কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

নৌমন্ত্রীর মিছিলে বোমা হামলা মামলায় খালেদা প্রধান আসামি

প্রকাশিত : ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

স্টাফ রিপোর্টার ॥ গত সোমবার বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার কার্যালয় ঘেরাওয়ের উদ্দেশে যাওয়া নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের মিছিলে বোমা হামলার নেপথ্য কারণ খতিয়ে দেখতে পুলিশ, র‌্যাব ও একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা অনুসন্ধান শুরু করেছে। এ সংক্রান্ত দায়েরকৃত মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে প্রধান আসামি দেখিয়ে আরও ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে গুলশান থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে।

সোমবার গভীর রাতে রাজধানীর গুলশান মডেল থানায় বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে মামলাটি দায়ের করেন ঢাকা জেলা যানবাহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আলকরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ঈসমাইল হোসেন বাচ্চু।

মামলার এজাহারনামীয় অন্য আসামিরা হচ্ছেনÑ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান (৬৫), জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিকা শিরিন সুলতানা (৪৫), বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস (৫০), প্রেসসচিব মারুফ কামাল খাঁন সোহেল (৫০), বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সালাউদ্দিন আহমেদ (৫০), বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন (৫৫), বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (৬৫), বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হুমায়ুন কবির খান (৫০) এবং বাড্ডার সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার ও বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুল কাইয়ুম (৫০), ঢাকা জেলার সাভার থেকে নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান সালাহ উদ্দিনসহ (৫০) ১৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও মামলায় আরও অজ্ঞাতনামা আসামির কথা বলা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ডাকা দেশব্যাপী চলমান অবরোধ-হরতাল ও নাশকতার প্রতিবাদে গুলশান ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্কে ২৫ থেকে ৩০ হাজার লোক জমায়েত হয়। সেখানে জনসভা শেষে নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের নেতৃত্বে সমবেত জনতা বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয় ঘেরাওয়ের উদ্দেশে মিছিল নিয়ে রওনা হয়। দুপুর পৌনে একটার দিকে মিছিলটি গুলশান-২ নম্বর গোলচত্বরের ৮৬ নম্বর সড়কে যায়। এ সময় মিছিলের মাঝামাঝি জায়গায় মেট্রোপলিটন শপিংমলের ওপর থেকে ২০ দলীয় জোটের সন্ত্রাসীরা বোমা হামলা চালায়। এতে অনেকেই আহত হন। আহতদের মধ্যে ১৬ জনের নাম জানা যায়। আহতদের ইউনাইটেড, সাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। চিকিৎসাধীনদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আসামিদের নির্দেশেই হত্যা, খুন, জখম করার উদ্দেশ্যেই মিছিলে বোমা হামলা চালানো হয়।

প্রসঙ্গত, দেশব্যাপী বিএনপির ডাকা অবরোধে গত ২৩ জানুয়ারি রাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে যাত্রীবাহী বাসে অবরোধের সমর্থনে পেট্রোলবোমা হামলায় ৩১ যাত্রী দগ্ধ হন। দগ্ধদের মধ্যে পরবর্তীতে আল আমিন নামে এক ঠিকাদারের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় পৃথক ৩টি মামলা দায়ের করা হয়। দায়েরকৃত মামলার মধ্যে দুটিতে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করা হয়। মামলা দুটিতে বিএনপির কেন্দ্র্রীয় নেতা ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, এ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাস, এমকে আনোয়ার, শওকত মাহমুদসহ ১৮ জনকে নাশকতার নির্দেশদাতা এবং ৫০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও অনেক নেতাকর্মীকে আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পেট্রোলবোমা মারার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে ধরিয়ে দিতে র‌্যাবের তরফ থেকে ৫ লাখ টাকা করে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। এ মামলায় শহীদুল্লাহ ও পারভেজ নামে দুই আসামি ঢাকার সিএমএম আদালতে ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। তারা ঢাকা মহানগর বিএনপি নেতা নবি উল্লাহ নবীর নির্দেশেই পেট্রোলবোমা মেরেছিল বলে স্বীকার করে। বোমা মারার আগে হওয়া চূড়ান্ত বৈঠকে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন ও মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল উপস্থিত ছিলেন। আর বোমা হামলার সময় বিএনপি নেতা নবী উল্লাহ নবী, এহসানুল হক মিলন, হাবিবুন নবী খান সোহেল আগে থেকেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

প্রকাশিত : ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

১৮/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: