মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

খালেদার কার্যালয়ে কোন খাবার সঙ্কট নেই

প্রকাশিত : ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • সবাই সুস্থ আছেন

জনকণ্ঠ রিপোর্ট ॥ বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে কোন খাবার সঙ্কট নেই। প্রতিদিনই বাইরে থেকে রান্না করা খাবার সেখানে প্রবেশ করছে। খালেদা জিয়াসহ এ কার্যালয়ে ৪৬ দিন ধরে যারা আছেন তারা সবাই নিয়মিত খেয়ে দেয়ে সুস্থ আছেন। তবে মাঝেমধ্যে হোটেল থেকে আনা অতিরিক্ত খাবার প্রকাশ্যে প্রবেশে বাধা দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। আর এটিকে পুঁজি করেই বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে গুলশান কার্যালয়ে খালেদা জিয়াসহ অন্যরা ক’দিন ধরে না খেয়ে আছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ও ভাইসচেয়ারম্যান সেলিমা রহমানের জন্য প্রতিদিনই আত্মীয়স্বজনের বাসা থেকে রান্না করা খাবার যাচ্ছে গুলশান কার্যালয়ে। এ ছাড়া মাঝে মধ্যে তাদের জন্য আত্মীয়স্বজনরা বিভিন্ন ধরনের শুকনো খাবার এবং ফলমূলও নিয়ে যান। তবে গুলশান কার্যালয়ে অবস্থান করা অন্য নেতাকর্মী, অফিস স্টাফ ও খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ‘সিএসএফ’ সদস্যদের জন্য লাগাতার অবরোধ শুরুর পর অধিকাংশ দিনই হোটেল থেকে প্যাকেটজাত খাবার নেয়া হতো। এ ছাড়া মাঝেমধ্যে ভেতরে রান্নাও হতো। কিন্তু ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে হোটেল থেকে আনা প্যাকেটজাত খাবার প্রকাশ্যে গুলশান কার্যালয়ে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাধা দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

জানা যায়, প্রতিদিন খালেদা জিয়া ও সেলিমা রহমানের জন্য যে খাবার গুলশান কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে তা তারা দু’জন খাওয়ার পরও আরও ক’জনে খেতে পারে। আর ওখানে অবস্থান করা ২০ জনের মতো ‘সিএসএফ’ সদস্য দিনে রাতে অর্ধেক অর্ধেক করে দায়িত্ব পালন করেন। তারা আগে প্রায়ই হোটেল থেকে আনা প্যাকেটজাত খাবার খেতেন। কিন্তু এখন তাদের খাবারের রুটিনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। যারা রাতে দায়িত্ব পালন করেন তারা বাসা থেকেই খেয়ে আসেন। আর যারা দিনে দায়িত্ব পালন করেন তারা রাতে বাসায় গিয়েই খান। তাদের প্রত্যেকেই বাইরে থেকে ভেতরে প্রবেশ করার সময় নিয়মিত কিছু না কিছু খাবার সঙ্গে করে নিয়ে আসেন যা ভেতরে অবস্থান করা অন্যরা খেতে পারেন। জানা যায়, বিএনপি চেয়ারপার্সনের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত সিএসএফ সদস্যদের ক’জন গুলশানের অতিনিকটে কালাচাদপুর এলাকায় থাকেন। আর কিছু সদস্য খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসার পাশে মেস করে থাকেন। আর বাকিরা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিজ নিজ বাসায় থাকেন। তাই প্রতিদিন দায়িত্ব পালনের নির্ধারিত সময় পর তারা বাসায় চলে যান।

অপর একটি সূত্র জানা যায়, খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ের দক্ষিণ ও পূর্বপাশের বাসা দিয়েও মাঝেমধ্যে নেতাকর্মী ও অফিস স্টাফদের জন্য খাবার প্রবেশ করে। এ ছাড়া মাঝেমধ্যেই খাবার পানিসহ কিছু উপকরণ খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে প্রবেশ করে। তখন এসব উপকরণের সঙ্গে চালডালসহ বিভিন্ন খাবার সামগ্রীও ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। কখনও কখনও রাতের বেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ম্যানেজ করেও গেট দিয়ে ভেতরে বিভিন্ন ধরনের খাবার প্রবেশ করে বলে জানা যায়। তবে মাঝে মধ্যে অফিস স্টাফরা আগে থেকে ভেতরে মজুদ থাকা চাল ও ডাল রান্না করে খাবার সারেন। আর কখনও কখনও খাবার পানির সঙ্কট হলে ওয়াসার পানি সিদ্ধ করে বিশুদ্ধ করে পান করেন তারা।

জানতে চাওয়া হলে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেন, খালেদা জিয়া ও সেলিমা রহমানের জন্য বাইরে থেকে আসা খাবার কোনদিনই ভেতরে প্রবেশে বাধা দেয়া হয়নি। তবে হোটেল থেকে নিয়ে আসা প্যাকেটজাত খাবার প্রবেশে মাঝেমধ্যে সমস্যা হচ্ছে। কারণ, খালেদা জিয়ার সঙ্গে যত লোক আছে তাদের জন্য তো প্রতিদিন বাইরে থকে এত বেশি প্যাকেটজাত খাবার আনা দরকার নেই। তবে মাঝেমধ্যে ভেতর থেকে প্যাকেটজাত খাবার বাইরে অবস্থান করা লোকদের মধ্যেও বিলিয়ে দিতে দেখা যায়। তারপরও যারা বলেন, খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে প্রবেশ করতে দেয়া হয়না এবং সেখানে সবাই না খেয়ে আছেন তা জঘন্য মিথ্যাচার। এমন মিথ্যাচার কেন করা হয় তা খুঁজে দেখা প্রয়োজন।

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বাসা ছেড়ে গুলশান কার্যালয়ে আসার পর প্রথম দিকে কিছুটা অসুস্থবোধ করলেও এখন ভালই আছেন বলে জানা গেছে। তিনি প্রতিদিন গভীর রাত পর্যন্ত ঘুমিয়ে দুপুরে ওঠেন। এর পর খাবার ও ভেতরে অবস্থান করা নেতাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করার পাশাপাশি টিভি দেখে সময় কাটান। মাঝেমধ্যে প্রবাসী ছেলে তারেক রহমানসহ আত্মীয়স্বজন ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। এ ছাড়া প্রতিদিনই সন্ধ্যার পর কেউ না কেউ তার সঙ্গে সাক্ষাত করতে গেলে তিনি তাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলেন। দু’তিন দিন পর পর খালেদা জিয়া গুলশান কার্যালয়ের ছাদে উঠে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করেন।

এদিকে মঙ্গলবার দুপুরের দিকে শরীয়তপুর থেকে এক যুবক বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার জন্য কিছু শুকনো খাবার নিয়ে আসলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যরা এ খাবার ফেরত পাঠান। খাবার নিয়ে আসা যুবকের নাম নুরুজ্জামান (২৭)। খাবার নিয়ে খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে প্রবেশে ব্যর্থ হয়ে সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে নুরুজ্জামান বলেন, বিভিন্ন পত্রপত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারেন যে খালেদা জিয়া অভুক্ত আছেন। তাই তিনি খালেদা জিয়ার জন্য বাড়ি থেকে ৪ পাউরুটি, ৪ হালি কলা, ১ কেজি চিড়া এবং ২টি মাম পানির বোতল নিয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়ের সামনে আসেন। কিন্তু পুলিশ তাকে ভেতরে ঢুকতে না দিয়ে খাবারসহ ফেরত পাঠিয়ে দেন।

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে বর্তমানে খালেদা জিয়া ছাড়াও অবস্থান করছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা এম এ কাইয়ুম, খালেদা জিয়ার প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল, বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, বিএনপি চেয়ারপার্সনের প্রেসউইং কর্মকর্তা সায়রুল কবির খান, সামসুদ্দিন দিদার, ৭/৮জন অফিস স্টাফ ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ২০ জন সদস্য।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক বছর পর ৫ জানুয়ারিকে কালো দিবস হিসেবে পালন করতে ওই দিন ঢাকায় সমাবেশ কর্মসূচী পালনের ডাক দেন খালেদা জিয়া। এ কর্মসূচী পালন করতে গিয়ে বড় ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটতে পারে বলে গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে রিপোর্ট পেয়ে সরকার বিএনপিকে সমাবেশ করতে অনুমতি দেয়নি। কিন্তু বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া যে কোন মূল্যে সমাবেশ করার ঘোষণা দেন। সমাবেশের প্রস্তুতি জোরদার করতে ৩ জানুয়ারি রাত থেকে বাসা ছেড়ে গুলশান কার্যালয়ে অবস্থান করে খালেদা জিয়া ২০ দলীয় জোটের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। তবে ৩ জানুয়ারি মধ্য রাত থেকেই খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের সামনে পুলিশী নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। ৪ জানুয়ারি তার কার্যালয়ের সামনে জলকামান, সাঁজোয়া যান ও পুলিশ ভ্যান দিয়ে ব্যারিকেড দেয়া হয়।

৫ জানুয়ারি বিকেলে গুলশান কার্যালয় থেকে বের হতে চাইলে পুলিশ খালেদা জিয়াকে বাধা দেয়। তার আগেই প্রধান ফটকে তালা মেরে দেয় পুলিশ। এক পর্যায়ে খালেদা জিয়ার গাড়ি ফটকের সামনে গিয়ে হর্ন দিতে থাকে আর তার সঙ্গে থাকা মহিলা দলের নেতাকর্মীরা ফটকে লাথি মেরে প্রতিবাদ জানাতে থাকে। এ সময় পুলিশ পিপার স্প্রে মেরে মহিলা দলের নেতাকর্মীদের নিস্তেজ করে দেয়। পরে খালেদা জিয়া গাড়ি থেকে নেমে ৬ জানুয়ারি থেকে সারাদেশে টানা রাজপথ, রেলপথ ও নৌপথ অবরোধ কর্মসূচী পালনের ঘোষণা দেন। আর এসএসসি পরীক্ষা শুরুর পর থেকে অবরোধ কর্মসূচীর সঙ্গে শুক্র ও শনি বাদে সপ্তাহে ৫ দিন করে হরতালও পালন করা হচ্ছে। কিন্তু এ কর্মসূচী পালনের নামে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায়, বিশেষ করে পেট্রোলবোমার আগুনে পুড়ে শতাধিক মানুষ দগ্ধ হওয়ায় সারাদেশে বিএনপি জোটের এ কর্মসূচীকে নিয়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। সেই সঙ্গে কেন খালেদা জিয়া গুলশান কার্যালয় ছেড়ে বাসায় ফিরে যাচ্ছেন না তা নিয়েও ব্যাপক সমালোচনা চলছে।

প্রকাশিত : ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

১৮/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: