মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

সাবেক তারকাদের চোখে বাংলাদেশ-আফগান

প্রকাশিত : ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • জাহিদ রহমান

এবারের বিশ্বকাপে আজই বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ। সকালে ক্যানবেরাতে আফগানিস্তানের সঙ্গে মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ক্রিকেট বিশ্বে আফগানিস্তান নবাগত। কিন্তু নবাগতরাই এখন আমাদের জন্যে চ্যালেঞ্জ বললে ভুল হবে না। তুলনামূলক বিচারে আমাদের অভিজ্ঞতার ঝুলি যতোটা বড় সেটা আফগানিস্তানের একদমই নেই। শুধু এই নয়, আফগানিস্তানের বেশিরভাগ ক্রিকেটার-ই মাইগ্রেটেড। পাকিস্তান এবং অন্যান্য দেশ থেকে আসা ক্রিকেটাররা এই দেশে এসে নাগরিকত্ব নিয়ে ক্রিকেট খেলছেন। বোলিং, ব্যাটিং, ফিল্ডিং কোনদিক দিয়েই তারা এগিয়ে নয় মোটেও। কিন্তু তারপরেও বাংলাদেশের সামনে তারা যেন পাহাড় সমান এক চাপ তৈরি করেছে। মনে হচ্ছে যেন আফগানদের হারানোটাই এখন প্রথম কর্তব্য। ক্রিকেট বিশ্বে আফগানিস্তান অতোটা শক্তিশালী না হলেও আজকের ম্যাচের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। একধরনের নিরব প্রশ্নও তৈরি করেছে। তবে সবারই প্রত্যাশা বাংলাদেশ ভাল খেলে জয়ী হবে। সেই প্রত্যাশা মিলিয়ে নিতেই আমরা কথা বলি কয়েকজন সাবেক ক্রিকেটারের সঙ্গে। যারা দীর্ঘদিন ধরে ঘরোয়া এবং জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন। যাদের হাতে হাত রেখে আমাদের ক্রিকেটের উত্থান- তারা সেই ইতিহাসেরই অংশ। সেই ক্রিকেটাররা আজকের ম্যাচটাকে কিভাবে দেখছেন? তাদের পর্যবেক্ষণ আর প্রত্যাশাই বা কী?

খোন্দকার সাইদুল ইসলাম এফি একসময়ের সেরা স্পিনার। অনেকদিন ধরে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেছেন। সদা হাস্যোজ্জ্বল নন্দিত স্পিনার হিসেবে খ্যাত সাবেক এই ক্রিকেটার বর্তমানে ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত। তবে ক্রিকেট নিয়ে আদ্যপান্ত খবর রাখেন। আজকের ম্যাচ প্রসঙ্গে এফি তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘বিশ্বকাপে আজ বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ নিয়ে সর্বত্র এক ধরনের টেনশন তৈরি হয়েছে। কিন্তু এরকম টেনশন হওয়ার কথা ছিল না। আফগানিস্তান আহামরি কোন দল নয়। আমাদের থেকে অভিজ্ঞতা অনেক অনেক কম। কিন্তু আফগানিস্তানকেই নিয়ে এখন ভাবতে হচ্ছেÑ শুধুমাত্র আমাদের আকাশ সমান প্রত্যাশার কারণে।’ এফির মতে, প্রত্যাশা বড় বেশি বিস্তৃত হওয়ার কারণেই খেলোয়াড়দের উপর একটা মনস্তাত্বিক চাপ পড়েছে। একই সঙ্গে মিডিয়ার চাপও কম না। কিন্তু উল্টো করে দেখলে আফগানিস্তানের বেলায় হয়ত এটার কিছুই নেই। তারা একটা কম্পিটিশনে খেলার জন্যেই খেলছে। আগে বাংলাদেশ যেমন অন্যদেশের সঙ্গে খেলতো। কিন্তু এখন আর সেই সুযোগ নেই। চাওয়া-পাওয়া একটা বড় ফ্যাক্টর। এফি বলেন, আজ আফগানিস্তানের সঙ্গে অবশ্যই বাংলাদেশের তরুণরা ভাল। একটা চমৎকার সমন্বয়ের মধ্যে দিয়ে তারা জয় তুলতে সক্ষম হবে। তবে প্রত্যাশা সীমারেখা অতিক্রম করলে সব কাজই দুঃসাধ্য হয়ে ওঠে।

সাবেক তারকা ক্রিকেটার জাভেদ ওমর বেলিম গোল্লা বলেন, ‘নো ডাউট আজকে বাংলাদেশের জন্যে এটি বড় খেলা। এটাকে সহজভাবে বা ছোটভাবে নেয়ার কোন সামান্যতম অবকাশ নেই। আফগানিস্তানকে কোনভাবেই বলবো না খারাপ দল। তারা খারাপ হলেতো আমাদের মধ্যে এত প্রশ্ন তৈরি হতো না।’ গোল্লার মতে, বাংলাদেশকে আজ জিততে হলে তিনটি ডিপার্টমেন্টকেই একইধারায় ভাল করতেই হবে। একটা ভাল টিমওয়ার্ক দেখাতে হবে। শুধু খাতাকলমে এগিয়ে থাকলে হবে না, বাস্তবে সেটা দেখিয়ে জয় নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, দেখুন বাংলাদেশ অন্যদের সঙ্গে হারলে তেমন আলোচনা হবে না। কিন্তু আজ আফগানিস্তানের সঙ্গে হারলে সেটার প্রতিক্রিয়া অনেক বেশি হবে। শুধু ক্রীড়ামোদীরা নন, মিডিয়াও বিষয়টি নিয়ে ঝড় তুলবে। স্বভাবতই ম্যাচটি একটা আগাম টেনশন তৈরি করেছে।

জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার সানোয়ার হোসেন বলেন, ‘আজকের ম্যাচে নিঃসন্দেহে বাংলাদেশ ফেবারিট। আমরা সবাই প্রত্যাশা করছি বাংলাদেশ জয়ী হোক। তবে কোনভাবেই আফগানিস্তানকে খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। যদিও বাস্তবতা এরকম- বাংলাদেশ টিমে যে মানের ক্রিকেটার রয়েছে সে মানের ক্রিকেটার অবশ্যই আফগানিস্তান দলে নেই। কিন্তু পাশাপাশি এটাও সত্য আফগানিস্তানও কম না। বিশেষ করে এই দলটিতে বেশ কয়েকজন ভাল বোলার রয়েছে। আলাদা করে হামিদ এবং শাপুরের নাম বলতে হয়। আর ওদের ফাস্ট বোলিংটা বাংলাদেশের তুলনায় অনেক ভাল। ফলে সতর্কতার প্রয়োজন রয়েছে। সানোয়ারের মতে, বাংলাদেশ দল ওয়ার্মআপ ম্যাচগুলোতে ভাল পারফর্ম করতে না পারায় কিছুটা সন্দেহ রয়ে গেছে। এ কারণেই মূল অর্জনটা আজ মাঠেই দেখাতে হবে। সানোয়ারের ভাষায়, টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের নিঃসন্দেহে ভাল খেলতে হবে। রান বেশি করতে পারলে বাংলাদেশের জন্যে জয়ের চ্যালেঞ্জটা নেয়া সহজ হবে এবং বাংলাদেশ জয়ী হবে।

একসময়ের ফাস্টবোলার সাইফুল ইসলাম খান বলেন, বিবিধ কারণেই আজকের ম্যাচটা বাংলাদেশের জন্যে খুব যে একটা সহজ হবে তা নয়। অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া, প্র্যাকটিস ম্যাচগুলোতে ভাল করতে না পারাÑ এসব যে খোলোয়াড়দের উপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে এতে কোন সন্দেহ নেই। সাইফুলের মতে, বাংলাদেশের ব্যাটিং সাইড চমৎকার। তামিম, সাকিব, মুশফিকদের মতো ধারালো ব্যাটসম্যান রয়েছে। যারা যে কোন সময় সবাইকে চমকে দিতে পারেন। আবার নিরপেক্ষভাবে দেখলে টিম হিসেবে আফগানিস্তান তেমন কিছু নয়। কিন্তু আমাদের সবার উপরেই তারা একটা বাড়তি চাপ তৈরি করতে পেরেছে। সে কারণেই সবার মাঝেই এক ধরনের প্রশ্ন ও দোলাচল তৈরিও হয়েছে। সাইফুল বলেন, বাংলাদেশের তরুণরা সহজভাবে তাদের ন্যাচারাল খেলাটা খেলতে পারলে কোন অসুবিধা হবে না। সবার প্রত্যাশাতো জয়ই- এর বাইরে আর কিছু ভাবার নেই। জয় পেলে আমরা অবশ্যই আরও উজ্জীবিত হবো। তবে চারদিকে প্রত্যাশাটা যেভাবে ছড়িয়ে পড়েছে সেটা খুব বেশি যৌক্তিক মনে হচ্ছে না। আমাদেরকে আজ ভাবতে হচ্ছে- আফগানিস্তানকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ডকে নিয়ে নয়। এ বিষয়গুলোও আমাদের ভাবনায় রাখতে হবে।

প্রকাশিত : ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

১৮/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: