মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ঢাকার দিনরাত

প্রকাশিত : ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • মারুফ রায়হান

ঢাকার দিন আর রাতগুলো একটু একটু করে বদলে যাচ্ছে। সপ্তাহের প্রতিটি কর্মদিবসেই হরতাল। শুক্র-শনি দুই ছুটির দিনে চালু আছে অবরোধ। এ দুদিন ঢাকার সড়কে কোন না কোন বাসে পেট্রোলবোমা ছোড়া নিয়ম করে নিয়েছে নাশকতাকারীরা। তবু ঢাকার মানুষ এসব যেন কেয়ারই করছে না। গত সপ্তাহে শুক্র-শনিবারেই পড়েছিল দুটি অসাধারণ দিবস- পহেলা ফাল্গুন ও ভালবাসা দিবস। ঢাকার সকল পথ এসে যেন মিলেছিল শাহবাগে, টিএসসিতে, বইমেলায়। মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সমাবেশ সর্বকালেই সুন্দর ও প্রাণবান। কিন্তু একটি স্পেসেরও তো ধারণক্ষমতা রয়েছে! পেয়ালা উপচে ওঠা জল ছলকে গিয়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে, তাতে বিশেষ ক্ষতিবৃদ্ধি ঘটে না। কিন্তু মানুষের বেলায় ভিন্ন হিসাব। শাহবাগ থেকে টিএসসি পর্যন্ত এই সামান্য পথটুকু পেরুতে যাদের ঘণ্টা পার হয়ে গেছে তাঁরাই জানেন ভিড় কত প্রকার হতে পারে। বিশেষ করে পহেলা ফাল্গুনে সবার গন্তব্য হয়ে ওঠে বইমেলা। মানুষপ্রতি একখানা করে বই বিক্রি হলে একদিনেই ফতুর হয়ে যেত সব বইয়ের দোকান। আহা যদি শতকরা একজনও বই কিনতেন! ৩০০ জনের মধ্যে ২৯৯ জনই বইমেলায় সেদিন গেছেন স্রেফ ঘুরতে, এটা সাদা চোখের হিসেবেই নিশ্চিতভাবে বলতে পারব। একজন ক্রেতার সাপেক্ষে ৫০ জন দর্শক থাকলেও না হয় মেনে নেয়া সম্ভব। ভিড়ের কারণে আমার মতো হাজার হাজার মানুষ পহেলা ফাল্গুনে বইমেলায় প্রবেশ করতে পারেননি বিকেলে বা সন্ধ্যায়। বইমেলা শেষ হওয়ার এক ঘণ্টা আগে ভিড় পাতলা হলে মেলার গেট পেরুতে সক্ষম হলাম। আর ধুলোর পাহাড়ের কথা কী আর বলব। সত্যি এক অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ।

ভিড়াক্রান্ত ভালবাসা দিবসে

ভালবাসা দিবসকে এখন বাংলাদেশের তরুণ সমাজ বেশ ভালভাবেই উপভোগ করে। নানা ব্যক্তিগত আয়োজনে তারা দিনটিকে স্মৃতিময় করে রাখার চেষ্টা করে। একইসঙ্গে ইলেকট্রনিক এবং প্রিন্ট মিডিয়া ভালবাসা দিবসকে কেন্দ্রে রেখে বহু বর্ণিল একটি বৃত্ত রচনা করে যার সময়সীমা ১৪ ফেব্রুয়ারির ২৪ ঘণ্টাকে ছাপিয়ে বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। বলা অসঙ্গত হবে না যে, বিগত এক-দেড় দশকে আমাদের ভালবাসা দিবস উদযাপনের বহুমাত্রিকতা তার পরিসর ও ওজন বিবেচনায় পৃথিবীর যে কোন দেশকে ছুঁয়ে ফেলতে পারঙ্গম। আমাদের প্রেমিকবৃন্দ বিশ্বের কোন দেশের প্রেমিকের তুলনায় সামান্যতমও পিছিয়ে নেই। আর কে না জানে যে, প্রেমের কোন বয়স নেই। আমি সত্তরোর্ধ এমন ব্যক্তিকেও চিনি (নাম বা পেশা বলার কী দরকার!) যিনি এখনও প্রেমকাতর একজন বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তরুণের প্রতিযোগী হতে সক্ষম, প্রেমপ্রকাশ ও প্রেম উপাদান গ্রহণ উভয় ক্ষেত্রে। সত্যি বলতে কি, জীবনের এক শ’ একটা যন্ত্রণার ভেতর সেঁধিয়ে থাকা মানুষের দেহমনে একটুখানি হলেও ভালবাসার সুবাতাস এসে আছড়ে পড়ে এই দিন, হোক তা কয়েকটি মুহূর্তের জন্য। বড়ই বস্তুবাদী আর কাঠঠোকরার ঠোঁটের মতোই কঠিন ও জটিল স্যুটেড-ব্যুটেড ব্যক্তিও ভালবাসার মন্দিরায় মনটাকে ভিজিয়ে ফেলার জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকেন। গৌরচন্দ্রিকা বাদ দিয়ে আসল কথায় আসি।

এই বঙ্গে ফাগুন আর ভালবাসা দিবস আসে হাত ধরাধরি করে। ভালবাসা দিবসের বারতাই যেন এখন বাংলার ফাল্গুন আকাশে-বাতাসে, মাটিতে ও কংক্রিটে ছড়িয়ে দেয়। বাংলাদেশের বাংলা পঞ্জিকায় পহেলা ফাল্গুন হলো তেরোই ফেব্রুয়ারি আর ভ্যালেন্টাইন ডে ঠিক তার পরের দিন। অমর একুশে গ্রন্থমেলায় এসে আছড়ে পড়ে ফাল্গুন আর ভালবাসা দিবসের ঢেউ। ভালবাসা দিবসের রূপ-রস-গন্ধ-উত্তাপ রাজধানীর যে অঞ্চলে সবচাইতে বেশি দৃশ্যমান হয় তা হলো এ বইমেলা। বইমেলা যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন প্রাঙ্গণ বাংলা একাডেমিতে না হতো তাহলে পহেলা ফাল্গুন আর ভালবাসা দিবসে আমরা ভালবাসার ওই সর্বব্যাপী রূপছটা থেকে অনেকখানি বঞ্চিত হতাম কিনা, সেটা বড় জিজ্ঞাসা। বইমেলা সত্যিই এক মুক্তাঞ্চল, তা যতই পুলিশ-মেটাল ডিটেক্টর-সিসিটিভি ক্যামেরার শ্যেনদৃষ্টি থাকুক না কেন। দলে দলে তরুণ-তরুণী বইমেলায় এসে উদযাপন করেন ভালবাসা দিবস। মোল্লারা আর রক্ষণশীলরা চোখ কপালে তুলে রাখলেও তাতে কোন প্রতিবন্ধকতা পড়ে না। একসময় প্রায় নিয়মিতভাবেই ভালবাসা দিবসেও হরতাল ডাকা হয়েছে। তাতে কী। ভালবাসার মানুষদের কেউ দমাতে পারেনি। বইমেলায় তার অপরূপ রূপ প্রত্যক্ষ করা যায়।

ভালবাসা দিবসের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা বলতে পারি যে, এদিন অল্পবয়সী প্রেমিক-প্রেমিকারা পরস্পরকে নতুন বই উপহার দেয়ার কথা বিবেচনা করেন। তাদের প্রথম পছন্দ কবিতার বই, প্রেমের কবিতার বই হলে তো সোনায় সোহাগা। এরপর তারা খোঁজেন প্রেমের উপন্যাস। এটা একেবারে নিজের চোখে দেখা অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। অনেক প-িত লেখক আছেন যারা ভালবাসা নিয়ে মাতামাতিকে বাঁকা নজরে দেখেন। যেন তাঁরা কখনই কাউকে ভালবাসেননি। আবার ভালবাসা প্রসঙ্গে বাচাল হয়ে ওঠেনও কেউ কেউ। ভালবাসা বিষয়টিকে অন্তরে গভীরভাবে ধারণ করে কোন লেখক উচ্চারণ করতেই পারেন : প্রতিবার ভালবেসে আমি হই শুদ্ধ সর্বহারা। ভালবাসা দিবসে পুরুষ লেখককে কোন অনুরাগী একগুচ্ছ লাল গোলাপ উপহার দেবেন এটা কামনা করি মনে মনে। কিন্তু পাঠিকারা লেখকের রচনাকে ভালবাসেন, সেই রচনা তুলে দেন তাঁর প্রেমিকের হাতে। লেখক এখানে হয়ে যান অনেকটা পিতা কিংবা শ্বশুরের মতো, নিদেনপক্ষে বড় ভাই। তবে রবীন্দ্রনাথ ও জীবনানন্দ থাকেন প্রায় ঈশ্বরের আসনে। ভালবাসা দিবসের কদিন পরেই আসে জীবনানন্দের জন্মদিন। তাঁকে সেদিন নতুন করে প্রেমনিবেদন করেন জীবনপ্রেমিকরা। বিশেষ কোন নারী বা পুরুষের জন্য প্রেম হয়ত একসময় ঘাস হয়ে আসতে পারে। কিন্তু নিজের জীবনের প্রতি প্রেম, বলা চাই, মহাজীবনের প্রতি প্রেম কখনও ফুরোয় না। তার নব নব অবয়ব তৈরি হয়, প্রকাশের রূপরেখা তৈরি হয়। তার একটি মাইলফলক কিংবা ফিরে তাকানোর দিন হয়ে উঠতে পারে আমাদের এই ভালবাসা দিবস। ভালবাসা দিবসে তাই উচ্চারণ করেই বলি : বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশ তোমাকে ভালবাসি।

বিচিত্র পেশা

পৃথিবীর যে কোন দেশের রাজধানী শহরের সঙ্গে পেশাবৈচিত্র্যে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার তুলনা চলে না। নগর ও গ্রামÑ এ দুটি জনপদের পেশাজীবনের ধরনে পার্থক্য থাকলেও কালে কালে ঢাকা মহানগরীর বিপুল সম্প্রসারণ এবং তার দেহের বিভিন্ন প্রত্যঙ্গে পল্লীর বৈশিষ্ট্য ফুলেফেঁপে ওঠায় ঢাকাবাসীর পেশাপরিধিতেও গ্রামীণ পেশার বিস্তার ঘটেছে। প্রকৃত ঢাকাবাসীর সংখ্যা এখন সামান্যই। প্রকৃত ঢাকাবাসী বলতে অবশ্যই ৪০০ বছর ধরে বসবাসকারী ঢাকার আদি বাসিন্দার বংশধরদের বোঝাচ্ছি না। বিষয়টি যথেষ্ট শিথিল করেই বিবেচনা করা যাক। একাত্তরপূর্ব সময়ের হিসাবই না হয় ধরি। স্বাধীনতা অর্জনের আগে যাঁরা বাড়ি কিনে বা জমি কিনে বাড়ি বানিয়ে ঢাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করতে শুরু করেছেন তাঁদেরই না হয় বিবেচনা করি যথার্থ ঢাকাবাসী বলে। হোক না তাঁদের সিংহভাগই বহিরাগত। যদিও এরাসহ আদি ঢাকাবাসীদের সংখ্যা বর্তমান ঢাকার মোট জনসংখ্যার কুড়ি ভাগও হবে না। সঠিক পরিসংখ্যান হাতের কাছে না থাকলেও এই অনুমানে বড় ধরনের ত্রুটি নেই। আপনি যে এলাকায় বাস করছেন আশপাশের দু’দশজনের কাছেই জিজ্ঞাসা করে দেখুন না যে, কবে থেকে তাঁরা ঢাকাবাসী হয়েছেন। সত্যি বলতে কী, স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার দশকে সাময়িক বা স্থায়ীভাবে ঢাকায় বসবাসকারীর সংখ্যা বহুগুণ বেড়েছে। অবস্থাদৃষ্টে এরাই হয়ে উঠছেন ঢাকার জাঁদরেল নাগরিক। এটাই নগরের নিয়ম। বিশেষ করে রাজধানী শহরের। গ্রামের ভিক্ষুকরা পর্যন্ত মাইগ্রেট করে রাজধানী ঢাকায় এসেছে ভিক্ষাবৃত্তিকে নিরঙ্কুশ রাখার জন্যে। যেখানে মানুষের চলাচল বেশি সেখানে হাত পেতে সফল হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি। সেদিন কবরস্থানে গিয়ে অদ্ভুত অভিজ্ঞতা হলো। বয়স্ক ভিখারিদের তুলনায় কয়েকগুণ ভিখারি ঘুরঘুর করছে যাদের বয়স দশের নিচে। একজন দাফনকারী বললেন, এই শিশুদের অর্ধেকই জড়িয়ে যাবে বিভিন্ন অপরাধকর্মে। বলা বাহুল্য, চুরি-ডাকাতি-ছিনতাই ছাড়াও বহু অপরাধকর্ম রয়েছে যেগুলোকে প্রধান পেশা হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে।

পঞ্চাশ বছর আগের একটি আদর্শ গ্রামের কথা ভাবুন। সেখানে বাজার বা গঞ্জের পেশাজীবী বাদে বেশিরভাগ পেশাজীবীই ছিল গ্রামীণ অর্থনীতি বা কৃষি উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে যুক্ত। ক্ষেতে ফসল ফলানো আর সড়ক বা নৌপথে সেসব বাজারজাত করাÑ এই ছিল প্রধান কাজ। সেসব কৃষক শ্রমিক মাঝিমাল্লা মুটে মজুরদের বড় অংশ স্বপেশায় বিপন্ন বোধ করেছেন যুগে যুগে। আধুনিক প্রযুক্তি ঢুকেছে গ্রামে, জনসংখ্যা স্ফীত হয়েছে, চাষের জমি কমে এসেছে, নদীগুলো শীর্ণকায় হয়ে উঠেছেÑ এসব নানাবিধ কারণে গ্রাম থেকে দক্ষ জনশক্তি আগন্তুক হয়ে রাজধানীতে এসেছে এবং ভিন্ন পেশা গ্রহণে বাধ্য হয়েছে। একইভাবে ঢাকার বাইরের ছোট ও বড় শহরগুলো থেকেও দলে দলে মানুষ এসেছে রাজধানী ঢাকায়। কেউ সর্বক্ষণিকভাবে কেউবা সাময়িকভাবে এক বা একাধিক অচেনা পেশার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক যান চালনার পেশায় নিয়োজিত আছেন লাখ লাখ মানুষ।

অফিস-আদালতের পেশার বাইরে পথে-প্রান্তরে রাজধানীর মানুষ কত বিচিত্র পেশায়ই না নিয়োজিত রয়েছেন। একবার অনুসন্ধানে আমরা দেখেছিলাম ঝোলা নিয়ে ভ্রাম্যমাণ কারিগরের ছাতি সারানো আর ভাঙ্গা আয়না ও ক্ষুর নিয়ে গাছতলায় সেলুন বানিয়ে বসা গ্রাম-স্টাইলে পেশাজীবীরা সাবলীলভাবেই তাদের পসার জমিয়ে ফেলেছেন ঢাকায়। সেজন্যই বলি, গ্রামপর্যায়ে যত ধরনের পেশা চালু রয়েছে তার প্রায় সবই রয়েছে বর্তমান রাজধানীতে। তার মানে হলো গ্রামজীবনও চালু রয়েছে এই ব্যস্ততম নিষ্ঠুর শহরে।

চার বছর আগের এই দিনে

আজ ১৭ ফেব্রুয়ারি এ লেখা যখন পাঠক পড়ছেন তখন স্মরণ করছি চার বছর আগে ঠিক এই দিনে বিশ্বকাপ ক্রিকেট উদ্বোধনের কথা। ইংল্যান্ডবধের সেই গর্বিত আনন্দের উপলক্ষকে অনেকেই মনে রেখেছেন। ডায়েরিতে লিখেছিলামÑ ‘১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১১, বৃহস্পতিবার। অফিসে দ্রুত কাজ সারছি। (ভিন্ন একটি দৈনিকের কার্যালয় ছিল স্টেডিয়ামের খুব কাছে। ঘাড় ফেরালেই পুরো স্টেডিয়াম নজরে আসত) তাড়াতাড়ি বেরিয়ে যেতে হবে। কারণ এই এলাকায় বেলা বারোটা থেকেই যন্ত্রচালিত যানবাহন ঢুকতে পারছে না। অনেকটা পথ হেঁটে আমাকে মহানগরী ঢাকার উত্তর মাথার বাস ধরতে হবে। উত্তরায় যাওয়া সহজ নয়। একবার ঘুরে দেখলাম। দুপুরে বসে কল্পনাও করতে পারিনি যে, এখানেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি জমজমাট হবে, তাতে থাকবে প্রযুক্তির ব্যবহার। আমাদের পরিবেশনা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেবে। ভাবিনি সত্যিই বাংলাদেশ এত বড় একটি আয়োজন এত সফল ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে পারবে। ভুভুজেলার আওয়াজ তো শুনছি, আরও কত বিচিত্র ধরনের ধ্বনি যে আছে আনন্দ ও উল্লাসের। প্রতিটি ঢাকাবাসী আজ যেন গর্বিত বিশ্বনাগরিক। আহা বাংলাদেশ শুধু বিশ্বকাপ ক্রিকেটে খেলছেই না, রীতিমতো আয়োজক সে বিশ্বকাপের। রাস্তায় বেরিয়ে দেখি সে এক এলাহী কাণ্ড। মানুষ আর মানুষ। এক মাইল লম্বা সুশৃঙ্খল লাইন। সবাই ঢুকবে স্টেডিয়ামে। আকাশে মেঘ জমছে। দেখতে দেখতে ক’ফোঁটা ঝরলোও। ঝরুক। আজ বইমেলায় কে যাবে! এই এলাকার একটা দোকানও খোলা নেই। সবাই কি স্টেডিয়ামমুখী? এত লোক কি করে আঁটবে একটা স্টেডিয়ামে!’

অতীত থেকে ফিরে আসি বর্তমানে। আগামীকাল বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ। তবে গত রবিবারের ভারত বনাম বাংলাদেশের ক্রিকেট ম্যাচটি ঢাকার বহু মানুষ দেখেছেন বড় পর্দায়। জগন্নাথ বিশ্বদ্যিালয়সংলগ্ন একটি ভেঙ্গে ফেলা ভবন-চত্বরে এমন একটি আয়োজনে খেলা দেখেছে অনুজপ্রতিম এক তরুণ। সে বলল, সেখানে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের সমর্থকের সংখ্যাই ছিল বেশি। শেষ পর্যন্ত খেলায় জেতে ভারত। তরুণটি জানাল, বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশের খেলার দিনই শুধু বড় পর্দায় খেলা দেখার ব্যবস্থা নেয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা ভারত-পাকিস্তান দু’দেশের সমর্থক হিসেবে ভাগ হয়ে আছে। তাই এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচও দেখবে প্রচুর মানুষ। সে কারণেই এলাকাবাসীর সুবিধার কথা ভেবে বড় পর্দায় খেলা দেখানোর আয়োজন।

১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫

marufraihan71@gmail.com

প্রকাশিত : ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

১৭/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: