কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

মোদির জাগরণে মার্কিন প্রেরণা

প্রকাশিত : ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • জাফর ওয়াজেদ

গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অবস্থান তৈরি করতে নরেন্দ্র মোদিকে খুব বেগ পেতে হয়নি। তাঁর এ উত্থানের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তাই মোদি যখন ওবামাকে আলিঙ্গন করেন, তখন স্পষ্ট হয় উভয়ের আন্তরিকতা গভীর থেকে গভীরতর হওয়ার নেপথ্যে রয়েছে বিশ্ব ভূ-রাজনীতির নানা স্তর। বিজেপি নামক দলটি আদিতে মার্কিন ঘেঁষা হলেও মোদি ছিলেন এক সময় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অপাঙ্ক্তেয়। সেই বর্জ্যস্তূপ থেকে তাদের কল্যাণেই বেরিয়ে আসা মোদি হালে পানি পেয়ে গিয়েছেন। ভারতে ওবামার সাম্প্রতিক সফর এবং মোদিকে নিয়ে মাতামাতি বিশ্ববাসীর দৃষ্টি কেড়েছে। এত মাখো মাখো ভাব অতীতে ভারত অবলোকন করেনি। মার্কিন-ভারত ঘনিষ্ঠতার নয়া দিগন্ত প্রতিবেশীদের ভাবনার বিষয় বৈকি! এর ওপর নির্ভর করছে এ অঞ্চলের রাজনৈতিক গতিবিধি কোন্্দিকে প্রবাহিত হবে। মোদি-মার্কিন ঘনিষ্ঠতা বিস্ময়কর মনে হয়েছে তাদের কাছে, যাঁরা দেখেছেন মোদিকে যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ করেছিল, সেই মোদিকে আলিঙ্গন; সেকি ভুল ভাঙানোর দায় থেকে হয়ত বা হয়ত নয়। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর যুক্তরাষ্ট্র মোদিকে বিশেষভাবে সংবর্ধিত করেছিল, সম্মাননা দেখিয়েছিল।

স্মরণ করতে পারি, গুজরাটে হত্যাযজ্ঞ চালানোর দায়ে দাঙ্গাখ্যাত নরেন্দ্র মোদি যখন অপরাধের ঝোলা কাঁধে অস্তায়মান ক্রমশ, তখন তাতে প্রাণ সঞ্চার করেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। হারিয়ে যাওয়ার পথ ধরে যখন হাঁটছিলেন মোদি ভারতবাসীর ঘৃণা ও ধিক্কার ঘাড়ে ও কাঁধে নিয়ে। এমনকি বিশ্ববাসীরও। তখন মার্কিনীদের মোদির ভিসা খারিজ করার এক ঘোষণা তার প্রাণভ্রমরাকে সঞ্জীবিত করে তুলেছিল। মোদির পক্ষে দাঁড়িয়ে গিয়েছিল তারাও, যারা তাকে ঘৃণা করত বিরোধিতায় ছিল এককাট্টা। মোদির ভাগ্য যেন খুলে গেল মার্কিনী এক সিদ্ধান্তেই। দেখা গেল, মোদির পক্ষে সম্মিলিত কণ্ঠ খোদ ভারতেই। ২০০২ সালের সেই ‘নিন্দনীয়’ ঘটনার রেশ ধরে মোদি ক্রমশ জনপ্রিয়তার শিখরে ওঠে গেলেন শুধু নয়, ভারতের ক্ষমতায়ও আসীন হলেন ২০১৪ সালে বীরদর্পে। ১৩০ বছরের পুরনো দল ভারতীয় কংগ্রেসকে দৃশ্যপট থেকে প্রায় সরিয়ে দিলেন। যে মোদিকে প্রত্যাখ্যান করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, সেই মোদির পাশেই নয় বছর পর তাদেরই দাঁড়াতে হয়েছিল শুধু নয়, আজ গলাগলিও করছে। মোদির প্রতি সজাগ দৃষ্টি নিয়ে তারা সর্বোচ্চ সম্মানও দিয়েছে বিজয়ের পর মার্কিন সফরকালে।

স্মরণ করা যায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট তখন জর্জ ডব্লিউ বুশ জুনিয়র। গুজরাটে সহিংস দাঙ্গার ঘটনার নায়ক হিসেবে মোদিকে অভিযুক্ত করে মার্কিন প্রশাসন তাকে দেয়া ভিসা প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। অথচ মোদির দল বিজেপি হলো মার্কিন ঘেঁষা। অবশ্য মার্কিনীদের এ সিদ্ধান্তের পেছনে উপমহাদেশের রাজনীতিতে তাদের অবস্থানগত দিকটি ছিল প্রকট। পাকিস্তানকে খুশি রাখার জন্য তারা এ পথটি বেছে নিয়েছিল। মুসলিম নিধনে পাকিস্তান ক্ষুব্ধ হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে পুরনো একটি গল্প মনে পড়ছে। সরকারী কোষাগার নিঃশেষ করে এক সময়ের মার্কিন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট হয়ে উঠেছিলেন পরম বেকারবান্ধব। সমালোচকরা বলেছিলেন, অপদার্থদের চাকরি দিয়ে কোনই উপকার হবে না জাতীয় অর্থনীতির পক্ষে। তাতে ক্ষেপে গিয়ে রুজভেল্ট বলেছিলেন, ‘যত খারাপই হোক লোকগুলো, ওরা তো আওয়ার সান অব এ বীচ।’

ভিসাকা- মোদির জীবনকে পরমার্থ করে তুলেছে। ২০০৫ সালে গুজরাট ঘটনার বেশ পরে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী মোদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ভাষণ দিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন এশীয়-আমেরিকান হোটেল মালিকদের একটি সংগঠন; যার অধিকাংশ সদস্যই গুজরাটি। সাংগঠনিক সদস্য সংখ্যা তখন আট হাজার তিন শ’ জন। তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন ও পরিচালিত হাজারবিশেক হোটেল ও মোটেল রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে। যার মিলিত আয়তন যুক্তরাষ্ট্রের আতিথেয়তা শিল্পের ৪০ শতাংশ। মোট আয় বছরে তখন তাদের ১৮ লাখ কোটি টাকা। কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ। এ সংস্থাকে বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ী হিসেবে কাছে পাওয়ার জন্য মোদি এর আগে বেশকিছু বছর ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন; কিন্তু এ কারণসহ অন্যান্য কারণে সংস্থাটি বিভক্ত হয়ে পড়ে দু’ভাগে। কোন্দলের কারণে ২০০৪ সালে সংস্থাটির নির্বাচন হতে পারেনি। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। শেষ পর্যন্ত রায়ে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয় ২০০৫ সালের আগস্টে, মোদির প্রস্তাবিত মার্কিন সফর ছিল ওই প্রচারেরই অঙ্গ। মার্কিন মুলুকে গুজরাটি হোটেল মালিকদের নবীন প্রজন্ম তখন মোদি সমর্থক আর প্রবীণদের অধিকাংশই মোদিবিরোধী। মোদি মেরুকরণ ঘটে সহজেই তাদের মধ্যে। দাঙ্গা পরবর্তীকালে, যখন সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী মার্কিন ভূমিতে দাঁড়িয়ে বলেছিলেনÑ ‘গুজরাটের ঘটনাবলীর কথা মনে পড়লে আমার মাথা লজ্জায় হেঁট হয়ে যায়।’ মোদিকে তিনি পরিত্যক্তই করেছিলেন। তখন কিন্তু অনেক অভিমানী গুজরাটি ব্যবসায়ীই কথাটা হজম করতে পারেননি। স্বাভিমানে তাদের লেগেছিল ঘা।

ভারতের মোদিপন্থীরা এই স্বাভিমানের প্রশ্নটিকেই সামনে রেখে নেমেছিল প্রচারাভিযানে। আহমেদাবাদে মার্কিনবিরোধী ‘স্বাভিমান সমাবেশে লালকৃষ্ণ আদভানী তো মোদির মার্কিন ভিসা খারিজকে তুলনা করেছিলেন মহাত্মা গান্ধীর ডান্ডিযাত্রার সঙ্গে। কারণ দুটি ঘটনাই নাকি ছোট ব্যাপার থেকে ঐতিহাসিক পালাবদলের উদাহরণ। মোদি তো নিজেই নিজেকে গান্ধীর সঙ্গে তুলনা করেছেন। বলেছেনও গান্ধীকে দক্ষিণ আফ্রিকায় ট্রেন থেকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে সাদা উপনিবেশবাদীরা ভারতে নিজেদের সাম্রাজ্য শেষে লাটে তুলে দিয়েছিলেন। আর আজকে তাকে যেসব মার্কিন নেতা তাদের দেশে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি, তাদের নাগরিকেরাই একদিন লাইন দেবে গুজরাটে আসবার অনুমতি প্রার্থনায়। মোদির সেই ভাষ্য নয় বছর পর সত্যিতে পরিণত হয়েছে। খোদ মার্কিন প্রশাসনই মোদিকে বক্ষমাঝে পাওয়ার জন্য নানা কসরত করে যাচ্ছে। সর্বশেষ ওবামার ‘গ্র্যান্ড গালা’ সফর এরই একটি মাজেজা।

মোদির ভিসা খারিজ তথা ২০০৫ সালে ‘ভিসা কা-ে’ ভারতীয় রাজনীতিকদের প্রতিক্রিয়া ছিল তীব্রতর। সব দল এককাট্টা হয়ে ওঠে মার্কিন নিন্দায়। তবে স্বয়ং ক্ষমতাসীন কংগ্রেস জোটের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং যেন অনেকটা রুজভেল্টের মতোই আচরণ করেন। প্রতিক্রিয়াও ছিল তাঁর সেই রকমই। মনমোহন বলেছিলেন, মোদি গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচিত আমাদেরই একরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশাধিকার থেকে বঞ্চিত করে বুশ প্রশাসন প্রমাণ করেছে, ‘সংবেদনশীলতার অভাব এবং অভদ্রতা।’ রাজ্যসভায় প্রধানমন্ত্রী মনমোহনের মন্তব্যের পর অধিবেশন কক্ষ ফেটে পড়েছিল করতালি ধ্বনিতে। মার্কিন ‘দাদাগিরি’র প্রতিবাদে মুখর হয়ে ওঠেন শুধু মোদির দল বিজেপির নেতারাই নন, সঙ্গে অনেক কংগ্রেসীও। ভারতীয় জাতীয়তাবাদের এই প্রবল উৎসাহ বন্যায় একটিবারও উল্টোসুর গায়নি বামপন্থীরাও। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছিল যে, দেখে কে বলবে, মাত্র দশ মাস আগেও কংগ্রেস এবং বামপন্থী জোট মোদির বাস-বাসান্ত শাপ-শাপান্ত করে বিজেপিকে কেন্দ্র থেকে গদিচ্যুত করেছিলেন। গ্রাম-গঞ্জে, মফস্বলে তখন প্রচার করা হচ্ছিল যে, ২০০২ সালে গোধরা পরবর্তী গুজরাট দাঙ্গার গায়ে কাঁটা দেয়া ভিডিও সারা ভারতবাসী নিন্দায় ফেটে পড়েছিল এ সব দৃশ্য দেখে। গুজরাটের প্রসঙ্গ উঠলে লোকসভায় বিরোধী সদস্যরা সমস্বরে বলতেন, ‘দাঙ্গা মোদি’ কিন্তু মার্কিনীদের ভিসা প্রত্যাহারের পর এই সুরও স্বর পাল্টে গিয়েছিল। ভিসাকা- ঘটার পর কংগ্রেসী জোট সরকারসহ অন্যদলগুলোও মোদির পক্ষে অবস্থান নেয় মার্কিন বিরোধিতায়। তারা লোকসভায় দাঁড়িয়ে এমনও বলেছিলেন যে, এটা আমাদের ঘরোয়া ব্যাপার। তার মধ্যে কেন নাক গলায় ওয়াশিংটন? প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের স্পষ্টভাষণ ছিল যে, ‘ভারতীয় রাজনৈতিক দলসমূহের মধ্যে বিরোধ ও মতানৈক্য থাকতেই পারে। আমরাই তার সমাধান খুঁজে নেব। এর মধ্যে বিদেশী রাষ্ট্র ও সরকারের হস্তক্ষেপ বা নাক গলানো আমরা বরদাস্ত করতে প্রস্তুত নই।’

আদভানী ও বাজপেয়ীর নেতৃত্বে বিজেপি ক্ষমতায় থাকাকালে ছিল বুশ প্রশাসনের সমর্থক। বেশ গলাগলি সম্পর্ক ছিল। মনমোহন সিংয়ের আমলে ভারত-মার্কিন ঘনিষ্ঠতা দ্রুত বেড়ে যায়। নানা ইস্যুতে দুটি দেশ ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপও নিয়েছে। বামরা এই মার্কিনী ঘেঁষা বিষয়টি পছন্দ করেনি বলে তারা এক সময় কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট সরকার থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছিল।

এটা পরিষ্কার যে, মোদির মার্কিন ভিসা খারিজের মধ্যে বিজেপি নামক দলটি খুঁজে পেয়েছিল তার রাজনৈতিক হৃতসম্মান পুনরুদ্ধারেরই সম্ভাবনা। সে সময় কংগ্রেসের কাছে এ ঘটনার প্রকাশ্য প্রতিবাদ না করা হতো এক ধরনের রাজনৈতিক আত্মঘাতী কর্ম। বামপন্থীদের মার্কিন বিরোধিতা থাকলেও এ সময় তারা মোদির সমর্থনে মার্কিন নিন্দায় ছিল একদম ‘স্পিকটিনট’।

এটা তো বাস্তব এবং প্রমাণিত যে, ‘গোধরা কা-র পর মোদির জনপ্রিয়তায় একেবারে ভাটা পড়েছিল। এমনকি তার নিজ দলেও প্রায় একঘরে। ভিসা খারিজের পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত গুজরাটের বিজেপি বিধায়ক ও সাংসদরা জোট বাঁধছিলেন মোদিকে মুখ্যমন্ত্রিত্ব থেকে তাড়ানোর জন্য। আর তখন স্বয়ং মোদির কাছে জর্জ বুশ হয়ে এসেছিলেন যেন দেবদূত। ভিসা খারিজের সঙ্গে সঙ্গেই মার্কিন বিরোধিতায় যে যাই বলেছেন, সবই মোদির পক্ষে গিয়ে তার কলুষতাকে সাফ সুতরো করে দিয়েছেন। আর এসবই আশীর্বাদে পরিণত হতো মোদির জন্য। ‘দাঙ্গা মোদি’র ‘দাঙ্গাবাজ’ খ্যাতি চাপা পড়ে যেতে থাকল বুশের ‘কৌশলগত’ পদক্ষেপে। তবে বুশ প্রশাসনের রক্ষণশীল সচিবালয় এই চাল কেন চেলেছিল; সে প্রশ্নের জবাব তৎক্ষণাৎই মিলেছিল। পাকিস্তানকে খুশি রাখার জন্য হলেও নেপথ্যে ছিল ইরানে পরিকল্পিত অভিযানে নামার আগে পাকিস্তানের ইসলামপন্থী দলগুলোকে শান্ত রাখা। তাদের বোঝানো যে, হিন্দুবাদী নেতা মোদিকে আমরা ‘টাইট’ দেয়ার পর আর কোন ঝামেলা এখন করবে না। যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য এ অভিযান চালায়নি। পাকিস্তানের ইসলামপন্থী দলগুলো এমনিতেই প্রকাশ্যে মার্কিনবিরোধী ছিল। বুশের ওপর বিরক্তির কারণে বুশ যথেষ্ট ভারতবিরোধী নয় বলে তারা মনে করত। আফগান ও ইরাকে অভিযানের পর বুশ চেয়েছিলেন ইরানে হামলা করতে পাকিস্তানে সামরিক ঘাঁটি ও গোয়েন্দা যন্ত্রপাতি বসাতে। তাই পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশারফের গদিটি শক্তপোক্ত রাখতে তার বিরোধীদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে নিতে পেরেছিল। সেই মোদি মার্কিনীদের আশীর্বাদে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর পদে শপথ নেয়ার আগেই তার ভিসা খারিজের সিদ্ধান্ত বাতিল করে ওবামা প্রশাসন। তারা এ জন্যও দুঃখ প্রকাশ করেছিল। মানবতাবিরোধী যে অপরাধের জন্য মোদিকে তারা অভিযুক্ত করে ভিসা বাতিল করেছিল, সেই অপরাধ যেন মুহূর্তেই ধূলিসাত হয়ে গেল।

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে গত বছরের সেপ্টেম্বরে মোদি মার্কিন সফরে গেলে তাঁকে বেশ সম্মানই দেখানো হয়েছিল। ওবামাসহ বিশ্বের তাবড় তাবড় নেতার সঙ্গে মোদি সদর্পে বৈঠক করেছেন। ‘দাঙ্গা মোদিকে’ মার্কিনীরা বেশ হৃষ্টচিত্তেই গ্রহণ করেছিল। তাদের সমাদরও পেয়েছিল। তারই রেশ ধরে ওবামার গত জানুয়ারি মাসের শেষে ভারত সফরে উষ্ণ-গাঢ় অভ্যর্থনা প্রদান করেছে। মার্কিনীরা এ অঞ্চলে ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখতে চায়। তারা আর যাই হোক ভারত-চীন গভীর সম্পর্ক হোক- এমনটা চায় না। তাই মোদির পাশে সকল সহযোগিতার ভা-ার খুলে দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েছে। ওবামার আলিঙ্গনের ভেতর ‘ভারত মার্কিন ভাই ভাই ধ্বনি উদ্গিরণ হচ্ছে। মার্কিনীদের কারণে মোদি হয়ত হয়ে উঠবে এ অঞ্চলের একচ্ছত্র নেতা। পাকিস্তানকে জঙ্গী ও মৌলবাদীদের আখড়ায় পরিণত করেছে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, তারা ভারতকে জঙ্গী ও মৌলবাদীদের থেকে কতটা সুরক্ষা করতে পারবেÑ তাতে সন্দিহান থেকে যায়। কারণ ভারতে সাম্প্রদায়িক ধারার রাজনৈতিক বিজেপি দাঙ্গা-হাঙ্গামায় যাদের খ্যাতি রয়েছে, তাদের হাতে ভারতের খ্রীস্টান, মুসলমানসহ অন্য ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত নয়। ভারতে খ্রীস্টান ও মুসলমানদের যেভাবে ধর্মান্তরিত করে হিন্দুতে পরিণত করা হচ্ছে, ওবামা প্রশাসনের পক্ষে তা মেনে নেয়া সহজ নয়। বিজেপির অন্তর্গত সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ, শিবসেনা বজরং দল যেভাবে সাম্প্রদায়িক উস্কানির বিস্তার ঘটাচ্ছে; তা মেনে নেয়া মার্কিন প্রশাসনের পক্ষে প্রকাশ্যে সহজতর নয়। যে আগুন নিয়ে মোদির দল খেলা করছে, সে আগুনে মার্কিন বন্ধু মোদিও যে দগ্ধ হতে পারেন, তা অকল্পনীয় নয়। মোদি-ওবামা হাসিমুখ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার পথে তা অন্তরায় বৈকি।

অনিবার্য কারণে আজ স্বদেশ রায়ের নির্ধারিত লেখাটি প্রকাশিত হলো না।

বি.স.

প্রকাশিত : ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

১৯/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: