আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

নওগাঁর ভাষাসৈনিকরা জ্বালাও পোড়াও রাজনীতিতে ব্যথিত

প্রকাশিত : ২১ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

বিশ্বজিৎ মনি, নওগাঁ থেকে ॥ বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে উত্তরের নওগাঁ জেলার দামাল ছেলেদের বীরত্বগাথাকে খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। তাদের বীরত্বগাথা লড়াই সংগ্রামের ফলেই আজ বাংলা ভাষা ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা’ হিসেবে বিশ্বে স্বীকৃতি লাভ করেছে। সেই সময় নওগাঁর অনেক যুবক আন্দোলনে অংশ নিয়ে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার দাবিতে হুলিয়া ও জেল-জুলুম ভোগ করেছেন। তাঁদের অনেকেই ইতোমধ্যে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। যাঁরা বেঁচে আছেন তাঁদের মধ্যে তিন ভাষা সৈনিকের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁরা হলেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ, আইনজীবি ও সাংবাদিক এ্যাডভোকেট রেজাউননবী, প্রবীণ রাজনীতিক এমএ রকীব ও প্রবীণ শিক্ষাবিদ মোঃ আলতাফ হোসেন। এই তিন প্রবীণ ভাষাসৈনিক দেশের বর্তমান সহিংস রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রথমে কোন কথাই বলতে চাননি। তাঁদের সময়ের স্বচ্ছ রাজনীতি আর বর্তমানের জ্বালাও-পোড়াও এর রাজনৈতিক সহিংসতায় এসব প্রবীণ রাজনীতিকরা কথা বলতেই চাইছেন না। বর্তমানে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নামে দেশে যা চলছে, এতে আর যাই হোক, গণতন্ত্রের লেশমাত্র নেই বলে দাবি তাঁদের।

ভাষাসৈনিক এ্যাডভোকেট রেজাউননবী বার্ধক্যজনিত কারণে ভাল করে কথা বলতে পারছিলেন না। তবে আস্তে আস্তে বললেন, ’৫২-এর ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় মিছিলে গুলি বর্ষণের পর ২৩ ফেব্রুয়ারি নওগাঁয় হরতাল পালিত হয়। এসময় হাই মাদ্রাসা (বর্তমানে বিএমসি সরকারী মহিলা কলেজ) মাঠে বাংলা ভাষার দাবিতে পৃথক জনসভায় তিনি বক্তব্য রাখেন। ওই সভায় এমএ রকীব ও খালেদ তাহের মকুও বক্তব্য রাখেন। ১৯৫৩ সালে নওগাঁয় আওয়ামী লীগ গঠিত হলে তিনি তার সদস্য হন। ১৯৫৭ সালে ন্যাপ গঠিত হলে তিনি তার নেতৃত্বে আসেন এবং ’৭২ সাল পর্যন্ত মহকুমা ন্যাপের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এ্যাডভোকেট রেজাউননবী ১৯৬৩-৭২ সাল পর্যন্ত ‘দৈনিক সংবাদ’র নিজস্ব সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। তিনি নওগাঁয় ‘আলীরেজা’ ভাই নামে সমধিক পরিচিত। ১৯৬৯ সালে ইয়াহিয়ার সামরিক শাসন জারি হলে তাঁর বাসভবনের সামনে তাঁকে মিলিটারিরা প্রকাশ্যে বেত্রাঘাত করে। ’৭৫-এর নবেম্বরের শেষদিকে বিভিন্ন প্রগতিশীল ও বামপন্থী দলের রাজনীতিবিদদের সঙ্গে তাঁকেও কারারুদ্ধ করা হয়।

ভাষাসৈনিক এমএ রকীব ভাষা আন্দোলনে নওগাঁর ছেলেদের অবদানের কথা বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ লগ্নে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ প্রাঙ্গণে সেনানিবাস ছিল। সেই সেনানিবাসের ছাত্ররাই ছিল তখনকার ভাষা আন্দোলনের সঙ্গী ও প্রত্যক্ষদর্শী। সেসময় ঢাকা মেডিক্যালের ছাত্রাবাসে থাকতেন নওগাঁর সুলতানপুরের ভাষাসৈনিক ডা. মঞ্জুর হোসেন। এছাড়া ডা. আমজাদ হোসেন তরফদার, ডা. আবদুল কাইয়ুম খান, ডা. আবু তায়েব মোফাখ্খার হোসেন তাঁরা সকলেই ভাষাসৈনিক। তারা নওগাঁর সন্তান হলেও সেসময় তারা ঢাকা মেডিক্যালে পড়াশোনা করতেন এবং ছাত্রাবাসে থেকে বাংলা ভাষার জন্য আন্দোলন করেছেন। তিনি বলেন, ১৯৫৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবসের ১ম বার্ষিকী নওগাঁয় ঘটা করে পালন করা হয়। কিন্তু প্রগতিশীল ধারার এই আন্দোলন যাতে সফল হতে না পারে, এই লক্ষ্যে এমএ রকীব, খালেদ তাহের মকু ও এএনএম মোজাহারুল হকের বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি করা হয়। তাঁরা আত্মগোপনে থেকে নওগাঁ, রানীনগর, ছাতিয়ানগ্রাম, তিলকপুর ও নশরৎপুর রেলস্টেশন এলাকায় পায়ে হেঁটে বাংলা ভাষা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেন।

ভাষাসৈনিক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মোঃ আলতাফ হোসেন ’৫২-এর ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিচারণের শুরুতেই বলেন, ‘আমি কোন ভাষাসৈনিক ছিলাম না, ভাষাসৈনিক কথাটি ব্যাপক। আমি একজন ভাষা আন্দোলনের শ্রমিক ছিলাম।

প্রকাশিত : ২১ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

২১/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: