মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

গলাচিপা-রাঙ্গাবালীর আলুচাষীদের সর্বনাশ

প্রকাশিত : ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • লাগাতার হরতাল ও অবরোধে কৃষকদের চোখেমুখে হতাশা

শংকর লাল দাশ, গলাচিপা ॥ বিএনপি-জামায়াতের লাগাতার অবরোধ-হরতাল পটুয়াখালীর সাগরপাড়ের গলাচিপা ও রাঙ্গাবালীর আলুচাষীদের জন্য চরম সর্বনাশ বয়ে এনেছে। বাম্পার ফলন হলেও তারা এর সুফল থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় ভুগছেন। মোকামগুলো থেকে আসছে না মহাজন-ফড়িয়ারা। নেই সুষ্ঠু পরিবহন। এলাকায় নেই সংরক্ষণ ব্যবস্থা। ফলে বাজারে দিন দিন কমছে আলুর দাম। লোকসান ঠেকাতে এরইমধ্যে বহু কৃষক কোমর বেঁধে নেমে পড়েছেন মাঠে। চলছে আলু তোলার ধুম। আগাম আলু তুলে কোনমতে উৎপাদন খরচ মেটানোর চলছে ব্যর্থ চেষ্টা। আবার বহু কৃষক হরতাল-অবরোধ শেষে বাজার চাঙ্গা হবে এমন আশায় ক্ষেতের আলু ক্ষেতেই রেখে দিচ্ছেন। এলাকার কয়েকটি গ্রাম ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর এবার পটুয়াখালীর গলাচিপায় ৬৫ হাজার মেট্রিক টন গোলআলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। কৃষকদের মতে বাস্তবে উৎপাদন হয়েছে অনেক বেশি। এর বাইরে রাঙ্গাবালী উপজেলায় ১০ হাজার মেট্রিক টনের বেশি আলু উৎপাদন হয়েছে। এত বিপুল পরিমাণ গোলআলু উৎপাদন হলেও এলাকায় তা সংরক্ষণের জন্য হিমাগার নেই। এর প্রায় পুরোটাই ঢাকা-মুন্সীগঞ্জসহ বিভিন্ন মোকামে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছিল আলুচাষীরা। কিন্তু লাগাতার হরতাল-অবরোধে আলুচাষীদের সে উদ্যোগ ব্যর্থ হতে বসেছে। পক্ষিয়া, বোয়ালিয়া, মুরাদনগর, চরখালী, ডাকুয়াসহ কয়েকটি গ্রাম ঘুরে শত শত আলুচাষীর চোখে মুখে চরম হতাশার চিহ্ন দেখা গেছে। কয়েকজন আলুচাষী জানিয়েছেন, অন্যান্য বছর আলু তোলার আগেই বিভিন্ন মোকাম থেকে মহাজন-ফড়িয়ারা এসে আগাম অর্থ দিতেন। কিন্তু এ বছর আলু তোলা শুরু হলেও রাস্তাঘাটে রাজনৈতিক নৃশংসতার কারণে মহাজন-ফড়িয়াদের দেখা মিলছে না। মহাজনরা মোবাইল ফোনে সড়ক পথের পরিবহন ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে কিংবা সড়ক পথে পরিবহনে ঝুঁকি রয়েছে, এসব কারণ দেখিয়ে আলু কিনবেন না বলে জানিয়ে দিচ্ছেন। ফলে আলুচাষীরা চরম সঙ্কটে পড়েছেন। বাজারে দিন দিন কমছে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত গোলআলুর দাম। এক সপ্তাহ আগেও স্থানীয় বাজারে প্রতি মণ আলু চার শ’ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এখন তা নেমে এসেছে ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকায়। সামনে দাম আরও কমার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় স্থানীয় বাজারের চাহিদা মেটাতে এবং কোনমতে উৎপাদন খরচ তুলতে পরিপক্ব হওয়ার আগেই বহু চাষী আগাম ক্ষেতে নেমে পড়েছেন আলু তুলতে।

উত্তর বোয়ালিয়া গ্রামের আলুচাষী মাসোয়ার হোসেন জানান, ৬০ কাঠা জমিতে দেড় লাখ টাকা খরচ করে আলু চাষ করেছেন। সামনে দাম আরও কমে যেতে পারে, এ ধারণায় পরিপক্ব হওয়ার আগেই ক্ষেত থেকে আগাম সাড়ে তিন শ’ মণ আলু তুলতে বাধ্য হয়েছেন।

প্রকাশিত : ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

২৩/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



ব্রেকিং নিউজ: