মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

ভারতের অবিস্মরণীয় জয় ॥ ওয়ার্ল্ড কাপ ক্রিকেট-১১

প্রকাশিত : ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • রো ড টু মে ল বো র্ন

বিশ্বকাপ ক্রিকেটের দশম আসর বসে ২০১১ সালে। এবার আবারও বিশ্বকাপ ক্রিকেট আয়োজনের দায়িত্ব পেল এশিয়া। এশিয়ার ভারত, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশে নবম বিশ্বকাপের খেলাগুলো অনুষ্ঠিত হয়। পাকিস্তানে বিশ্বকাপের খেলা হওয়ার কথা থাকলেও সে দেশে রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে সব দেশ খেলতে যেতে অস্বীকৃতি জানানোয় আইসিসি পাকিস্তানের ম্যাচ প্রত্যাহার করে অপর তিন দেশে ভাগ করে দেয়। এবারই বাংলাদেশ প্রথম বিশ্বকাপ ক্রিকেটের সহ-আয়োজক হওয়ার দুর্লভ সুযোগ পায়। যদিও এর আগে ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশের সামনে বিশ্বকাপের আয়োজক হওয়ার সহজ সুযোগ এসেছিল। তবে সেবার বাংলাদেশ সে সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। আইসিসি টফির শীর্ষ ৩টি দল সেবার অংশ নিলেও বাংলাদেশ সেখানে জায়গা করে নিতে পারেনি। ফলে বাংলাদেশের আয়োজক হওয়ার স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেল। সে স্বপ্ন পূরণ হতে কেটে গেল ১৫টি বছর।

আগের বিশ্বকাপে ১৬টি দল অংশ নিলেও এবারে সে সংখ্যা কমিয়ে আবার ১৪টিতে নিয়ে আসা হয়। ফলে আবার প্লেয়িং কন্ডিশন বা নিয়ম-কানুনে কিছুটা রদবদল করতে হয়। ৪ গ্রুপের বদলে আবার দুই গ্রুপ করা হয় । সুপার এইটের বদলে এবারে করা হয় কোয়ার্টার ফাইনাল পর্ব। তবে ওভার সেই ৫০ বহাল থাকে। এবারের বিশ্বকাপে ৪৯টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, দ. আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ড, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, জিম্বাবুইয়ে, বাংলাদেশ, কেনিয়া, নেদারল্যান্ড, কানাডা ও আয়ারল্যান্ড এবারের বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলার সুযোগ পায়। ভারতের ৯টি শ্রীলঙ্কার ৩টি ও বাংলাদেশের ২টিসহ মোট ১৪টি স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ৪৯টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। স্টেডিয়ামগুলো হচ্ছেÑ

ভারত : ইডেন গার্ডেন (কলকাতা, পশ্চিম বাংলা) : আসন সংখ্যা ৬৬,৩৪৯ এ চিদামবরম স্টেডিয়াম (চেন্নাই, মাদ্রাজ) : আসন সংখ্যা ৩৭,২২০এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়াম (ব্যাঙ্গালোর, কর্ণাটক) : আসন সংখ্যা ৩৬,৪৩০ পাঞ্জাব ক্রিকেট এ্যাসোসিয়েশন : আসন সংখ্যা ৪০,০০০ ওয়াংখেড় স্টেডিয়াম (মুম্বাই) : আসন সংখ্যা ৪৫,০০০ ফিরোজ শাহ কোটলা (দিল্লী) : আসন সংখ্যা ৪০,৭১৫ সরদার প্যাটেল স্টেডিয়াম (আহমেদাবাদ, গুজরাট) : আসন সংখ্যা ৫৪,০০০ বিদর্ভ স্টেডিয়াম, (নাগপুর, মহারাষ্ট্র) : আসন সংখ্যা ৪৫,০০০ জন।

শ্রীলঙ্কা : প্রেমদাসা ক্রিকেট স্টেডিয়াম, কলম্বো : আসন সংখ্যা ৩৫,০০০ পাল্লেকেলে ক্রিকেট স্টেডিয়াম : আসন সংখ্যা ৩৫,০০০ মহিন্দ্র রাজা পাকসে ক্রিকেট স্টেডিয়াম, হাম্বামটোটা : আসন সংখ্যা ৫৫,০০০ জন। বাংলাদেশ : শের এ বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়াম, মিরপুর, ঢাকা : আসন সংখ্যা ২৬,০০০ জহুর আহমেদ চৌধুরী ক্রিকেট স্টেডিয়াম, চট্টগ্রাম : আসন সংখ্যা ২০,০০০ জন।

নবম বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী ১৪টি দলকে দুই গ্রুপে ভাগ করা হয়। গ্রুপ পর্বের শীর্ষ ৮টি দল কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে। কোয়ার্টার ফাইনালের সেরা ৪ দল সেমি-ফাইনাল ও সেমি-ফাইনাল বিজয়ী দুই দল ফাইনাল খেলে। ফাইনালে বিজয়ী দল চ্যাম্পিয়ন হয়। গ্রুপ এ তে অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, জিম্বাবুইয়ে কেনিয়া ও কানাডা ও স্কটল্যান্ড গ্রুপ বি তে ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ভারত, দ. আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, বাংলাদেশ, নেদারল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। ১৯ ফেব্রুয়ারি উদ্বোধনী ম্যাচে সাবেক চ্যাম্পিয়ন ভারতের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ আগের বিশ্বকাপে ভারতকে হারাতে পারলেও এ বিশ্বকাপে তা পারেনি। উদ্বোধনী ম্যাচে ভারতের কাছে ৮৭ রানে হেরে যায় বাংলাদেশ। ভারতের এ জয়ের পেছনে ওপেনার বীরেন্দ্র শেবাগের ১৭৫ রানের সুন্দর ইনিংসটি সহায়ক ভূমিকা পালন করে। আর এই পরাজয়ের কারণে বাংলাদেশের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পথে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। অন্তরায় কী! বাংলাদেশ কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতেই পারেনি। শুধু ভারতের বিপক্ষেই নয়, দেশের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ৫৮ রানে অল আউট হয়ে ৯ উইকেটে ও দ. আফ্রিকার কাছে ২০৬ রানে হারায় ইংল্যান্ডকে ২ উইকেটে, আগের বিশ্বকাপে যে আয়ারল্যান্ডের কাছে হেরেছিল তাকে ২৭ রানে হারিয়ে এবং নেদারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৬ উইকেটে বড় জয় পেয়েও কোয়ার্টার ফাইনালে যেতে না পারায় চূড়ান্ত বিজয়োল্লাস করতে পারেনি বাংলাদেশ।

গ্রুপ পর্বে গ্রুপ এ থেকে অস্ট্রেলিয়া পাকিস্তান ৬ ম্যাচের ৫টিতেই জিতে ১০ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে ও শ্রীলঙ্কা ৬ ম্যাচের ৪টিতেই জিতেও ১টি ম্যাচ ড্র করে ৯ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ রানার্স আপ হয়ে সুপার কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে। বি গ্রুপে দ. আফ্রিকা ৬ ম্যাচের ৫টিতেই জিতে ১০ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে ও ভারত ৬ ম্যাচের ৪টিতেই জিতেও এ ছাড়া কোয়ার্টার ফাইনালের অপর ৪ দল হলো অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও নিউজিল্যান্ড। কোয়ার্টার ফাইনালে ১টি ম্যাচ ড্র করে ৯ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ রানার্স আপ হয়ে সুপার কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে।

উঠতে ব্যর্থ হয় জিম্বাবুইয়ে, বাংলাদেশ, কেনিয়া, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ড ও কানাডা। এ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে বড় কোন দল বাদ পড়েনি।

কোয়ার্টার ফাইনালে পাকিস্তান ১০ উইকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে, ভারত ১০ উইকেটে অস্ট্রেলিয়াকে, নিউজিল্যান্ড ৪৯ রানে দ. আফ্রিকাকে ও শ্রীলঙ্কা ১০ উইকেটে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সেমি-ফাইনাল কোয়ালিফাই করে। প্রথম সেমি-ফাইনালে শ্রীলঙ্কা ৫ উইকেটে নিউজিল্যান্ডকে হারায়। নিউজিল্যান্ডের করা ২১৭ রান টপকাতে শ্রীলঙ্কাকে খেলতে হয় ৪৭.৫ ওভার। দিলসান ৭৪ ও সাঙ্গাকারা ৫৪ রান করেন । অপর সেমি-ফাইনালে ভারত চির প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে ২৯ রানে হারায়। আগে ব্যাট করে ভারতের করা ৯ উইকেটে ২৬০ রানের জবাব দিতে গিয়ে পাকিস্তানের ইনিংস গুটিয়ে যায় ২৩১ রানে। ভারতের ম্যাচ উইনার শচিন টেনন্ডুলকর করেন ৮৫ রান। আর তাতে তার ম্যাচ সেরা হতে কোন বেগ পেতে হয়নি। পাকিস্তানের মিজবাহ উল হক ৫৬ রান করলেও ম্যাচ জেতার জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। ২ এপ্রিলের মুম্বাইয়ের ফাইনালে ভারতের সামনে ম্লান হয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে হেরে দ্বিতীয়বার কাপ জয়ের স্বপ্ন ভেস্তে যায় লঙ্কানদের। টস জেতা লঙ্কানরা ৬ উইকেট হারিয়ে ২৭৬ রানের একটি বড়সড় ইনিংস গড়েও ম্যাচ জিততে পারেনি। ফলে কোন কাজেই আসেনি মাহেলা জয়বর্ধনের অপরাজিত ১০৩ রানের চমৎকার ইনিংসটি। শ্রীলঙ্কার ২৭৬ রানের জবাবে ভারত ১০ বল হাতে রেখেই ৪ উইকেট হারিয়ে গৌতম গম্ভীরের ৯৭ ও মহেন্দ্র সিং ধোনির অপরাজিত ৯১ রানের সুবাদে ৬ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয়। ভারতের মহেন্দ্র সিং ধোনি প্লেয়ার অব দ্য ফাইনাল এবং যুবরাজ সিং প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ হন। শ্রীলঙ্কার তিলকারতেœ দিলসান ৯ ম্যাচে ৫০০ সর্বাধিক রান রান করেন এবং পাকিস্তানের শহিদ আফ্রিদি ৮ ম্যাচে ও ভারতের জহির খান ৯ ম্যাচে সর্বাধিক ২১ করে উইকেট নেন। দশম বিশ্বকাপে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার খেলা দর্শকের মনে রেখাপাত করে। অনেকে ভেবেছিল এই দুই দল ফাইনালে খেলবে। কিন্তু দুই দলই ভারতের কাছে হেরে কাপ জয়ের বাসনা হারায়। ভারত যে খুব ভাল খেলেছিল তা নয়। তবু ভাল খেলার পাশাপাশি ভাগ্য তাদের সহায় ছিল বলে কাপ জিততে পারে।

চ্যাম্পিয়ন ভারত দলের নেতৃত্ব দেন মহেন্দ্র সিং ধোনি এবং রানার্স আপ শ্রীলঙ্কার দলের কুমার সাঙ্গাকারা। দশম বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনা করেন পাকিস্তানের আলিম দার ও অস্ট্রেলিয়ার সাইমন টোফেল এবং ম্যাচ রেফারির দায়িত্ব পালন করেন নিউজিল্যান্ডের জেফ ক্রো।

দশম বিশ্বকাপে যে যোগ্য দল হিসেবে ভারত কাপ জয় করেছিল এ কথা না মেনে উপায় নেই। খেলার কথা মানুষ দু’দিন পরে ভুলে গেলেও পরিসংখ্যান ভুলে না। আর পরিসংখ্যানই বলে দেবে কাপ জিতেছিল ভারত। তারপরও এ বিশ্বকাপে দল শ্রীলঙ্কা বা পাকিস্তান কাপ জিতলেও অবাক হওয়ার কিছু ছিল না। (চলবে)

e-mail :syedmayharulparvey@gmail.com

প্রকাশিত : ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

১৮/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: