রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

তারুণ্যের পোশাকে একুশ

প্রকাশিত : ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • তৌফিক অপু

ভাষার জন্য যারা দিয়ে গেল প্রাণ

ভুলিনি আমরা..

সত্যিকার অর্থেই ভাষা শহীদরা আমাদের স্মৃতিতে চির অম্লান। মাতৃভাষার জন্য জীবন দেয়ার ঘটনা ইতিহাসে আর নেই। বাঙালীর হাজার বছরের ঐতিহ্যের একটি অন্যতম অধ্যায় হয়ে থাকবে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। যার স্বীকৃতি স্বরুপ ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করা হয়েছে। আর এ কারনেই আমাদের মাতৃভাষা বাংলা খুব মধুর একটি ভাষা। এর মর্যাদাও আমাদের কাছে অনেক। গর্ববোধ হয় এ ভাষার জন্য। সালাম, রফিক, বরকত, জব্বারদের মতো ভাষাসৈনিকরা যে ভাষা প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন, তার আবেগ ও সম্মান বাঙালীদের কাছে অনেক। সত্যিকার অর্থেই মনের আবেগমিশ্রিত এক ভাষা বাংলা ভাষা। আজও মনের মণিকোঠায় জ¦লজ্বল করছে ভাষা শহীদদের নাম। প্রতিবছর বেশ আড়ম্বরেই পালিত হয় মহান ভাষাদিবস। বিভিন্ন আঙ্গিকে স্মরণ করার জন্য চলে ব্যাপক আয়োজন। তেমনি একটি আঙ্গিক ফ্যাশন জগত। ভাষাদিবসকে চিরজাগ্রত করার জন্য ফ্যাশন ট্রেন্ডে চলে ব্যাপক আয়োজন। জাগ্রত করে হচ্ছে ভাষাদিবসের ইতিহাসকে। ফ্যাশন ট্রেন্ডের এই ধারা তরুণ সমাজে বেশ জনপ্রিয়। ফেব্রুয়ারিতে সাদা-কালো রঙের পোশাক যেন হয়ে ওঠে ভাষা শহীদদের প্রতি নীরব সম্মান জানানোর মাধ্যম। এ রকম ঐতিহ্য আর ইতিহাসের কথা মনে রেখে পোশাক পরেন অনেকেই। কেউ কেউ আবার শুধু পোশাক কিংবা রূপসজ্জায় নয়, অন্য অনেক ক্ষেত্রেই রয়েছেন আরেকটু এগিয়ে।

পোশাকগুলো শোভিত হয় শিল্পীর তুলিতে, ভাষার কবিতা ও গানের পঙক্তিতে। সমন্বয় ঘটানো হয়েছে ঐতিহ্য এবং আধুনিকতার। প্রায় সব আউটলেটেই দেখা মিলবে একুশের পোশাক। বিষয়ভিত্তিক পোশাক এখন সব বয়সীদের কাছেই জনপ্রিয়। বিশেষ করে ভাষাদিবস, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসের মতো উপলক্ষগুলো। যে কোন উপলক্ষেই দারুণভাবে সাড়া জাগায় পোশাকগুলো। যে কারণে সব বয়সীদের জন্য ডিজাইন প্রস্তুত করা হয়। তবে তরুণদেরকেই প্রাধান্য দেয়া হয়। সব ধরনের পোশাকেই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে একুশের ভাবগাম্ভীর্য। যেহেতু একটু ঠা-া ভাব রয়েছে সেক্ষেত্রে কাপড় সিলেকশনে নেয়া হয়েছে বাড়তি সতর্কতা। কটন, নিপ কটন, মসলিন এবং খাদিকেই প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। ডিজাইনের ক্ষেত্রে চুজ করা হয়েছে সাদা এবং কালোর কম্বিনেশন। যেহেতু শোকাবহ একটি দিন সে কারণে কালোকে প্রাধান্য দিয়ে পোশাকগুলো ডিজাইন করা হয়েছে। তবে এ বছরে গতানুগতিক সাদা-কালোর কম্বিনেশনের বাইরে বেশ কিছু গাঢ় রঙ দিয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে পোশাকগুলো। যেমন এ্যাশ, কফি কালার, পীত কালারসহ আরও কিছু নতুন রঙ। বেশিরভাগ ড্রেসই ফুলসিøভ। হাল্কা ঠা-ার কথা মাথায় রেখে পাঞ্জাবি এবং শর্ট পাঞ্জাবির সঙ্গে উত্তরীয় সংযোজন করা হয়েছে। যা দ্যুতি ছড়াবে আপন মহিমায়। শাড়িতে হ্যান্ড স্প্রে এবং হাতের কাজ এবং কারচুপির কাজ লক্ষণীয়। সরাসরি কিংবা প্রতীকীভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে একুশের ভাবাবেগ। ডিজাইনে তুলে ধরা হয়েছে শহীদ মিনারের প্রতিকৃতি, স্বরবর্ণ ব্যঞ্জনবর্ণ। ডিজাইনের ভেরিয়েশন লক্ষ্য করা যায় টিশার্টে। মিছিল, বিভিন্ন অক্ষর, শহীদ মিনার, বজ্রমুঠি ইত্যাদি স্কেচ, এ্যাম্বুস, স্ক্রিনপ্রিন্ট, হ্যান্ড পেইন্টের মাধ্যমে টিশার্টগুলো ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তবে শুধু মাত্র কালার কম্বিনেশন দিয়েই পোশাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে একুশ। অর্থাৎ সাদা এবং কালো রঙের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে পোশাক। দামও হাতের নাগালে। পাঞ্জাবি এবং শর্ট পাঞ্জাািব মিলবে ৭৫০ টাকা থেকে ১৮০০ টাকা। ফতুয়া ৪৫০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা। টি-শার্ট ২০০ টাকা থেকে ৪৫০ টাকা। শাড়ি ১০৫০ টাকা থেকে ২৫০০ টাকা। মসলিনের শাড়ি ১৫০০ টাকা থেকে ৩৫০০ টাকা। সালোয়ার কামিজ ৬৫০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা। দেশমাতৃকার টান কিংবা বাংলাভাষার প্রতি টান তরুণ সমাজের কাছে এখন অন্যরকম এক আলোড়ন তৈরি করে, যা সত্যিকার অর্থেই ইতিবাচক।

ছবি: অর্ণব

মডেল: তুষার, ঐশী, সম্রাট, রাজীব, ওহি ও আশা

পোশাক : অঞ্জনস

মেকাআপ: পারসোনা

গয়না: মাদুলি

প্রকাশিত : ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

২০/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: