মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

লালমনিরহাটে জীবিত আছেন পাঁচ ভাষা সৈনিক

প্রকাশিত : ২১ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

জাহাঙ্গীর আলম শাহীন, লালমনিরহাট থেকে ॥ লালমনিরহাটের ভাষাসৈনিকদের পূর্ণাঙ্গ কোন তালিকা কোথাও সংরক্ষিত নেই। সেইভাবে তালিকাও হয়নি। তবে পত্রপত্রিকা, ব্যক্তিগত সংগ্রহশালা, জেলা প্রশাসন, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলো বিভিন্ন সময় ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশ নেয়ায় কয়েকজন ভাষাসৈনিককে সংবর্ধনা দেয়া হয়। এসব তথ্যের আলোকে জীবিত ও প্রয়াত নারী-পুরুষ মিলে ১২ জন ভাষাসৈনিকের তথ্য পাওয়া যায়। এদের মধ্যে এখনও পাঁচজন জীবিত রয়েছেন।

ভাষাসৈনিক শামছুল হক : ১৯৫২ সালে লালমনিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণীতে পড়ার সময় তিনি ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েন। লালমনিরহাটে গঠিত ভাষা সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সদস্য। সেই সময় ২৩ ফেব্রুয়ারি হরতালের সমর্থনে তিনি এবং ভাষা সংগ্রাম পরিষদের কয়েকজন সদস্য লালমনিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীদের বাড়ি পাঠিয়ে দেন। খবর পেয়ে কিছুক্ষণের মধ্যে লালমনিরহাট থানার পুলিশ তাঁদের গ্রেফতার করতে স্কুলের গেটে অবস্থান নেয়। তবে প্রধান শিক্ষক পুলিশকে স্কুলে প্রবেশের অনুমতি দেননি।

ভাষাসৈনিক সিরাজুল ইসলাম : নারায়ণগঞ্জ জেলার বৈদ্যের বাজার এলাকার বিন্নিপাড়া গ্রামে ১৮৯৯ সালের ২ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন। ’৫০-এর দিকে বর্তমান লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার দুরারকুটি (বালাপুকুর) গ্রামে এসে বসতি স্থাপন করেন। ৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তিনি স্থানীয় ছাত্রনেতাদের অর্থ দিয়ে সহায়তা করেন। ২৩ ফেব্রুয়ারি হরতালের দিন তিনি ছাত্র জনতাকে সংগঠিত করে মিছিল নিয়ে শহরের দিকে অগ্রসর হন। শহরের প্রবেশ মুখে পুলিশ মিছিলটিতে লাঠি চার্জ করে ভ-ুল করে দেয়। তাঁকে পুলিশ গ্রেফতার করে অকথ্য নির্যাতন ও নিপীড়ন করে।

ভাষাসৈনিক আবদুল কাদের ভাসানী : ’৫২ সালে লালমনিরহাট উচ্চবিদ্যালয় দশম শ্রেণীতে অধ্যায়নের সময় ভাষা আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। সেই সময় ভাষা সংগ্রাম পরিষদের লালমনিরহাটের সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেন। ২৩ ফেব্রুয়ারি হরতালের সমর্থনে তাঁর বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্লাসবর্জন করার আহ্বান জানান। তাঁর আহ্বানে শিক্ষার্থীরা সাড়া দিয়ে বাড়িতে চলে যায়। তিনি পুলিশের খাতায় একজন পাকিস্তানবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত হন। সেই দিন স্কুলের পেছনের প্রাচীর টপকে পালিয়ে গ্রেফতার এড়ান। পরে পুলিশ তাঁকে আটক করে।

ভাষাসৈনিক মহেন্দ্র নাথ রায় : ১৯৫০ সালে জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার আরএমপি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিকুলেশন সার্টিফিকেট কৃতিত্বের সঙ্গে অর্জন করেন। পরে রংপুর কারমাইকেল কলেজে অধ্যায়নের সময় আইএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রাবস্থায় ভাষা আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। ৩০ জানুয়ারি ঢাকা বার লাইব্রেরিতে কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদ গঠনের সময় ও ১৯ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলের পুকুর পাড়ে ছাত্র নেতাদের গোপন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল বেলায় রংপুরে ফিরে আসেন। ঢাকায় ছাত্রদের মিছিলে পুলিশ গুলিবর্ষণ করার খবর পেয়ে তাঁর নেতৃত্বে রংপুরে ২২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় রংপুর ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল চত্বরে প্রতিবাদ সভা আহ্বান করেন। পুলিশ সেই সভায় লাঠি চার্জ করে ভ-ুল করে দেয়। সভাস্থল হতে পুলিশ তাঁকেসহ কয়েকজন ছাত্র নেতাকে গ্রেফতার করে।

ভাষাসৈনিক জহির উদ্দিন আহম্মেদ : ১৯৫২ সালে লালমনিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীতে অধ্যায়ন করার সময় ভাষা আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। তিনি লালমনিরহাটে ভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন হলে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২৩ ফেব্রুযারি হরতালের সমর্থনে স্কুলের ছাত্রদের বাড়ি পাঠিয়ে দেন। পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করার চেষ্টা করেন। তখন তিনি কৌশলে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ ভাষা সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি হওয়ার অপরাধে তাঁকে গ্রেফতার করে।

প্রকাশিত : ২১ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

২১/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: