কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ডুমিনি-মিলারের বিশ্বরেকর্ড

প্রকাশিত : ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • বিউটি পারভীন

দলের নামের সঙ্গে ‘চোকার্স’ শব্দটা সেঁটে গেছে স্থায়ীভাবে। কারণ পুরোটা টুর্নামেন্ট দুর্দান্ত খেলে যেন ক্লান্ত আর অবসন্ন হয়ে ওঠে দক্ষিণ আফ্রিকা। তাই অন্যতম ফেবারিট হলেও নকআউট ম্যাচগুলোয় গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পরাজয়ের খড়গটা নেমে আসে দলের ওপর। এমনটা বারেবারেই ঘটেছে। এবারও একাদশ বিশ্বকাপ শুরু করেছে দুর্দান্তভাবেই। একেবারে বিশ্বরেকর্ড গড়ে শুরু। প্রতিবেশী দেশ হলেও শক্তিমত্তায় ক্রিকেট মাঠে অনেক দুর্বলতর জিম্বাবুইয়ে। তারা কিন্তু ঠিকই বিপদে ফেলেছিল প্রোটিয়াসদের। দলীয় মাত্র ৮৩ রানের মধ্যেই তুলে নিয়েছিল চারটি উইকেট। বিপর্যয়টা যখন গুটি গুটি পায়ে এসে ভীতিকর আতঙ্কে রূপ নিতে শুরু করছিল তখনই দাঁড়িয়ে গেলেন ডেভিড মিলার আর জাঁ পল ডুমিনি। শুধু দাঁড়িয়ে থাকলেন বলা ভুল হবে, বিস্ফোরক ব্যাটিং উপহার দিয়ে গড়ে ফেললেন নতুন বিশ্বরেকর্ড। এরপর পঞ্চম উইকেটটা আর শিকার করতেই পারেনি জিম্বাবুইয়ে বোলাররা। আটজন বোলার ব্যবহার করেও চিড় ধরানো যায়নি মিলার-ডুমিনির জুটিতে। মাত্র ১৭৮ বলে তাঁরা অবিচ্ছিন্ন থেকে যোগ করেন ২৫৬ রান। পঞ্চম উইকেটে ওয়ানডে ইতিহাসে বিশ্বরেকর্ড জুটি। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে যে কোন উইকেটে সর্বাধিক রানের জুটি। এছাড়াও ইনিংসের ৫ ও ৬ নম্বরে নেমে জোড়া সেঞ্চুরির তৃতীয় ঘটনার জন্ম। আর দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে প্রথম এমন ঘটনার জন্ম দিলেন এ দুজন। প্রোটিয়া শিবির বিশ্বকাপ শুরু করল বিশ্বরেকর্ড দিয়েই। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাটিংয়ে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা দলটি এবার ‘চোকার্স’ তকমা ঝেড়ে ফেলার মিশনে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে এসেছে। সেটা যে অসম্ভব নয় গোড়াতেই আভাস দিয়ে রাখল দলটি।

শেষ পর্যন্ত যাই ঘটুক দক্ষিণ আফ্রিকাকে কখনই বিশ্বকাপ জয়ের ক্ষেত্রে ফেবারিটের তালিকার বাইরে রাখা যায়নি। এবারও বিশ্বকাপ জয়ের ক্ষেত্রে অন্যতম ফেবারিট প্রোটিয়া শিবির। প্রতি আসরের শুরুটা দুর্দান্ত হলেও তীরে গিয়ে তরী ডোবানোর যে দুর্ভাগ্যটা লেগে আছে সে কারণে চোকার্স নামটা লেগে আছে। এবারও শুরুটা ভালভাবেই করল দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রতিবেশী প্রতিপক্ষ জিম্বাবুইয়েকে রবিবার হ্যামিল্টনের সেডন পার্কে ৬২ রানে হারিয়ে শুভ সূচনা করেছে এবি ডি ভিলিয়ার্সের দল। হ্যামিল্টনের সেডন পার্কে এবার বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর দিনেই প্রোটিয়া শিবিরের প্রতিপক্ষ পার্শ্ববর্তী দেশ জিম্বাবুইয়ে। টস হেরে গেলেও অবশ্য ব্যাটিংটাই পেয়ে যায় প্রোটিয়াসরা। শুরু থেকেই দারুণ বোলিং করে দক্ষিণ আফ্রিকা ব্যাটসম্যানদের চেপে ধরে জিম্বাবুইয়ে। সেই চাপটা এতোই বেশি ছিল যে প্রথম ১০ ওভারে প্রোটিয়ারা মাত্র ২৮ রান তুলতে সক্ষম হয়। দলীয় ৮৩ রানের মধ্যেই জিম্বাবুইয়ে বোলাররা সাজঘরে ফেরত পাঠায় কুইন্টন ডি কক (৭), হাশিম আমলা (১১). ফাফ ডু প্লেসিস (২৪) ও ভিলিয়ার্সকে (২৫)। প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানরা বেশ গলদঘর্মই হয়েছেন প্রতিপক্ষ বোলারদের সামাল দিতে।

দাবার ছক পাল্টে যেতে সময় লাগেনি। নিজের অভিষেক বিশ্বকাপ খেলতে নেমেছিলেন মিলার। তাঁর সঙ্গে অভিজ্ঞতায় এগিয়ে থাকা ডুমিনি। এবার মাথার ঘাম পায়ে পড়তে শুরু করে জিম্বাবুইয়ে বোলারদের। উইকেট আঁকড়ে ধরে রাখার তত্ত্বে বিন্দুমাত্র আগ্রহী ছিলেন না এ দুই ব্যাটসম্যান। বরং স্বাভাবিক যে গতি আর ছন্দে ব্যাট চালাতে পারঙ্গম সেটার বিপরীতেই ব্যাট চালিয়েছেন। প্রোটিয়া শিবিরের আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান বলতে ভিলিয়ার্স, ডি কক, প্লেসিসদেরই দেখা গেছে এতদিন। এবার যেন সে ভূমিকা নিলেন এ দুজন। কিছুই ঘটেনি, নতুন করে শুরু এমন মনোভাব নিয়েই যেন ব্যাট চালিয়ে গেলেন তাঁরা। সব প্রচেষ্টাই বিফল হয়ে যায় জিম্বাবুইয়ে বোলারদের। মিলার ও ডুমিনি উইকেটে থিতু হয়ে যান। সব আক্রমণ ঠেকিয়ে দেন জিম্বাবুইয়ে বোলারদের। এ দুই ব্যাটসম্যানকে আটকানোর জন্য আট বোলারকে ব্যবহার করেও কোন কাজে আসেনি। সবাইকে ব্যর্থ করে দ্রুতগতিতে রান তুলেছেন মিলার-ডুমিনি। পঞ্চম উইকেটে ২৫৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে তোলেন তাঁরা। এজন্য মাত্র ১৭৮ বল খেলেছেন এ জুটি। শেষ ১০ ওভারে তাঁদের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে রান ওঠে ১৪৬। সর্বাধিক ১৫১ রান তোলার রেকর্ড নিউজিল্যান্ডের। আর শেষ পাঁচ ওভারে যোগ হয় ৯৬ রান।

পঞ্চম উইকেটের নতুন বিশ্বরেকর্ড হয়েছে তাঁদের জুটিতে। এর আগে পঞ্চম উইকেটে ইংল্যান্ডের রবি বোপারা ও ইয়ন মরগান আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে গত বছর সেপ্টেম্বরে ২২৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েছিলেন। এটি দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে যে কোন উইকেটের সেরা জুটি। প্রোটিয়াদের পক্ষে এর আগে পর্যন্ত যে কোন উইকেটে সেরা জুটি ছিল হাশিম আমলা ও রিলি রোসাউয়ের ২৪৭ রান। বিশ্বকাপের ঠিক আগেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে হোমসিরিজে এ দুজন গত ১৮ জানুয়ারি জোহানেসবার্গে এ জুটি গড়েছিলেন। ওই ২৪৭ রানের জুটিই এ দুজন তৃতীয় উইকেটে গড়েছিলেন একই সিরিজে ২৮ জানুয়ারি সেঞ্চুরিয়নে। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে পঞ্চম উইকেটের সেরা জুটি ছিল ১৮৩ রানের। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ১৯৯৮ সালের ৩ এপ্রিল ডারবানে অবিচ্ছিন্ন এ জুটি গড়েছিলেন জ্যাক ক্যালিস ও জন্টি রোডস। দুজনই শতক হাঁকান। ৫ ও ৬ নম্বর ব্যাটসম্যানের একই সঙ্গে সেঞ্চুরির এটি ছিল তৃতীয় ঘটনা। এর আগে গত বছর ইংল্যান্ড এবং ১৯৯৭ সালে ভারত এমন ঘটনার জন্ম দিয়েছিল। ৪ উইকেটে ৩৩৯ রানের বড় পুঁজি পায় প্রোটিয়ারা। মিলার মাত্র ৯২ বলে ৭ চার ও ৯ ছক্কায় ১৩৮ এবং ডুমিনি ১০০ বলে ৯ চার ও ৩ ছক্কায় ১১৫ রান করে অপরাজিত থাকেন।

প্রকাশিত : ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

১৮/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: