কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ভাষা শহীদ বরকত ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ২১

প্রকাশিত : ২১ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

মোস্তাফিজুর রহমান টিটু, গাজীপুর থেকে ॥ মহান ভাষা আন্দোলনের অন্যতম শহীদ পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের তরুণ আবুল বরকতের প্রিয় শহর ছিল ঢাকা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে এখানেই থাকার কথা ছিল তার। পড়াশোনা শেষ করতে না পারলেও তার সে স্বপ্ন সফল হয়েছে, বরকতকে এদেশে চির নিদ্রায় রেখে স্থির থাকতে পারেনি তাঁর পরিবার। প্রিয়জনের মায়ায় জন্মভূমি ছেড়ে তাঁরাও এদেশে চলে আসেন। শহীদ বরকত পরিবারের দাবি, প্রতি বছর শুধু ২১ ফেব্রুয়ারি এলেই ভাষা শহীদদের খোঁজ-খবর নেয়া বা শুধু সরকারী সম্মানী ভাতা নয়, প্রয়োজন ভাষা আন্দোলনে শহীদদের এখন পরিপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও মর্যাদার।

আদরের বড় ছেলে আবুল বরকত ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের মিছিলে শহীদ হওয়ার পর তার বাবা-মাও সিদ্ধান্ত নেন ঢাকায় আসার, যাতে অন্তত প্রতি বছর আজিমপুরের কবরস্থানে ঘুমিয়ে থাকা ছেলেকে একটু আদর করে আসতে পারেন। ১৯৬৩ সালের ২১ জুলাই বরকতের বাবা শামসুজ্জোহা ভুলু মিয়া ভারতে মারা যাওয়ার পরের বছর মা হাসিনা বানু ১৯৬৪ সালে আংশিক সম্পত্তি বিনিময় করে ভারত থেকে এদেশে চলে আসেন। নিবাস গাড়েন গাজীপুর মহানগরের চান্দনা গ্রামের ‘বাবলা বিথী’তে। শহীদ বরকতের একমাত্র ভাই আবুল হাসনাত রোগাক্রান্ত হয়ে ১৯৬৮ সালের ২১ সেপ্টেম্বর এখানেই মারা যান। তার ৩ ছেলে ও ৩ মেয়ে। বরকতের চার বোনই গতায়ু হয়েছেন ইতোমধ্যে। বরকতের ছোট ভাই আবুল হাসনাতের সন্তানরাই এখন আঁকড়ে ধরে আছেন ভাষা শহীদ বরকতের ব্যক্তিগত স্মৃতি। গাজীপুরের চান্দনা গ্রামে এখন বসবাস করছেন বরকতের তিন ভাতিজা এবং তাদের সন্তানরা। শহীদ বরকতের মা হাসিনা বানু ১৯৮২ সালের ২১ এপ্রিল এ বাড়িতেই মারা যান। বরকত ও তাঁর মা, বাবা এবং ভাইয়ের মৃত্যু যেন একই সূত্রে গাঁথা। এদের সবাই মারা গেছেন বিভিন্ন বছরের বিভিন্ন মাসের একই তারিখ একুশে’। গাজীপুরের জয়দেবপুর, পূবাইল ও কালিয়াকৈরসহ বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বরকতের অন্যান্য আত্মীয় স্বজন।

রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আত্মদানকারী শহীদ বরকতের আদি নিবাস পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ভরতপুর থানার বাবলা গ্রামে। গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা শেষে ১৯৪৫ সালে তালিবপুর হাইস্কুল থেকে প্রবেশিকা এবং বহরমপুর কৃষ্ণনাথ কলেজ থেকে ১৯৪৭ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাসের পর সে বছরই তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানে বিএ অনার্স শ্রেণীতে ভর্তি হন।

প্রকাশিত : ২১ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

২১/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: