কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বায়ান্ন সালে জয়পুরহাট ছিল উত্তাল

প্রকাশিত : ২১ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

ভাষা আন্দোলন সংগ্রামকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বগুড়া জেলা ভাষা সংগ্রাম কমিটি থেকে পাঁচবিবির মীর শহীদ ম-লকে (বর্তমানে প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা) দায়িত্ব দেয়া হয়। মীর শহীদ মণ্ডল পাঁচবিবি, জয়পুরহাট এলাকার বিদ্যালয় কেন্দ্রীক রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটি গঠন করে প্রতিদিনই সভা, সমাবেশ এবং কর্মী সংগ্রহ করতেন। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ ঢাকায় প্রথম হরতাল হয়। পরবর্তীতে একই দাবিতে পাঁচবিবিতে মঙ্গলবার হাটের দিন সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত হয়। মীর শহীদ ম-লকে বাংলা ভাষার আন্দোলন থেকে দমানো ও হরতাল বন্ধ করার জন্য বগুড়া থেকে এসডিওকে হরতালের একদিন আগে পাঁচবিবিতে পাঠানো হয়। পাঁচবিবির ডাকবাংলোতে তিনি অবস্থান নেন এবং মীর শহীদ ম-লকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালায়। কিন্তু প্রবল জনমতের কারণে তাঁকে গ্রেফতার করতে পারে না। ফিরে চলে যান ঐ এসডিও। ভাষার আন্দোলন তীব্রতর করার জন্য জয়পুরহাটে এই সময় জুতা বর্জন করে ও কালো ব্যাজ ধারন করে মিছিল, সমাবেশ শুরু হলে ভাষার বিরোধীতাকারী এমন ব্যক্তিদের জুতা খুলে চলাচল এবং কালো ব্যাজ ধারণ করতে বাধ্য করা হয়। ভাষাসৈনিক মীর শহীদ ম-ল ১৯৫২ সালের এপ্রিল মাসে ঢাকার বার লাইব্রেরি ভবনে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রভাষা সম্মেলন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ফিরে এসে পাঁচবিবি জয়পুরহাট এলাকায় ভাষার আন্দোলনে জাগরণ নিয়ে আসেন।

আক্কেলপুর সীমানার শেষ প্রান্ত বদলগাছীর ঝাড়গড়িয়া গ্রামে ১৩৩৬ সালে জন্ম নেয়া ডাঃ আজিজার রহমান প্রাথমিক শিক্ষা শেষে পরিচিত হন ভাষাসৈনিক কবি আতাউর রহমানের সঙ্গে। তার দেয়া বইপত্র পড়াশোনা করে তিনি উদ্বুদ্ধ হন রাজনীতিতে। এর পর পরই বগুড়া থেকে তৎকালীন ভাষা সংগ্রাম কমিটি তাঁর ওপর দায়িত্ব দেন আক্কেলপুর, তিলকপুর, জামালগঞ্জ এলাকায় ভাষা সংগ্রাম কমিটি গঠন করে আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তোলার। কবি আতাউর রহামানের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় তিনি প্রতিনিয়ত বাংলা ভাষার আন্দোলন কর্মকা-ে যুক্ত থাকতেন।

-তপন কুমার খাঁ, জয়পুরহাট থেকে

প্রকাশিত : ২১ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

২১/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: