মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ব্যবসায়ী, শিল্পপতিদের শতাধিক দাবিদাওয়া

প্রকাশিত : ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

এম শাহজাহান ॥ হরতাল-অবরোধের ক্ষয়ক্ষতির ফর্দ বড় হচ্ছে। ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের বাণিজ্যিক সংগঠনগুলো থেকে খাতভিত্তিক ক্ষয়ক্ষতির হিসাব-নিকাশ প্রায় চূড়ান্ত। আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এই ফর্দ তুলে দেয়া হবে সরকারের হাতে। যেখানে ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ দিয়ে শতাধিক দাবি-দাওয়া করা হয়েছে। এছাড়া আগামী ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটে প্রণোদনা প্যাকেজ চাওয়ারও চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের। জানা গেছে, আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ব্যবসায়ীরা ছয় মাসের ব্যাংক

সুদ পুরোপুরি মওকুফ, ছয় মাসের জন্য ঋণের কিস্তি নেয়া বন্ধ রাখা, মেয়াদী ঋণের সময় বর্ধিতকরণ, সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনা, ব্যাংক খাতে ৫০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ রয়েছে এমন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপের ঋণ ১২ বছর মেয়াদে পুনর্গঠনের সুযোগ রেখে যে নীতিমালা অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক সেই সুবিধা আরও ছোট ঋণের ক্ষেত্রেও নিশ্চিত করার দাবি করা হবে। এছাড়া আগামী বাজেটে কোন ধরনের আমদানি-রফতানি শুল্ক যাতে না বাড়ে সে বিষয়েও ব্যবসায়ীরা দাবি জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এছাড়া হরতাল-অবরোধের ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আগামী এক বছর বিদ্যুত ও গ্যাসের দাম না বাড়ানো, রফতানিতে নগদ সহায়তার পরিমাণ বাড়ানো, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য জামানতবিহীন ঋণ প্রদান, পোশাক রফতানিতে উৎসে কর কমানো, রফতানি ইন্সুরেন্সের প্রিমিয়াম হ্রাস, রফতানিতে নীতি সহায়তা বাড়ানো, ইইউ বাজারে রফতানির ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা প্রদান, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধে ব্যাংকিং খাতের সহযোগিতা, বন্দর চার্য হ্রাস, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে তেলের দাম কমানোর দাবিও রয়েছে।

এফবিসিসিআই বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীদের দাবিগুলো দ্রুতই সরকারের কাছে তুলে ধরবে। ইতোমধ্যে কোন কোন খাতে কি ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে সে তথ্য জানাতেও এফবিসিসিআই থেকে বিভিন্ন এ্যাসোসিয়েশন ও চেম্বারকে জানানোর জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রাক-বাজেট আলোচনায় হরতাল-অবরোধের ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আমদানি-রফতানি শুল্ক না বাড়ানোর দাবি-দাওয়া করা হবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ জনকণ্ঠকে বলেন, বিএনপি-জামায়াতের হরতাল-অবরোধের কারণে এ পর্যন্ত বিভিন্ন খাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১ দশমিক ২০ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এই পরিমাণ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অবশ্যই সরকারের কাছে সহযোগিতা চাওয়া হবে। তিনি বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যে এর আগে এত বড় ক্ষতি কোনদিন হয়নি। এর আগে গত ২০১৩ সালেও বিএনপি জোটের হরতালের কারণে দেশে অর্থনৈতিক বিপর্যয় নেমে এসেছিল। এবার একইভাবে অর্থনীতিকে ধ্বংস করার চক্রান্ত হচ্ছে। অর্থনীতিকে বাঁচাতে হলে হরতাল-অবরোধ চিরতরে বন্ধ করা প্রয়োজন।

এই কমিটির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম মুশের্দী জনকণ্ঠকে বলেন, আমরা এ পর্যন্ত একটি বৈঠক করেছি। দেশের প্রতিটি গার্মেন্টস হরতাল-অবরোধের শিকার। তাই এ খাতকে বাঁচাতে হলে সরকারকে এখনই কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বাকিটা আগামী বাজেটে বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি বলেন, সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার সঙ্গে সঙ্গে মেয়াদী ঋণের সময় বর্ধিত করতে হবে। এছাড়া শ্রমিকদের বেতন-ভাতা প্রদানে মালিকরা যাতে কোন সমস্যা না পড়ে সেজন্য ব্যাংকগুলোকেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে হবে।

তাঁর সঙ্গে সুর মিলিয়ে বিজিএমইএর সহ-সভাপতি মোঃ শহিদুল্লাহ আজিম জনকণ্ঠকে জানান, গার্মেন্টস খাত ভয়াবহ সঙ্কটের মধ্যে রয়েছে। এই সঙ্কট থেকে উত্তরণে ছয় মাসের কিস্তি বন্ধ রাখাসহ ব্যাংক সুদ মওকুফ করে দিতে হবে। এছাড়া ৫০০ কোটি টাকার কম যাদের ঋণ রয়েছে তাদেরও ঋণ পুনর্গঠনের সুযোগ দেয়া জরুরী হয়ে পড়ছে। হরতালের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি আবুল কাশেম আহমেদ বলেন, এগিয়ে যাওয়া অর্থনীতিকে পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীদের বাঁচাতে হলে বড়-ছোট সবার জন্য ঋণ পুনর্গঠনের সুযোগ দিতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশেই অর্থনৈতিক সঙ্কট মেটাতে এ ধরনের সুযোগ দেয়া হয়।

জানা গেছে, হরতাল-অবরোধে এ পর্যন্ত কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার একটি হিসাব-নিকাশ করবে অর্থ মন্ত্রণালয়। ব্যবসায়ীরা যে হিসাব-নিকাশ কষেছেন তার সঙ্গে কিছুটা ভিন্নমত রয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে সাংবাদিকরা এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি জানান, মন্ত্রণালয় থেকে এ ধরনের হিসাব-নিকাশ কখনও করা হয়নি। তবে এবার একটি হিসাব করা হতে পারে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ হওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে যা কিছু করণীয় তা করা হবে। তবে অর্থমন্ত্রী জানান, হরতাল-অবরোধে দেশের গার্মেন্টস খাতের তেমন কোন ক্ষতি হয়নি। কারণ এ সেক্টরটি হরতাল-অবরোধের বাইরে রয়েছে। এছাড়া হরতাল-অবরোধের মধ্যেও পোশাক কারখানাগুলোতে কাজ হয়েছে।

ব্যাংক ও ট্যাক্স সংক্রান্ত কমিটির সভা ॥ চলমান হরতাল-অবরোধে বস্ত্র খাতের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে নতুন বাজারে ২ শতাংশ প্রণোদনা বাড়ানোর প্রস্তাব দেবেন ব্যবসায়ীরা। আগামী রবিবার নতুন এ প্রণোদনা চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যাংক ও ট্যাক্স সংক্রান্ত কমিটি।

কমিটির আহ্বায়ক আবদুস সালাম মুর্শেদী আরও বলেন, চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় যে ক্ষতি হয়েছে তার জন্য আমারা সরকারের কাছে নীতি সহায়তা চাইব। বর্তমানে যে পরিমাণ সহায়তা চালু আছে তা অব্যাহত রাখতে অনুরোধ করব। পাশাপাশি নতুন বাজারে বর্তমানে ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হবে। শিল্প রক্ষায় যেন শর্টটার্ম এর জন্য ব্যাংকগুলো সুদ ছাড়া ঋণ দেয়। এতে শ্রমিকদের দ্রুত বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে পারবেন শিল্প মালিকরা।

প্রকাশিত : ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

২০/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: