কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

এবারের বিশ্বকাপে পাক বধের নায়ক

প্রকাশিত : ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • মোঃ নুরুজ্জামান

বহু প্রতীক্ষার ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে ‘নায়ক’ বিরাট কোহলি। সুপার উইলোবাজের সেঞ্চুরির ওপর ভর করে শত্রু দেশের বিপক্ষে বিশ্বকাপে নিজেদের অপরাজেয় রেকর্ডটাকে আরও সমৃদ্ধ করল মহেন্দ্র সিং ধোনির দল। রবিবার এ্যাডিলেড ওভালে ৭৬ রানে বড় জয় পায় চ্যাম্পিয়ন ভারত। ১০৭ রানের ক্ল্যাসিক্যাল ইনিংস খেলেন কোহলি। বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে কোনও ভারতীয় ব্যাটসম্যানের এটিই প্রথম সেঞ্চুরি। আগের সর্বোচ্চ ছিল ৯৮, শচীন টেন্ডুলকরের ২০০৩ সালে।

উন্মাদনার ম্যাচে আগে ব্যাট করে ৩০০ রানের বড় স্কোর গড়ে ভারত শুরুতেই পাকিস্তানকে মানসিকভাবে কোণঠাসা করে ফেলে তার রূপকার কোহলি। ক্যারিয়ারের ২২তম সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে নায়ক অবধারিত তিনি। ১২৬ বলে ৮ চারের সাহায্যে ১০৭ রান করে সোহেলের শিকারে পরিণত হন ক্রেজি বয়। ১৫১তম ওয়ানডেতে ২২ নম্বর সেঞ্চুরি। ২৬ বছর বয়সেই মাত্র সাড়ে ছয় বছরের ক্যারিয়ারে আগের ২১ সেঞ্চুরির পথে দলকে জিতেছেন অনেক বার, হয়েছেন ম্যাচসেরা। তবু বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে সেঞ্চুরির সঙ্গে আর কিছুর তুলনা হয় না। তাই এ্যাডিলেড ওভালের ঐতিহাসিক অর্জনকেই জীবনের সেরা মুহূর্ত বললেন পাক-বধের নায়ক কোহলি।

তিনি বলেন ‘পারলে এ্যাডিলেড ওভালের মাঠটাকে সঙ্গে করে মুড়ে নিয়ে যাই! মানতেই হবে এটা আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সেঞ্চুরি। বিশ্বকাপে ভারতকে হারানোর ম্যাচে ম্যাচসেরা... সত্যি বলতে ছোট্ট এই জীবনের সেরা স্মৃতি এটিইকত।’ ১৯৯২ থেকে ২০১১ পর্যন্ত আগে পাঁচবার মুখোমুখি হয়ে সব’কটিতেই জয় ভারতের, কিন্তু সেঞ্চুরির দেখা এই প্রথম। শুরুতেই পাকিস্তানের মতো উন্মাদনার ম্যাচের সাফল্য আসরের বাকি সময়টায় ভাল করতে সাহায্য করবে বলেই মনে করেন কোহলি। ‘বড় জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করাটা দারুণ ব্যাপার। তার ওপর পাকিস্তানের মতো দলের বিপক্ষে জয় সবসময়ই বাড়তি উদ্দীপনার।’ যোগ করেন তিনি।

দীর্ঘ অস্ট্রেলিয়া সফরে টেস্টে আগুন জ্বলা পারফর্মেন্সের পর স্বল্পদৈর্ঘ্যরে ম্যাচে হঠাৎ করেই চুপসে গিয়েছিলেন! কার্লটন মিড ত্রিদেশীয় হয়ে প্রস্তুতি ম্যাচÑ আগের শেষ ছয় ওয়ানডে ইনিংসে সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল ১৮ রানের! বাকি পাঁচ ম্যাচে ৯, ৪, ৩*, ৮ ও ৫! অফ-ফর্ম কাটিয়ে ফিরলেন উন্মাদনার পাকিস্তান ম্যাচে। ফেরার জন্য এর চেয়ে মোক্ষম আর কি হতে পারত! তবে ওসব একদমই মাথায় ছিল না বলে জানান পাক-বধের নায়ক। কোহলি বলেন, ‘যে পরিমাণ প্রত্যাশার চাপ নিয়ে খেলতে হয় তাতে আমার কোনও অসুবিধা হয় না। আর এটা খুব স্বাভাবিক যখন দেশের হয়ে ভাল করবেন, তখন আপনাকে ঘিরে প্রত্যাশা তৈরি হবে। এতে আমার তেমন কোনও অসুবিধা হয় না!’

ম্যাচের আগের দুদিনের পরিবেশ বর্ণনা করে তিনি আরও যোগ করেন, ‘পাকিস্তান ম্যাচের আগে শুক্র ও শনিবার দুদিন আমাদের হোটেলে তিলধারণের জায়গা ছিল না। সমর্থকরা দখল করে নিয়েছিল! সবারই আবদার ছিল যে করে হোক পাকিস্তানকে হারাতে হবে, জিততে হবে। এটা ভেবে ভাল লাগছে যে সাধারণের চাওয়া পূরণ করতে পেরেছি।’ কোহলি যতই বলুন চাপ নেই। দল হিসেবে ভারত কিন্তু বাড়তি টেনশনেই ছিল। আসর শুরুর আগে সেটা স্বীকারও করেছিলেন অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। প্রায় আড়াই মাস আগে অস্ট্রেলিয়া পৌঁছে একের পর এক হারে মনোবল ভেঙে পড়েছিল তাদের। তার ওপর বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার বাড়তি চাপ। প্রথম ম্যাচেই জ্বলে ওঠায় এবার সামনের ম্যাচগুলোয় কোহলির কাছে প্রত্যাশা আরও বেড়ে গেল।

এ নিয়ে সেনসেশনাল ব্যাটসম্যান বলেন, ‘টিম ম্যানেজমেন্ট আমাকে আগেই জানিয়েছিল, যতটা সম্ভব ক্রিজে থেকে ব্যাটিং করব। একদিক ধরে রাখব। তাতে অপর প্রান্তে থাকা ব্যাটসম্যানরা পিটিয়ে খেলতে পারবে। পাকিস্তানের বিপক্ষে যেটা করেছে শিখর ধাওয়ান ও সুরেশ রায়না।’ গতবার ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে শিরোপা জয়ের পর কোহলিই প্রথম শচীনকে কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। এবার প্রথম ম্যাচেই পাক-বধে তাঁকে নিয়ে আসমান সমান আশায় ভারতীয়রা। সবাই তাঁকে শচীনের ভূমিকায় দেখতে চাইছেন। এটিকে ‘বিশেষ কিছু বলেই মানেন কোহলি।’

বিশ্বকাপে ১৯৯২ সালে প্রথম মুখোমুখি হয় দু-দল। সেবার ভারতের কাছে ৪৩ রানে হারলেও শেষ পর্যন্ত ট্রফি জয় করে ইতিহাস গড়ে পাকিস্তান। এরপর ১৯৯৬-এ ৩৯ রানে, ১৯৯৯ সালে ৪৭ রানে, ২০০৩ বিশ্বকাপে ৬ উইকেটের পর, সর্বশেষ গতবার (২০১১) সেমিফাইনালে ভারতের কাছে ২৯ রানে হারে শহীদ আফ্রিদির পাকিস্তান। ৭৬Ñ সুপার হিরো কোহলির সুপার ব্যাটিংয়ে এবার ব্যবধানটা আরও বড় হলো! কোহলিকে বলা হয় আগামীর শচীন। দেড়শ’ কোটি ভারতবাসী তার মাঝে বিদায়ীয় ক্রিকেট দেবতার ছাঁয়া দেখেন। মাত্র ২৬ বছর বয়সে দেড়শ ওয়ানডের ক্যারিয়ারে দলকে অনেক অনেক সাফল্য এনে দিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীর মনে জায়গা করে নিয়েছেন ক্রেজি কোহলি। ব্যাট হাতে সামর্থ্য প্রমাণের কিছু নেই। সেটি আরও একবার দেখল ক্রিকেট বিশ্ব।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এবার শিরোপা ধরে রাখার পথে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ভারত, সেই কঠিন চ্যালেঞ্জটাকেই নিজের কাঁধে নিতে হতো তাঁকেই। ৫২ গড়ে রান ৬,৩৩৯, সেঞ্চুরি ২২টিÑ অনেকেই বলছেন ভবিষ্যতে শচীনের মতো ব্যাটিংয়ের অনেক রেকর্ড ভেঙে দেবেন কোহলি। নিজের দিনে যেকোনও প্রতিপক্ষের বোলিং তছনছ করে দেয়ার সামর্থ্য রয়েছে তাঁর। সেটি প্রমাণ করলেন আরও একবার। ভক্তরা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের কথা নিশ্চয়ই ভুলে যান নি। সিডনি হয়ে এ্যাডিলেড কী কা-টাই না করেছেন। আট ইনিংসে কোহলির স্কোর ছিলÑ ৪৬, ১৪৭, ৫৪, ১৬৯, ১,১৯, ১৪১ ও ১১৫! কোহলি কি পারেন তা নিয়ে এক বিন্দু প্রশ্ন নেই। পাকিস্তান ম্যাচের পর কোহলির প্রশংসা করে তাই অধিনায়ক ধোনি যেমন বলেন, ‘গর্ব হয় যে বিশ্বকাপে পাকিস্তানের কাছে অপরাজিত আমরা। সেঞ্চুরি হাকিয়ে কোহলি সেই গর্বটাকে আরও বাড়িয়ে দিল। এ জয়ে আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়বে। আশা রাখি টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচেও একইভাবে জ্বলে উঠবে সে।’ রবিবার ভারতের পরের ম্যাচ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে।

প্রকাশিত : ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

১৮/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: