রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

বাটন মাশরুমের সফল উৎপাদন

প্রকাশিত : ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন

বাণিজ্যিক মাশরুম হিসেবে বাটন মাশরুম বিশ্বসেরা। বিশ্বের সত্তরটিরও বেশি দেশে এর বাণিজ্যিক চাষাবাদ হয়। বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন নামে এই মাশরুমের ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। বিশ্বের সকল দেশে এর ব্যাপক বাজার থাকায় বাণিজ্যিকভাবে পৃথিবীব্যাপী এটি সর্বোচ্চ পর্যায়ে উৎপাদিত হয়। বর্তমান বিশ্বে ব্যাপক চাষাবাদকৃত বাটন মাশরুম মূলত এগারিকাস গনের কিছু বাণিজ্যিক জাত। এই মাশরুমটি প্রাকৃতিকভাবে উত্তর আমেরিকায় প্রচুর জন্মাতে দেখা যায় তবে ইউরোপের দেশগুলোতেও জন্মায়।

সম্প্রতি জাতীয় মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউটে এই মাশরুমের সফল উৎপাদন সম্ভব হয়েছে। পরিণত অবস্থায় এই মাশরুমের আকৃতি ছত্রাকার। অপরিণত অবস্থায় এটি বোতাম বা বাটনের মতো মনে হয় বলে ইংরেজরা এর নাম দিয়েছে বাটন মাশরুম। খাদ্য হিসেবে এই অপরিণত অবস্থাটি খুবই পুষ্টিকর এবং সুস্বাদু।

জোসেফ পিটন ডে টার্নফোর্ট নামক এক ফরাসী উদ্ভিদবিদ ১৭০৭ সালে এর বাণিজ্যিক উৎপাদনে সফল হন। পরবর্তীতে অলিভিয়ে ডে সেরেস নামক এক ফরাসি কৃষিবিদ লক্ষ্য করেন, এই মাশরুমের মাইসেলিয়া বা অনুসূত্র ব্যবহার করে ভালমানের মাশরুম উৎপাদন করা যায়। পাস্তুর ইনস্টিটিউট নামে ফ্রান্সের এক বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান ১৮৯৩ সালে বাটন মাশরুমের বিশুদ্ধ মাতৃবীজ তৈরিতে সমর্থ হয় এবং ঘোড়ার বিষ্ঠায় নির্মিত কম্পোস্টে এর বাণিজ্যিক উৎপাদন নিশ্চিত করে। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী এই মাশরুমের বাণিজ্যিক উৎপাদন ১.৫ মিলিয়ন টনÑ যার বাজার মূল্য ২ বিলিয়ন ইউএস ডলার।

ঢাকার সাভারে অবস্থিত মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউট দীর্ঘদিন যাবত গবেষণা করে এর সফল উৎপাদন নিশ্চিত করেছে। বাটন মাশরুম উচ্চমানের প্রোটিন, বিভিন্ন ভিটামিন এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ লবণসম্মৃদ্ধ খাবার হওয়ায় এর চাহিদা ব্যাপক। ক্যান্সার ও টিউমার প্রতিরোধী গুণ থাকায় এই মাশরুমের ব্যবহার বিস্তৃতি দিন-দিন বাড়ছে। ধানের খড়, গমের ভূষি এবং আরও কিছু সহজলভ্য কৃষি উপকরণ ব্যবহার করে উৎপাদত কম্পোস্টে মাশরুমটির আশাব্যাঞ্জক ফলন এসেছে। মাশরুমটি উৎপাদনে প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত মাশরুম বিশেষজ্ঞ, গবেষক এবং প্রশিক্ষিত জনবল একযোগে কাজ করে যাচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান উপ-পরিচালক কৃষিবিদ নিরদ চন্দ্র সরকার আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘শীতে স্বল্প খরচে চাষীবান্ধব প্রযুক্তিতে আমাদের এই মাশরুম উৎপাদিত হয়েছে। আগামী শীতে এটি আমাদের উৎসাহী উদ্যোক্তা চাষীরা সহজেই উৎপাদন করতে পারবেন।’

লেখক : পিএইচডি গবেষক

উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশিত : ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

২০/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: