মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

ক্রেমলিনকে বুঝতে সর্বনাশা ভুল করে ব্রিটেন-ইইউ

প্রকাশিত : ২১ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

ইউক্রেন সঙ্কটের পূর্ববর্তী সময়ে ক্রেমলিনের মনোভাব বুঝতে এক সর্বনাশা ভুল করে ব্রিটেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এ অভিযোগ তুলেছে যুক্তরাজ্যের হাউস অব লর্ডসের ইইউ বিষয়ক কমিটি। অন্যদিকে যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে সক্রিয় করার লক্ষ্যে ইউরোপীয় উদ্যোগ সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে লড়াই সংঘটিত হয়েছে। খবর বিবিসি অনলাইনের।

ইইউ কমিটি দাবি করেছে, ওই সঙ্কটে ইউরোপ ছিল স্বপ্নচারী। কমিটি বলেছে, ইইউ ইউক্রেনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করতে গিয়ে রুশ বৈরিতার গভীরতা উপলব্ধি করেনি। লর্ডস কমিটির রিপোর্টে আরও বলা হয়, এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় ব্রিটেনকে যথাযথ সক্রিয় বা দৃষ্টিগ্রাহ্য দেখা যায়নি। কমিটি পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ অফিসে এফসিও ব্যয় সঙ্কোচনের নিন্দা জানায়। এর অর্থ এফসিওতে রুশ বিশেষজ্ঞ ছিলেন বেশ কমসংখ্যক এবং বিশ্লেষণে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে কম। একই ধরনের ক্ষয়িষ্ণুতা দেখা যায় ইইউ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়গুলোতে। সেখানে ইউক্রেন পরিস্থিতির প্রতি যথাযথ সাড়া প্রদানে এসব মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুতি ছিল খুব কম। রিপোর্টে দাবি করা হয়, দীর্ঘদিন যাবৎ মস্কোর সঙ্গে ইইউর সম্পর্কের ভিত্তি ছিল আশাবাদী পূর্ব ধারণা। অথচ রাশিয়া একটি গণতান্ত্রিক দেশ হওয়ার ক্ষেত্রে বাঁকাপথে চলছে। ফল দাঁড়িয়েছে- ইইউ ২০১৩-তে ইউক্রেনের সঙ্গে একটি এ্যাসোসিয়েশন এ্যাগ্রিমেন্ট স্বাক্ষরের লক্ষ্যে যখন আলোচনা শুরু করে তখন রুশ বৈরিতার গভীরতা মূল্যায়নে ব্যর্থ হয়। কমিটির চেয়ারম্যান লর্ড টুজেনভাট বলেছেন, কমিটি মনে করে ইইউ এবং যুক্তরাজ্য এ সঙ্কটে স্বপ্নচারী হিসেবে অবস্থান নিয়েছিল। কমিটি বলেছে, ইউক্রেনের প্রতি একটা বিশেষ দায়িত্ব ছিল যুক্তরাজ্যের। কারণ ১৯৯৪ সালে বুদাপেস্ট স্মারকে চার স্বাক্ষরকারী দেশের মধ্যে অন্যতম ছিল যুক্তরাজ্য। ওই স্মারকে ইউক্রেনের আঞ্চলিক অখ-তার প্রতি মর্যাদার কথা উল্লেখ রয়েছে। দীর্ঘ সময় রাশিয়াকে কিভাবে মোকাবেলা করা যায় এ ব্যাপারে ব্রিটেন বা ইইউ কোন কৌশলগত সাড়া দেয়নি। এফসিওর এক মুখপাত্র বলেছেন, ইউক্রেনের জনগণ ইইউর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে ইউক্রেনের জনগণই। রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীরা একটি কৌশলগত শহর থেকে হাজার হাজার সরকারী সৈন্যকে বিতাড়িত করার মধ্যদিয়ে যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে অবজ্ঞাভাবে ছুড়ে ফেলে দেয়ার একদিন পর বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে লড়াই সংঘটিত হয়েছে। পাশ্চাত্য দেশগুলো গত সপ্তাহে ফ্রান্স ও জার্মানির উদ্যোগে স্বাক্ষরিত শান্তিচুক্তি প্রত্যাখ্যান করছে এবং এমনকি বিদ্রোহীরা দেবালৎসেভের গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে এলাকা অবরোধ করে চুক্তিটির প্রতি অমর্যাদা দেখিয়েছে। শহরটির কাছে বৃহস্পতিবার কামানের গোলাবর্ষণ চলেছে।

প্রকাশিত : ২১ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

২১/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

বিদেশের খবর



ব্রেকিং নিউজ: