিএনপি জোটের টানা অবরোধ-হরতাল চলাকালে পেট্রোল বোমার আগুনে পুড়ে নিহত ৫৪ জনের নামের তালিকা সংবলিত একটি কালো ডিজিটাল ব্যানার সাঁটিয়ে দেন। এরপর সেখানে ফুল দিয়ে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। ততক্ষণে বিভিন্ন পেশার ২ শতাধিক নেতাকর্মী ৮৬ নম্বর সড়কের দক্ষিণ পাশে অবস্থান করে জোরে জোরে সেøাগান দিয়ে আন্দোলনের নামে মানুষ হত্যার প্রতিবাদ জানাতে থাকেন।

আগুনে পুড়ে নিহতদের নামের তালিকা গাছের সঙ্গে সেঁটে দেয়ার সময় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান নাট্যকার পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলেন, আপনারা এখানে নিহতদের তালিকা নিয়ে এসেছেন। আন্দোলনরত অনেক মানুষকেও তো গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া সারাদেশ থেকে অনেক নিরীহ মানুষকে গ্রেফতার এবং অসংখ্য মানুষকে আহত করা হয়েছে। তাদের একটি তালিকা করেও প্রধানমন্ত্রীর নিকট নিয়ে যান। এ সময় পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায় শায়রুল কবির খানকে উদ্দেশ করে বলেন, বিষয়টি আমি দেখব।

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ের সামনে আগুনে পুড়ে ৫৪ জনের নাম সংবলিত ব্যানার সেঁটে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সংসদ সদস্য তারানা হালিম বলেন, আন্দোলনের নামে মানুষ হত্যার প্রতিবাদ জানাতে আমরা এখানে এসেছি। একটি স্বাধীন দেশে যেভাবে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে কোন সচেতন মানুষ তা মেনে নিতে পারে না। আমরা আশা করব বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া নাশকতার পথ পরিহার করে শান্তির পথে ফিরে আসবেন। তা না হলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ। জনগণ তাঁকে ক্ষমা করবে না। তিনি বলেন, আমরা সাধারণ মানুষ সহিংসতার বিপক্ষে। আমরা আন্দোলনকারীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছি। এ থেকে মুক্তি চাই। তারা সহিংসতা করুক তা আমরা চাই না।

উল্লেখ্য, ৬ জানুয়ারি থেকে টানা অবরোধ কর্মসূচী পালনের পর থেকেই প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ের সামনে গিয়ে আন্দোলনের নামে নাশকতা করে মানুষ হত্যার প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন। অবরোধ কর্মসূচী চলাকালে প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও প্রাণহানি ঘটার পাশাপাশি বোমা বিস্ফোরণ, যানবাহন ভাংচুর ও জ্বালাও-পোড়াওসহ নাশকতামূলক কর্মকা- হচ্ছে। এ নাশকতায় এ পর্যন্ত শতাধিক মানুষ হত্যা ও কয়েক হাজার যানবাহন জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদে সারাদেশে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ ফুঁসে ওঠেছে।

প্রকাশিত : ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

২৩/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: