মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

তারুণ্যের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি

প্রকাশিত : ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

তরুণ বয়সে আমরা প্রত্যেকেই নিজস্ব সিদ্ধান্তের ব্যাপারে অন্যের মতামত গ্রহণ করে থাকি। মূলত যেসব ব্যাপারে মনের মধ্যে ইতস্ত বোধহয় এবং ফলাফলের ব্যাপারে সংশয়ে থাকি, সেসব বিষয়ে প্রধানত আমরা অন্যের মুখাপেক্ষী হই। তাই বলে সব বিষয়ে অন্যের পরামর্শ এবং প্ররোচনায় নির্ভর করা নিতান্ত বোকামি ছাড়া আর কিছুই না। যদিও পরামর্শ ও প্ররোচনা শব্দ দুটির মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে, তবুও দুটি শব্দেই পরোক্ষভাবে প্রভাবিত হওয়ার বিষয়টি অপ্রাসঙ্গিক নয়। তবে কি আমরা নিজস্ব বিষয়ে অন্যের দ্বারস্থ হব না? অভিজ্ঞতা নেই এমন বিষয়ে কি অন্যর কাছে পরামর্শ চাইব না?

পারিবারিক ও সামাজিক আবহের কারণে আমাদের মানসিকতার তারতম্য ঘটে। প্রতিটি মানুষ নিজস্ব চিন্তা-ভাবনার পাশাপাশি তার পারিপার্শ্বিক অবস্থার ফলে ভিন্ন ভিন্ন মতামত পোষণ করে। একেকজনের দৃষ্টিভঙ্গি এবং পছন্দ-অপছন্দ তাই অন্যজন হতে ভিন্ন হয়। কিন্তু প্রত্যেকেরই একটি নিজস্ব জগত থাকে, মন্তব্য থাকে যা তার দৃষ্টিভঙ্গির আদলে তৈরি হয়। আমাদের নিজস্ব জগত সৃষ্টি হয় মূলত অভিজ্ঞতা এবং সে আলোকে কিছুটা অনুমানের মাধ্যমে। এ অনুমানের অনেকটা অন্যর মতামত প্রভাবিত হয়।

আমরা যখনই কোন বিষয়ে অন্যের পরামর্শ গ্রহণ করি, তখন সে আলোকে বিষয়টি কল্পনা করি। এ কল্পনা আমাদের মনোজগতে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। এ প্রভাবের ফলে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণও মাঝে মাঝে ব্যাহত হয়। পরামর্শক সম্পর্কে অতি উৎসাহী হওয়া বোকামির শামিল। প্রত্যেক বিষয়ে একজন অন্যজন অপেক্ষা ভিন্নভাবে মুখোমুখি হয়।

নিজের চোখেই পৃথিবী দেখি

এমন অনেক বিষয় থাকে যা ব্যক্তির অভিজ্ঞতা, মানসিকতা এবং সেই বিষয় তিনি কিভাবে মোকাবেলা করছে তার ওপর নির্ভর করে। তাই প্রতিটি ব্যাপার একেকজনের কাছে একেক রকম। প্রাসঙ্গিকভাবে বলি, ইমরান একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেবে। স্বাভাবিকভাবেই সে এ বিষয়ে তার একজন বড় ভাইয়ের কাছে পরামর্শ চায়। কিন্তু বড় ভাই সে বিষয়ে তাকে উৎসাহ না দিয়ে বরং ভর্তির ব্যাপারে মনের মধ্যে ভীতির সঞ্চার ঘটান। এটি হয়ত একটি উদাহরণ, তবে অনেক ক্ষেত্রেই আমরা এমন দৃষ্টান্ত দেখতে পাই। যার যার দৃষ্টিভঙ্গি সে অন্যের ওপর চাপিয়ে দিতে চায়। নিজের ব্যর্থতা, অপূর্ণতার মাধ্যমে অন্যকে প্রভাবিত করতে চায়। কিন্তু এর ব্যতিক্রমটিও লক্ষ্য করা যায়। যেমনÑ ঠিক একই বিষয় হয়ত অন্যজনকেও জিজ্ঞাসা করল ইমরান। ব্যাপারটিকে তিনি তুড়ি মেরেই উড়িয়ে দিলেন। কিন্তু আদৌ বিষয়টি ইমরানের কাছে কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ সে ব্যাপারে তিনি ওয়াকিবহাল নন। তাই যে কোন বিষয়ে অগ্রসর হওয়ার জন্য প্রথমে যা দরকার তা হলোÑ বিষয়টির প্রতি নিজের সক্ষমতা সম্পর্কে সজাগ থেকে তবেই অগ্রসর হওয়া।

নিজের পথেই চলি

জীবনের এ মোড়ে এসে আমরা প্রত্যেকে দ্বিধাগ্রস্ত থাকি কোন্ পথে এগোব। বাবা-মা বলবেন এক পথ, বন্ধুরা চলবে অন্যদিকে, শিক্ষকরা চাইবেন ভিন্ন পথ। আসলে নিজের কী পথ বা ইচ্ছা তাই হলো মুখ্য। সে অনুযায়ী এগোনোই বুদ্ধিমানের কাজ। অবশ্য প্রতিটি পথের ভবিষ্যত কি অনিশ্চিত হবে নাকি সুনিশ্চিত থাকবেÑ এ ব্যাপারে আমরা কেউ নিশ্চিত নই। প্রতিটি পথই বন্ধুর, কোন পথ মসৃণ নয়। জীবনের চলার পথে বাধা পেরুলে তবেই সাফল্য। তাই যে পথে এগোনোর পরিকল্পনা বা ইচ্ছা সে পথেই অগ্রসর হওয়া উচিত। প্রচ- ইচ্ছা শক্তিই সব বাধা দূর করে স্বপ্ন বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।

আইডল বনাম পথপ্রদর্শক

পরিবার এবং সমাজে আমাদের এমন অনেক প্রিয় ব্যক্তিত্ব আছে যাদের আমরা আইডল হিসেবে গণ্য করি। দেখা যায় প্রতিটি বিষয়ে আমরা সেসব আইডলের মতাদর্শ কিংবা দৃষ্টিভঙ্গির দ্বারা প্রভাবিত হই। কিন্তু একটি বারের জন্য ভেবে দেখি না আমি একজন স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব, আমারও কিছু মতামত বা চিন্তা করার ক্ষমতা রয়েছে। সব ক্ষেত্রেই যদি তাদের চিন্তা-ভাবনা আমাদের প্রভাবিত করে তবে নিজস্ব বলে আর কিছুই থাকবে না। সব কিছুতেই অন্যের মতামত এবং দৃষ্টিভঙ্গি গুরুত্ব পাবে। যদি সর্বক্ষেত্রে এ পরনির্ভরশীলতা থাকে তবে ভবিষ্যতে আরও দুর্ভোগ পোহাতে হবে। তার চেয়ে ভাল সব বিষয়ে নিজের মতামত এবং দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করা। হয়ত প্রাথমিক সময়ে তা পূর্ণতা পাবে না, তবে নিকট ভবিষ্যতে তার ব্যাপ্তি ঘটবে সন্দেহ নেই।

নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গির মানে হলো নিজস্ব চিন্তা বা বক্তব্যÑ যা অবশ্য স্বতন্ত্র এবং পৃথক। আমরা প্রত্যেকেই অন্যের চেয়ে ভিন্ন এবং এই শ্রেষ্ঠত্বের দাবি তিনিই করতে পারেন, যিনি স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গি মাধ্যমে নিজেকে উপস্থাপন করেন।

ডিপ্রজন্ম ডেস্ক

প্রকাশিত : ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

১৭/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: