মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

কোম্পানি ছাড়ছেন ফার কেমিক্যালের উদ্যোক্তারা

প্রকাশিত : ২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ তালিকাভুক্তির পর উচ্চ দরে শেয়ার বিক্রি করে কোম্পানি থেকে সটকে পড়ছেন উদ্যোক্তারা। আর নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে বারবারই এটা ঘটে চলেছে। আইনের মধ্য থেকেই উদ্যোক্তারা বাজার থেকে কোটি কোটি টাকা তুলে নিচ্ছেন। পরবর্তীতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে শেয়ারগুলো চলে আসায় লোকসানে পড়ছেন তারা।

সম্প্রতি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ এবং রসায়ন খাতের কোম্পানি ফার কেমিক্যালের প্রধান উদ্যোক্তা আব্দুল কাদের ফারুক তার সব শেয়ার বিক্রি করে দেবেন। এছাড়া তার স্ত্রী শিরিন ফারুকও বিপুল পরিমাণ শেয়ার বিক্রির ঘোষণা দিয়েছেন। তালিকাভুক্তির এক বছরের মধ্যে উদ্যোক্তার শেয়ার বিক্রির ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞার (লক ইন) সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরপরই সব মিলিয়ে ৫৫ লাখ শেয়ার বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কোম্পানিটির উদ্যোক্তারা।

বাজারে তালিকাভুক্তির জন্য প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) আবেদন করার সময় ফার কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ২৮ দশমিক ৪৭ শতাংশ শেয়ার ছিল আব্দুল কাদের ফারুকের হাতে। শুরুতে তিনি এ কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন। বস্ত্র খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানি আরএন স্পিনিংয়ের রাইট শেয়ার কেলেঙ্কারি ও জালিয়াতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের মামলার পর ফার কেমিক্যাল আইপিওর অনুমোদন নিশ্চিত করতে কোম্পানির পদ ছেড়ে দেন আব্দুল কাদের ফারুক। পাশাপাশি নিজের ধারণ করা শেয়ারের উল্লেখযোগ্য অংশ তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বণ্টন করে দেন। বর্তমানে কোম্পানির ছয় সদস্যের পরিচালনা পর্ষদের তিনজনই তার ছেলে। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শেয়ার বণ্টনের পর ফারুক নিজের হাতে কোম্পানির ৩৯ লাখ শেয়ার রাখেন, যার পুরোটাই সম্প্রতি বিক্রির ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এর আগে লভ্যাংশ হিসেবে পাওয়া ৭ লাখ ৮০ হাজার বোনাস শেয়ারও বিক্রি করে দেন তিনি। শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে তিনি কোম্পানির সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা পরিত্যাগ করছেন। অবশ্য কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে তার পরিবারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকছে। এর আগে কোম্পানির প্রায় সব পরিচালক তাদের বোনাস শেয়ার (প্রায় ৯০ লাখ শেয়ার) বিক্রি করে দেন।

এদিকে তার স্ত্রী শিরীন ফারুকও নিজের ৩৯ লাখ ১০ হাজার শেয়ারের মধ্যে ১৬ লাখ ২০ হাজার শেয়ার বিক্রির ঘোষণা দিয়েছেন। এর বাইরে কোম্পানির আরও চারজন প্লেসমেন্টধারী হোসনে আরা রহমান, রেজওয়ানা রহমান রিনি, নাসরিন আক্তার বানু ও জাহেদা খন্দকার মোট ২০ লাখ ৮০ হাজার শেয়ার বিক্রির ঘোষণা দেন।

বর্তমানে ফার কেমিক্যালের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন আব্দুল কাদের ফারুকের ছেলে আবিদ মোস্তাফিজুর রহমান। ব্যাংক হিসাবে রাইট শেয়ারের ২৭৮ কোটি টাকার জাল কাগজপত্র দাখিলের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আরএন স্পিনিংয়ের চেয়ারম্যান, পরিচালকসহ যে সাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়, তার মধ্যে তিনি অন্যতম। মামলার অন্য আসামির মধ্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ আব্দুল কাদের ফারুক, পরিচালক শিরীন ফারুক ও কিম জং সুক রয়েছেন। ফার কেমিক্যালের ২৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ শেয়ারের মালিক হচ্ছেন কিম জং সুক।

প্রসঙ্গত, আইপিও প্রসপেক্টাসে ফার কেমিক্যাল তাদের দুই পরিচালক আবিদ মোস্তাফিজুর রহমান ও কিম জুং সুকের বিরুদ্ধে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন, প্রতারণার দায়ে জরিমানা এবং তাদের অন্য কোম্পানি আরএন স্পিনিংয়ের বিরুদ্ধে কমিশনের দায়ের করা ফৌজদারি মামলার বিষয়গুলো গোপন করে। এজন্য দুই স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানির লেনদেন বিলম্বে শুরু হয়। এছাড়া পরবর্তীতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন ফার কেমিক্যালকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করে।

ফার কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ ২০১৩ সালের ৯ জুলাই শেয়ারবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের জন্য প্রসপেক্টাস জমা দেয়। আবেদন জমা দেয়ার ছয় মাসের মধ্যে স্টক এক্সচেঞ্জের পর্যালোচনা প্রতিবেদন ছাড়াই আইপিওর অনুমোদন দেয় কমিশন। আব্দুল কাদের ফারুক এ কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকলেও পরবর্তীতে আরএন কেলেঙ্কারির কারণে পদ থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। এছাড়া কিম জং সুক, যিনি আরএন স্পিনিংয়ের রাইট শেয়ার কেলেঙ্কারি মামলার অন্যতম আসামি। তিনি এখনও ফার কেমিক্যালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন ।

এদিকে ফার কেমিক্যালের উদ্যোক্তা পরিচালকদের শেয়ার বিক্রির সঙ্গে আরএন স্পিনিংয়ের উদ্যোক্তা পরিচালকদের শেয়ার বিক্রিতে সাদৃশ্য দেখা গেছে। উভয় কোম্পানির ক্ষেত্রেই লভ্যাংশ ঘোষণার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে বোনাস শেয়ার বিও হিসাবে জমা হওয়ার পর পরই তা বিক্রির ঘোষণা দেয়া হয়েছে। ২০১২ সালে আরএন স্পিনিংয়ের উদ্যোক্তা পরিচালকদের শেয়ার বিক্রি, হস্তান্তর ও মর্টগেজে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার আগে বিপুল পরিমাণ শেয়ার বিক্রি করেছেন তারা। সে সময় আরএন স্পিনিংয়ের প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোক্তা এমএল ডায়িং (যার মালিকানায়ও রয়েছেন আব্দুল কাদের ফারুক ও তার পরিবারের সদস্যরা) ১ কোটি ৪০ লাখ শেয়ার বিক্রি করেন। এর আগে ২০১০ সালেও প্রতিষ্ঠানটি আরএন স্পিনিংয়ের ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যের ২ লাখ ৪ হাজার ২০০ শেয়ার বিক্রি করে। এছাড়া আরএন স্পিনিংয়ের বিদেশী উদ্যোক্তা কিম জং সুক ২০১২ সালে ১ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার শেয়ার বিক্রি করেন। ২০১১ ও ১২ সালেও তিনি বিপুল পরিমাণ শেয়ার বিক্রি করেছিলেন; যার ধারাবাহিকতা ফার কেমিক্যালের শেয়ার বিক্রির ক্ষেত্রেও দেখা গেছে।

প্রকাশিত : ২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

২২/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: