রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

প্রধান মিত্র হয়ে উঠছেন সিসি

প্রকাশিত : ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • আইএসবিরোধী লড়াই

লিবিয়ায় ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালিয়ে মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি, স্বদেশে ইসলামপন্থী বিরোধীদের দমন করার পর জেহাদপন্থীদের বিরুদ্ধে পাশ্চাত্যের লড়াইয়ে একজন প্রধান মিত্র হিসেবে আবির্র্ভূত হয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা এ কথা বলেছেন। খবর এএফপির।

লিবিয়ার সৈকতে মুখোশধারী সুন্নি জঙ্গীদের ২১ জন মিসরীয় খ্রীস্টানের শিরñেদের ভয়াবহ ভিডিও প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা পরে সিসির যুদ্ধবিমানগুলো লিবীয় শহর দার্নরে আইএস শিবির ও অস্ত্রাগারের ওপর বোমাবর্ষণ করে। এই প্রথম মিসর তার পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রতিবেশী দেশের জঙ্গীদের লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর ঘোষণা দিল। এর আগে দেশটি সেখানে চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা অস্বীকার করেছিল। তেলআবিবভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের জ্যাক গোল্ড বলেন, ‘লিবিয়ার, বিমান হামলা একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন উপাদান যোগ করেছে। মিসর ও প্রেসিডেন্ট সিসি আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পাশ্চাত্যের একটি প্রধান মিত্রে পরিণত হয়েছেন।

মিসর দেশের বাইরে আইএসের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ লড়াইয়ের পথ নির্বিঘœ করেছে। যদিও মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, কায়রো ইতোপূর্বে লিবিয়ায় ইসলামপন্থীদের ওপর বোমা হামলা চালানোর জন্য ইউএইকে তার বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল। সিসি বারবার বলে আসলিছেন যে, কায়রো অশান্ত সিনাই উপদ্বীপে ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে’ নিজস্ব লড়াই চালাচ্ছে। সিনাইতে ইসলামপন্থী বিদ্রোহীদের হাতে বহু সংখ্যক পুলিশ সদস্য ও সৈন্য নিহত হয়। মিসরের কর্মকর্তারা দেশে প্রাণঘাতী হামলা চালানোর জন্য নিষিদ্ধঘোষিত মুসলিম ব্রাড়াহুডকে দোষারোপ করেছে। ২০১৩র জুলাইতে তৎকালীন সেনাপ্রধান সিসি ব্রাদারহুডের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করেন। আইএসের সঙ্গে সংযুক্ত আনসার বায়েত আল মাকদিসের মতো জেহাদপন্থী গোষ্ঠী ওইসব হামলার দায়িত্ব স্বীকার করে।

এদিকে, এবিসি নিউজের খবরে বলা হয়, লিবিয়ায় মিসরীয় খ্রীস্টান জিম্মিদের শিরñেদ করে আইএস ভিন্ন দেশেও নৃশংস ঘটনার জন্ম দিল যেসব দেশ তাদের নাগালের বাইরে ছিল বলে এতদিন মনে করা হয়। তবে, অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছেন, আইএসের এই কৌশল বিপরীত ফল বয়ে আনতে পারে। তাদের (আইএস) প্রথাগত ভূখ-ের বাইরে হামলা করার আগ্রহ যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে, তেমনি জঙ্গী গোষ্ঠীর মোকাবেলায় এগিয়ে আসা দেশের তালিকাও বড় হচ্ছে।

ন্যাশনাল কাউন্টার টেরোরিজম সেন্টারের সাবেক পরিচালক ও বর্তমানে এবিসি নিউজের একজন প্রতিবেদক ম্যাট ওলসেন বলেন, ‘এটি পরিষ্কার যে, এতে বিপরীত ফল হচ্ছে।’ আমরা এখন দেখছি আরও দেশ আইএসের বিরুদ্ধে অধিক আক্রমণাত্মক কৌশল গ্রহণ করেছে। ২০১৩তে সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতা দখলকারী মিসরের প্রেসিডেন্ট সিসি রবিবার রাতে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে অন্যায় হত্যাকা-ের প্রতিশোধ নেয়ার অঙ্গীকার করেছেন।

প্রকাশিত : ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

১৮/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: