মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

অস্থির মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব বাড়ছে

প্রকাশিত : ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • এনামুল হক

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল তল্লাটজুড়ে ইরানের প্রভাব বাড়ছে। পাশ্চাত্য এবং তাদের মিত্র সুন্নি আরব দেশগুলো যেখানে ইসলামী স্টেট (আইএস) এর বিরুদ্ধে লড়াই নিয়ে ব্যস্ত সেখানে তিনটি আরব রাজধানী বাগদাদ, দামেস্ক ও বৈরুতে ইরানের কথায় চলছে এমনটা তেহরান কিছুটা হলেও দাবি করতে পারে। এই তিনটি রাজধানীর সঙ্গে সম্প্রতি যোগ হয়েছে ইয়েমেনের রাজধানী সানা-ও। গত ২০ জানুয়ারি সেখানকার শিয়া ধর্মাবলম্বী হুথি বিদ্রোহীরা প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ দখল করে নেয়। এই বিদ্রোহীদের সাহায্য-সমর্থন যোগাচ্ছে ইরান। ইরানীরা অবশ্য প্রকাশ্যে তা অস্বীকার করলেও ঘরোয়াভাবে তা নিয়ে গর্ববোধ করে।

শিয়া বিদ্রোহীদের হাতে সানার পতনের ক’দিন আগে আরেক ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয় যে, ইরান মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ সিরিয়ায় নাক গলাচ্ছে। ঘটনাটি হলো ইসরাইলের ড্রোন হামলায় গোলান মালভূমির সিরীয় অংশে ইরানের সাহায্যপুষ্ট শিয়া মিলিশিয়া হিজবুল্লাহর ৬ জন যোদ্ধার মৃত্যু। তা থেকে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, সিরীয় এলাকায় হিজবুল্লাহ তৎপর। আরও বিস্ময়কর ব্যাপার হলো ড্রোন হামলায় সেখানে মোহম্মদ আলী আল্লাবাদী নামে এক ইরানী জেনারেলও নিহত হয়েছিল। ওখানে তাঁর উপস্থিতি থেকেই বুঝা যায় সিরীয় সরকারের হাতছাড়া হয়ে যাওয়া যে এলাকাটি বিদ্রোহীদের করতলগত হয়েছে সেটা ইরান তার নিয়ন্ত্রণে নিতে চায়। বলাবাহুল্য ভূমধ্যসাগর থেকে এডেন উপসাগর পর্যন্ত গোটা তল্লাটে ইরানের ক্রমবর্ধমান প্রভাব তার শত্রুদের শঙ্কিত করে তুলেছে।

ইরাকের মার্কিন হামলার পর শিয়া প্রাধান্যপুষ্ট সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার মধ্য দিয়ে সেখানে ইরানের প্রভাব বৃদ্ধি শুরু হয়। ২০১১ সালে সুন্নি অভ্যুত্থানের জোয়ার শুরু হলে শিয়া সরকারের প্রভাব প্রতিপত্তিতে ভাঁটার টান লাগে। এ সময় ইরানের বিপ্লবী গার্ডের বৈদেশিক শাখা কুদস্ কোর্স এ অঞ্চলের অস্থিতিশীলতাকে কাজে লাগায়। বলাবাহুল্য কুদস্ কোর্সের অনুসৃত কৌশলগুলোর মধ্যে রয়েছে গুপ্তহত্যা, বোমাবাজি এবং নিজেদের স্বার্থের সহায়ক মিলিশিয়াদের অস্ত্র ও ট্রেনিং যোগান। বিশৃঙ্খলার সদ্ব্যবহার করতে ইরানীদের জুড়ি মেলা ভার।

এদিকে ইরাক ও সিরিয়া সুন্নি জিহাদী আন্দোলন আইএসের উত্থানের ফলে ইরানেরই হাত শক্তিশালী হয়। ইরাকের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ইরানীদের মিত্র নূরী-আল-মালিকী গত মাসে আইএসের হাতে উৎখাত হলে মার্কিন বাহিনী তাঁকে ও তাঁর সরকারকে উদ্ধারে এগিয়ে আসে। তবে বেশিরভাগ কৃতিত্ব ও প্রশংসাই জুটে ইরানের। কারণ সেসময় বাগদাদ যে অক্ষত ছিল এবং সরকার টিকে থাকতে পেরেছিল সেটা সম্ভব হয়েছিল কুদস্ কোর্সের প্রধান কাশেম সুলায়মানির সুচতুর রণকৌশলের কারণে। তিনি বাগদাদের চারপাশে সুদৃঢ় প্রতিরক্ষা ব্যূহ গড়ে তুলেছিলেন।

একইভাবে সিরিয়াও আরও বেশি করে ইরানী ঘূর্ণাবর্তের মধ্যে পড়ে গেছে। হাফিজ আল আসাদ ইরানের সঙ্গে দূরত্ব রক্ষা করে চলেছিলেন। কিন্ত তার ছেলে বর্তমান প্রেসিডেন্ট বাশার সিরিয়াকে ইরানীদের কাছে নিজেকে বেঁচে দিয়েছেন। তিনি নগদ অর্থ, পরামর্শ ও আধাসামরিক বাহিনীর প্রশিক্ষণের জন্য ইরানের উপর নির্ভর করছেন। ওদিকে লেবাননে সে দেশের সামরিক বাহিনীর প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি হিজবুল্লাহও ইরানের সাহায্যপুষ্ট।

এইভাবে এ অঞ্চলে ইরানের প্রভাব প্রতিপত্তি বেড়ে চলেছে এবং তা অন্যান্য দেশ বিশেষত সৌদি আরব ও আমেরিকার উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনিতে আইএসকে সামলাতে তাদের হিমশিম অবস্থা। তার ওপর আছে ইরান। আইএস জঙ্গীদের ঢুকতে না দেয়ার জন্য সৌদি আরব ইরাকের সঙ্গে তার সীমান্ত বরাবর ৬শ’ মাইল দীর্ঘ প্রাচীর তৈরি করছে। অন্যদিকে ইরান শিয়া জঙ্গীদের সাহায্য করতে ইরাকের ভেতরে ঢুকে পড়েছে। ইসরাইলের ড্রোন হামলায় ইরানের সেই গোপন কর্মকা- ফাঁস হয়ে গেছে।

তবে এই অঞ্চলে বড় আকারে শক্তির বিস্তার ঘটানো কিংবা প্রকাশ্য সংঘাতে আসা সম্ভবত ইরানের পক্ষে সম্ভব হবে না। সিরিয়ার সরকারকে টিকিয়ে রাখতে গিয়ে ইতোমধ্যে ইরানের পকেট থেকে কয়েকশ’ কোটি ডলার বেরিয়ে গেছে। আর সেটা হয়েছে এমন এক সময় যখন তেলের দাম পড়ে গেছে এবং পাশ্চাত্যের অবরোধের দংশন তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে উঠেছে। হিজবুল্লাহকে ইরান আগে উদারহস্তে সাহায্য দিত। এখন তাতে টান ধরেছে। ওদিকে ইরানের মিত্র সিরিয়া সরকারের সুন্নি বিদ্রোহীদের প্রতি নিষ্ঠুরতার কারণে ফিলিস্তিনী ইসলামী আন্দোলন হামাস ইরানের কাছ থেকে সরে এসেছে। সবকিছু মিলে ইরান আপাতত ভাল অবস্থানে থাকলেও দূর ভবিষ্যতটা অনাগত সমস্যার ইঙ্গিত বহন করে।

সূত্র : দি ইকোনমিস্ট

প্রকাশিত : ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

১৮/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: