কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ফতোয়া থেকে রক্ষা পেল শিউলি ও আনারুল

প্রকাশিত : ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

আসকের জেন্ডার এ্যান্ড সোশ্যাল জাস্টিস (জিএসজে) ইউনিট বাংলাদেশের ১০টি জেলায় শরিক সংস্থার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে নিজ অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সংগঠিত করার কাজ করছে। এই ইউনিটের কাজের শুরুতে কর্ম এলাকাগুলো, বিশেষত ইউনিয়ন পর্যায়ে সালিশ-অযোগ্য বিষয়ে সালিশ, সালিশে জুতা মারা, বেত্রাঘাত, চুল কেটে দেয়ার মতো অমানবিক শাস্তি দেয়ার প্রবণতা ছিল। এসব এলাকায় কখনও কখনও হিল্লা বিয়ের ঘটনাও ঘটত। জেন্ডার এ্যান্ড সোশ্যাল জাস্টিস কার্যক্রমের মাধ্যমে কর্ম এলাকার মানুষদের মধ্যে পারিবারিক আইন, সালিশ, সামাজিক ন্যায়বিচারের বিষয়ে সচেতনতা তৈরি হয় এবং এই কার্যক্রমের মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধ নারী-পুরুষের সমন্বিত দল মানবাধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, নারী সংগঠন মানবাধিকার নারীসমাজ, স্থানীয় বারের আইনজীবীদের সমন্বয়ে মানবাধিকার আইনজীবী পরিষদ গঠিত হয়। আগে অনেক ক্ষেত্রে হিল্লা বিয়ে বা বেআইনী সালিশের ঘটনা দেখলেও সমাজের দোহাই দিয়ে মানুষ চুপ করে থাকত। মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধে ভূমিকা রেখে উল্লিখিত নাগরিক সংগঠনগুলো এখন স্থানীয় জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে।

জিএসজে গাইবান্ধা সদর থানার বল্লমঝাড়, রামচন্দ্রপুর, বাদিয়াখালী, সাহাপাড়া ইউনিয়নে কাজ করে থাকে। শিউলি বেগম রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের পার্বতীপুর গ্রামের বাসিন্দা। শিউলির স্বামী বোয়ালী ইউনিয়নের পূর্ব পেয়ারাপুর গ্রামের বাসিন্দা আনারুল। ২০০৭ সালে শিউলি ও আনারুলের বিয়ে হয়। পারিবারিক কলহের জের ধরে ২০১৩ সালে তাঁদের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়ে যায়। বিচ্ছেদের সময় এই দম্পতির একটি সন্তান ছিল। ২০১৪ সালে শিউলি ও আনারুল পুনরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বসবাস শুরু করলে এলাকার অনেকে নানা রকম কথাবার্তা বলে এবং কানাকানি করে। পূর্ব পেয়ারাপুর জামে মসজিদে সেক্রেটারি খাজা হাজী আনারুল বরাবর চিঠি ইস্যু করে জানতে চানÑ একবার তালাক দেয়ার পর কিভাবে তাঁরা পুনরায় দাম্পত্য জীবন-যাপন করছেন এবং এর পক্ষে ২০১৪ সালের ২ মার্চে জুমার নামাজের পর পূর্ব পেয়ারাপুর জামে মসজিদে মসজিদ কমিটির সামনে যুক্তি উপস্থাপনের জন্য বলেন। আনারুল সব যুক্তি উপস্থাপনের পর বলেন যে, তাঁরা আবার বিয়ে করেছেন।এরপরও খাজা হাজী ফতোয়া দেন, শিউলি আনারুল একসঙ্গে বসবাস করতে পারবেন না এবং তাঁদের একঘরে করে রাখা হবে। এরপর শিউলি তাঁর বাবার বাড়ি ফিরে আসেন এবং মানবাধিকার সংরক্ষণ পরিষদ রামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন কমিটির কাছে অভিযোগ করেন। ইউনিয়ন কমিটি মানবাধিকার সংরক্ষণ পরিষদ থানা কমিটির নেতৃবৃন্দের সহযোগিতায় একটি দল গঠন করে বিষয়টি নিয়ে কাজ করার জন্য। উক্ত দলে ছিলেন হাছিনা জোয়ারদার, মিনু রানী মহন্ত এবং কাজী আবদুল খালেক। দলটি ঘটনার সত্যানুসন্ধানে যায়। স্থানীয় জনগণের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পান তাঁরা। পরবর্তী সময়ে তাঁরা খাজা হাজীর সঙ্গে কথা বলেন এবং খাজা হাজীকে বুঝিয়ে বলেন যে, শিউলি ও আনারুল একবার তালাকের পর পুনরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। এ ক্ষেত্রে আইনগতভাবে তৃতীয় কোন ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ের প্রয়োজন নেই এবং পুনরায় সংসার করার ক্ষেত্রে আইনে কোন বাধানিষেধ নেই। মানবাধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতৃবৃন্দ খাজা হাজীকে এটাও বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ফতোয়ার নামে বিচারবহির্ভূত শাস্তি প্রদান দেশের প্রচলিত আইনের লঙ্ঘন। শাস্তি প্রয়োগকারী এবং এ কাজে সহায়তাকারী ব্যক্তি দ-বিধিসংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত হবেন।

এর ফলে খাজা হাজী তাঁর আগের অবস্থান থেকে সরে আসেন। এতে শিউলি-আনারুল দম্পতির ওপর থেকে সামাজিক চাপ সরে যায়। সর্বশেষ ফলোআপে জানা যায়, শিউলি-আনারুল দম্পতি একসঙ্গে বসবাস করছেন এবং অপেক্ষা করছেন তাঁদের দ্বিতীয় সন্তান জন্মের জন্য ।

সিতারা শামীম ও আশিক আহমেদ

সৌজন্য : আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)

প্রকাশিত : ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

২০/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: