কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

গাজীপুর ও বগুড়ায় বাসে পেট্রোল বোমা হামলা

প্রকাশিত : ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

স্টাফ রিপোর্টার ॥ চলমান অবরোধের মধ্যেই ডাকা হরতালেও সারাদেশের জীবনযাত্রায় প্রভাব পড়েনি। লাগাতার অবরোধ-হরতালে অতিষ্ঠ মানুষ স্বাভাবিক কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। বোঝাই যাচ্ছে না, দেশে অবরোধ-হরতালের মতো কোন কর্মসূচী চলছে কিনা! রাজধানীতে ছিল তীব্র যানজট। খোদ প্রধানমন্ত্রীকেও যানজটের কবলে পড়ে তিন দফায় আটকে থাকতে হয়েছে। ঢাকার সঙ্গে সারাদেশের ট্রেন, লঞ্চ ও দূরপাল্লার যানবাহনের চলাচল ছিল একেবারেই স্বাভাবিক। শুধু রাতের বেলায় আতঙ্কের কারণে জামায়াত-শিবিরের প্রভাব থাকা জেলাগুলোতে যানবাহন চলাচল খানিকটা বিঘিœত হচ্ছে। সোমবার গুলশান খালেদা জিয়ার কার্যালয় ঘেরাওকালে নাশকতাকারীদের বোমা হামলায় অবরোধ-হরতাল বিরোধী ১১ জনকে আহত করাসহ সারাদেশে বিচ্ছিন্নভাবে চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে অবরোধ-হরতাল কর্মসূচী পালন করেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। সারাদেশে চলমান বিশেষ অভিযানে নাশকতাকারী তাদের মদদ, অর্থ, আশ্রয়-প্রশ্রয় ও নির্দেশ দেয়ার সঙ্গে জড়িত বিএনপি-জামায়াত-শিবির ও ভাড়াটে সন্ত্রাসীসহ দেড়শতাধিক গ্রেফতার হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে ককটেল ও পেট্রোলবোমা। -অবরোধে ঢাকার চিত্র ॥ স্বাভাবিক কর্মদিবসের মতো ছিল রাজধানীর চিত্র। অফিস, আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা ছিল। এসব জায়গায় উপস্থিতিও ছিল স্বাভাবিক দিনের মতো। রাজধানীজুড়ে ছিল তীব্র যানজট। যানজটের কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরকে তিন দফায় থামতে হয়েছে। সকাল পৌনে দশটার দিকে গণভবন থেকে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত সাপ্তাহিক বৈঠকের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। সকাল দশটায় বৈঠকের নির্ধারিত সময় ছিল। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন জানান, যাত্রার আধঘণ্টা আগে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর যাওয়ার রাস্তাটি ফাঁকা করার বিধান রয়েছে। কিন্তু তীব্র যানজটের কারণে প্রাণান্তকর চেষ্টা করেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে সে কাজটি করা সম্ভব হয়ে উঠেনি। ফলে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরকে ফার্মগেট, বাংলামোটর ও কাকরাইল মসজিদের কাছে তিন দফায় যানজটের কবলে পড়তে হয়।

এছাড়া রাজধানীর মহাখালী, গাবতলী ও সায়েদাবাদ থেকে নিয়মিত দূরপাল্লার বাস ছেড়ে গেছে। ট্রাক ও পণ্যবাহী অন্যান্য যানবাহনও যাতায়াত করেছে। তবে যাত্রীবাহী বাসে তুলনামূলকভাবে যাত্রীর সংখ্যা কিছুটা কম ছিল। কমলাপুর থেকে ট্রেন আর সদরঘাট থেকে লঞ্চও ছেড়ে গেছে যথাসময়ে।

এছাড়া বিকেলে রাজধানীর বাড্ডা লিংক রোডে তুরাগ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেয় অবরোধকারীরা। যদিও কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। অন্যদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনের রাস্তায় একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় অবরোধকারীরা। এদিকে রাজধানীতে চলমান বিশেষ অভিযানে সোমবার বিকেলে পুরনো ঢাকার জনসন রোড থেকে অভিনেতা হেলাল খানসহ ৩০ জনকে গ্রেফতার হয়েছে।

গাজীপুর ॥ ভোরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের তেলিপাড়া এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা গার্মেন্টস শ্রমিকবাহী একটি বাসে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয় অবরোধকারীরা। তবে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এছাড়া দুপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় কালিয়াকৈর পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাসে পেট্রোলবোমা মারে অবরোধকারীরা। বাস থেকে নামতে গিয়ে অন্তত ৫ যাত্রী আহত হন। জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে বিশেষ অভিযানে নাশকতায় জড়িত সন্দেহে ৭ জন বিএনপি কর্মীকে আটক হয়েছে।

বগুড়া ॥ সকালে জেলার ঠনঠনিয়া বাস টার্মিনালের কাছেই শেরপুর রোডে ঢাকা থেকে বগুড়াগামী বাবলু পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোলবোমা হামলা করে অবরোধকারীরা। এছাড়া রবিবার রাত আড়াইটার দিকে শিবগঞ্জের মোকামতলা এলাকায় বাহারপুর স্কুলের সামনে কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকাগামী গরু বোঝাই ট্রাকে পেট্রোলবোমা মারে। পুলিশ দ্রুত আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। তবে আগুনে চালক সেলিম (৪৫) ও গরু ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের (৫৩) দগ্ধ হন। এর আধঘণ্টা পরেই শেরপুর উপজেলা সদরে ভূমি অফিসে আগুন দেয় অবরোধকারীরা। স্থানীয়রা আগুন নিভিয়ে ফেলেন। নাশকতার মামলায় জেলা জামায়াত নেতা জাহেদুর রহমানসহ ১৩ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

চট্টগ্রাম ॥ মহানগরী ও জেলার মহাসড়কে যানবাহনের চলাচল ছিল স্বাভাবিক দিনের মতোই। সোমবার দুপুর একটার দিকে কালুরঘাটগামী একটি যাত্রীবাহী বাসে ককটেল হামলার ঘটনায় নাসির উদ্দিন চৌধুরী (৫৬) নামে এক যাত্রী আহত হন। এছাড়া রবিবার রাতে নগরীর আতুরার ডিপো এলাকায় একটি মিনিবাস ও একটি প্রাইভেটকার লক্ষ্য করে পেট্রোলবোমা মারে সন্ত্রাসীরা। এতে কামরুল আলম (৫২) নামে এক বাসযাত্রী দগ্ধ হন। পুলিশ লোকমান নামের একজনকে আটক করে। এছাড়া মহানগরীর বিভিন্ন জায়গায় বিশেষ অভিযানে ছাত্র শিবিরের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ শাখার সভাপতি নুরুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাবিবসহ শিবিরের ৪ নেতাকর্মীসহ ১৯ জন এবং জেলার মীরেরসরাই থেকে ১৪ জন মোট ৩৩ জন গ্রেফতার হয়েছে।

সিলেট ॥ সোমবার দুপুর একটার দিকে মহানগরীর মিরের ময়দান এলাকায় একটি সিএনজিতে ককটেল হামলা চালালে চালক সৈয়দ আহম্মেদ (৩৭), নাফিজা ১৮ মাস ও হাফিজুর ৬ বছর নামে দুই শিশু আহত হয়। তাদের সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত দুই শিশুর পিতা মাহবুবুর রহমান জানান, তিনি সুনামগঞ্জের গোবিন্দগঞ্জ থেকে কুলাউড়া যাচ্ছিলেন। এছাড়া সিলেট শহরে আড়ংয়ের সামনে একটি মাইক্রোবাসে পেট্রোলবোমা মেরে আগুন ধরিয়ে দেয় অবরোধকারীরা। মাইক্রোবাসে থাকা এক নারী দগ্ধ হন। নাশকতা চালানোর অভিযোগে মহানগরীতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিএনপি, স্বেচ্ছাসেবক দল ও শিবিরের ১৪ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।

প্রকাশিত : ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

১৭/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: