মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

চা শিল্পের উন্নয়নে রোড ম্যাপ

প্রকাশিত : ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • উৎপাদন বাড়ছে .৯৫ শতাংশ ও চাহিদা বাড়ছে ১২.৬৯ শতাংশ হারে

এম শাহজাহান ॥ চা শিল্প উন্নয়নে একটি রোড ম্যাপ প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আমদানি নয়, বরং নিজস্ব উৎপাদন বাড়িয়ে কিভাবে দেশের চাহিদা পূরণ করা যায় সে লক্ষ্যে করা হচ্ছে এ রোড ম্যাপ। রোড ম্যাপ প্রণয়নে কাজ করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দেশে চায়ের উৎপাদন বাড়ছে বছরে মাত্র দশমিক ৯৫ শতাংশ হারে। আর অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ছে ১২ দশমিক ৬৯ শতাংশ করে। অর্থাৎ উৎপাদন ও চাহিদার সঙ্গে সমন্বয় করা না গেলে ভবিষ্যতে আমদানি করে চায়ের চাহিদা পূরণ করতে হবে। যদিও এক সময় দেশের প্রধান রফতানি পণ্যের তালিকায় ছিল চা। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়েছে চা থেকে। কিন্তু এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে চা আমদানি করা হচ্ছে। এ বাস্তবতায় চা উন্নয়নে রোড ম্যাপ প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক উর্ধতন কর্মকর্তা জনকণ্ঠকে বলেন, চা উন্নয়নে সরকার একটি রোড ম্যাপ প্রণয়ন করবে। চায়ের চাহিদা বাড়লেও উৎপাদন বাড়ছে না। রফতানিকৃত পণ্যটি এখন আমদানি হচ্ছে। এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া না হলে ভবিষ্যতে পুরো শিল্পটি আমদানি নির্ভর হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই চা উৎপাদন বাড়াতেই সরকারের এ রোড ম্যাপ। আশা করা হচ্ছে রোড ম্যাপটি করা গেলে চা উৎপাদন বাড়াতে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা সম্ভব হবে।

জানা গেছে, বর্তমানে দেশে ১৬৩টি চা বাগান রয়েছে। এ সব বাগান থেকে বর্তমানে প্রায় ৬০ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে ৭৪টি চা বাগান রুগ্ন। চা বোর্ড জানিয়েছে, দেশের চা বাগানগুলোতে উন্নয়নমূলক কোন কাজ না হওয়ায় এবং বিরূপ আবহাওয়ার কারণে ক্রমে চা উৎপাদন কমে যাচ্ছে। স্বাধীনতার পর থেকে চা শিল্পের উন্নয়নে সরকারীভাবে তেমন কোন আর্থিক বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। যদিও চা শিল্পের উৎপাদন বাড়াতে ইতোমধ্যে একটি পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পটির নাম দেয়া হয়েছে স্ট্র্যাটেজিক ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান্ট ফর টি ইন্ডাস্ট্রি অব বাংলাদেশ ভিশন-২০২১। আগামী ২০২১ সালে চায়ের উৎপাদন ১০০ মিলিয়ন কেজিতে উন্নীত করতে এ প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে।

জানা গেছে, ৫ বছর মেয়াদি এ প্রকল্প তিন দফায় বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। প্রথম দফায় ৩৬৬ দশমিক ৯৬ কোটি টাকা, দ্বিতীয় দফায় ৩৯৭ দশমিক ২২ কোটি টাকা ও তৃতীয় দফায় ১৫৪ দশমিক ৯৯ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। আর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে চা শিল্পের উন্নয়নে ১২ দফা সুপারিশ করা হয়েছে প্রণীত এ পরিকল্পনায়। এ সব সুপারিশের মধ্যে রয়েছে উন্নয়নমুখী চা বাগানগুলোর উন্নয়ন করা, রুগ্ন বাগানের যতœ নিতে ঋণ সুবিধা প্রদান, ছোট বাগান সম্প্রসারণ, চা ফ্যাক্টরির উন্নয়ন, টি এস্টেটে গাছ লাগানো, চা ছাড়া বাগানের অন্য ফসলের উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ, চা শিল্প কম্পিউটারাইজড করা, শ্রমিকদের দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণ ও শ্রমিক ওয়েল ফেয়ার ফান্ড গঠন করা।

এছাড়া গৃহীত প্রকল্পের আওতায় স্মল হোল্ডিং টি চাষের প্রতি বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে বলে জানা গেছে। প্রায় সাড়ে ৭ হাজার হেক্টর জমিতে নতুনভাবে চা আবাদ করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রকল্পটি পার্বত্য চট্টগ্রাম ও পঞ্চগড় এলাকার বাগান বাস্তবায়ন করা হবে। একটি চা গাছ লাগানোর তিন বছর পর থেকে চা উৎপাদিত হয়। কিন্তু বাগানগুলো থেকে ৬০ বছরের পুরানো রুগ্ন চা গাছগুলো সরিয়ে নতুনভাবে গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেয়া হবে।

এদিকে চা বোর্ডের তথ্য মতে, ২০১২ সালে দেশে ৩৮ লাখ কেজি চা দেশে আমদানি হয়েছে। চা উৎপাদন ও চাহিদা বৃদ্ধির যে প্রবণতা তাতে ২০১৬ সালে আমদানি করে দেশীয় চাহিদা মেটাতে হতে পারে। দেশে চায়ের উৎপাদন না বাড়ার বড় কারণ হিসেবে এ খাতে বিনিয়োগ না হওয়াকে দায়ী করেছেন সংশ্লিষ্টরা। চা বোর্ড বলছে, দেশের সাড়ে নয় হাজার হেক্টর জমিতে পুরানো চা-গাছ থেকে চা উৎপাদিত হচ্ছে। সে কারণে ওইসব বাগানে চা কম উৎপাদিত হচ্ছে। ওইসব জায়গায় মাটি পুনর্গঠন এবং চাষের ধরন উন্নত করার মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।

এদিক চা উন্নয়নে রোড ম্যাপ প্রণয়নে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এ শিল্পের উদ্যোক্তাদের মতামত ও সুপারিশ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়েছে সরকার। বাণিজ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বেই চা উন্নয়ন সংক্রান্ত রোড ম্যাপ প্রণয়ন সংক্রান্ত কয়েকটি বৈঠক ইতোমধ্যে করা হয়েছে। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার রোড ম্যাপ সংক্রান্ত পরবর্তী বৈঠক নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকাশিত : ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

১৭/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: