মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

জেব্রার শরীরে কেন ডোরাকাটা দাগ

প্রকাশিত : ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • এনামুল হক

জেব্রার গায়ে ডোরাকাটা দাগ কেন? বিজ্ঞানীরা বহুকাল ধরেই এ প্রশ্নে মাথা ঘামিয়েছেন এবং একেক সময় একেক রকম ব্যাখ্যা হাজির করেছেন। নতুন ব্যাখ্যাটি হাজির করার সময় পুরনোটি বাতিল হয়েছে। অথবা গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। সর্বশেষ যে ব্যাখ্যা বিজ্ঞানী সমাজের সামনে তুলে ধরা হয়েছে তা হলো, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং এক ধরনের মাছির কামড়ে পরিবাহিত রোগব্যাধি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্যই ওদের শরীরে ডোরাকাটা দাগের উৎপত্তি।

বস্তুতই প্রকৃতির এক বিস্ময় জেব্রার শরীরের এই ডোরাকাটা দাগ। কেন এমন ডোরাকাটা দাগ, সে প্রশ্নের অন্তত আংশিক জানান পেয়েছেন ব্রেন্ডা ল্যারিসনের নেতৃত্বে একদল মার্কিন বিজ্ঞানী। তাঁদের মতে, এই ডোরাকাটা দাগের সংখ্যা ও ঘনত্ব যে পরিবেশে জেব্রারা বাস করে, সেখানকার তাপমাত্রা দ্বারা নির্ধারিত হয়। তাঁদের এই গবেষণালব্ধ তথ্যটি ব্রিটিশ রয়্যাল সোসাইটির অনলাইন পত্রিকা ‘ওপেন সায়েন্স’-এর জানুয়ারির প্রচ্ছদ কাহিনীতে ছাপা হয়েছে।

গবেষক দল মনে করেন যে, জেব্রার ডোরাকাটা দাগের ব্যাপারটা আগে যেমনটা ধারণা করা হয়েছিল, তার চেয়ে অনেক জটিল। এখানে তাপমাত্রার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ল্যারিসন ও তাঁর সহকর্মীরা প্লেইনস জেব্রা নিয়ে ব্যাপক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান। তিন প্রজাতির জেব্রার মধ্যে এই প্রজাতিটা সচরাচর দেখা যায়। এটি ইথিওপিয়ার দক্ষিণভাগ থেকে শুরু করে পূর্ব আফ্রিকার বিশাল তল্লাট হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার উত্তরভাগ পর্যন্ত দেখা যায়। এই প্রজাতির জেব্রার ডোরাকাটা দাগগুলো ব্যাপক রকমের। অপেক্ষাকৃত উষ্ণ পরিবেশের জেব্রার ডোরাকাটা দাগগুলো মোটা এবং গোটা শরীর জুড়ে ব্যাপৃত। আবার অন্যান্য এলাকার বিশেষত দক্ষিণ আফ্রিকা ও নামিবিয়ার মতো দেশে যেখানে শীতকালটা অপেক্ষাকৃত বেশি ঠা-া, সেসব অঞ্চলের জেব্রার ডোরাকাটা দাগগুলোর সংখ্যা কম। এগুলো অপেক্ষাকৃত সঙ্কীর্ণ এবং হাল্কা রঙের। কোন কোন ক্ষেত্রে পা কিংবা শরীরের কোন কোন জায়গায় ডোরাকাটা দাগ নেই বললেই চলে।

আজ থেকে ২০ লাখ বছরেরও বেশি আগে ঘোড়া থেকে জেব্রার উৎপত্তি। এর আগে বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল যে, ওদের শরীরে ডোরাকাটা দাগ কোন একটি কারণে অথবা চারটি প্রধান কারণের সমষ্টি থেকে সৃষ্টি হয়েছে। যেমন- শিকারীদের বিভ্রান্ত করা, রোগ-জীবাণুবাহী কীটপতঙ্গের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা এবং সামাজিক সংহতি বজায় রাখা। আগের বিভিন্ন গবেষণায় একটি মাত্র কারণকে চিহ্নিত করা হয়েছিল। কিন্তু ল্যারিসন ও তাঁর দলের গবেষণায় এ সংক্রান্ত বেশ কিছু অনুমানকে পর্যালোচনা এবং একটির সঙ্গে অপরটিকে যাচাই করে দেখা হয়। আফ্রিকার ১৬টি জায়গায় জেব্রার উপরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে এবং ডজন দুয়েক পরিবেশগত বিষয় বিবেচনায় নিয়ে গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন যে, তাপমাত্রাই হলো জেব্রার ডোরাকাটা দাগ হওয়ার সবচেয়ে জোরালো কারণ। গবেষণার মধ্য দিয়ে এই প্রথম প্রমাণ পাওয়া গেল যে, থার্মোরেগুলেশন বা শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণই জেব্রার ডোরাকাটা দাগ হওয়া এবং সেই দাগের নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য লাভের প্রধান কারণ।

পৃথক এক গবেষণা চালিয়ে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড্যানিয়েল রুবেনস্টেইন জোর দিয়ে বলেছেন যে, মোটা মোটা ডোরাকাটা দাগওয়ালা জেব্রাদের শরীরের বাহ্যিক তাপমাত্রা একই সাইজের অন্যান্য প্রাণী যেমন- এন্টিলোপের তুলনায় ৫ ডিগ্রী ফারেনহাইট কম। একই এলাকায় বসবাসরত এন্টিলোপের শরীরে কোন ডোরাকাটা দাগ নেই। ল্যারিসন কেনিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, তানজানিয়া, উগান্ডা ও জিম্বাবুয়েসহ আফ্রিকা জুড়ে তার ফিল্ড ওয়ার্কের সময় অসংখ্য জেব্রার ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান। আঙ্গুলের চাপ যেমন প্রতিটিই প্রতিটি থেকে স্বতন্ত্রÑ কোনটির সঙ্গে কোনটির মিল নেই, জেব্রাদের ডোরাকাটা দাগও তেমনি। একটা জেব্রার দাগের সঙ্গে অন্য জেব্রার দাগের মিল নেই। এই বাস্তবতাকে কাজে লাগিয়ে ল্যারিসন এক জেব্রার সঙ্গে অন্য জেব্রার পার্থক্য টানতে সক্ষম হন। তিনি ও তাঁর দল জেব্রার টিস্যুর নমুনা সংগ্রহ করেছেন এবং ডোরাকাটা দাগ সৃষ্টির জন্য কোন্ জিনটি দায়ী, তা চিহ্নিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

প্রকাশিত : ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

২০/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: