হালকা কুয়াশা, তাপমাত্রা ১৮.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

কেন জিহাদের পরিবারকে ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে না ॥ হাইকোর্টের রুল

প্রকাশিত : ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৫
  • পাইপে পড়ে মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীর শাজাহানপুরে পরিত্যক্ত নলকূপের পাইপে পড়ে মৃত্যু হওয়ার ঘটনায়, জিহাদের পরিবারকে ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ কেন দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এ ধরনের উদ্ধার কাজে ফায়ার সার্ভিস কতটুকু সক্ষম, তাও আদালতকে জানাতে বলা হয়েছে আদেশে।

রবিবার চিলড্রেন চ্যারিটি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের দায়ের করা একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি ফারাহ্্ মাহবুব ও বিচারপতি কাজী মোঃ ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।

রুলে সংবিধানের ৩১, ৩২ ও ৩৬ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী হওয়ায় শিশুটির মৃত্যুতে ফায়ার সার্ভিস, ওয়াসা, রেলওয়ে এবং সিটি কর্পোরেশনের অবহেলাকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে নাÑ তাও জানতে চেয়েছেন আদালত। এছাড়া সারাদেশে অরক্ষিত ও উন্মুক্ত পাইপ, কূপ, টিউবওয়েল, স্যুয়ারেজ পাইপ, গর্ত এবং পানির ট্যাঙ্কের তালিকা তৈরি করতে কেন নির্দেশনা দেয়া হবে নাÑ রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র সচিব, রেলওয়ে সচিব, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক, রেলওয়ের মহাপরিচালক, ফায়ার সার্ভিস এ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশনস্ এ্যান্ড মেনটেইনেন্স), ওয়াসার চেয়ারম্যান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার ও শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল আমাতুল করিম। আদেশের পর এ বিষয়ে আব্দুল হালিম সাংবাদিকদের জানান, অরক্ষিত গর্ত, পাইপ, পয়ঃনিষ্কাশন পাইপ ও অন্যান্য জলাধারে শিশু বা মানুষ পড়লে তাদের দ্রুত ও কার্যকরভাবে উদ্ধারে গত দুই বছরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কী কী যন্ত্রপাতি কিনেছে, তার একটি তালিকা আগামী ১৫ মের মধ্যে রেল কর্তৃপক্ষ ও ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষকে জমা দিতে বলেছে আদালত। আদেশের পাশাপাশি আদালত রুলও জারি করেছেন বলেন জানান তিনি।

গতবছর ২৬ ডিসেম্বর শাহজাহানপুর রেল কলোনিতে খোলা থাকা কয়েকশ’ ফুট গভীর একটি নলকূপের পাইপে পড়ে যায় চার বছরের জিহাদ। প্রায় ২৩ ঘণ্টা রুদ্ধশ্বাস অভিযানে অনেক নিচে ক্যামেরা নামিয়েও ফায়ার সার্ভিস কোন মানুষের ছবি না পাওয়ায় পাইপে জিহাদের অস্তিত্ব থাকা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। ওই সন্দেহ রেখেই উদ্ধার অভিযান স্থগিতের ঘোষণা দেয় ফায়ার সার্ভিস। এর কয়েক মিনিটের মধ্যে কয়েকজন তরুণের তৎপরতায় তৈরি করা যন্ত্রে পাইপের নিচ থেকে উঠে আসে অচেতন জিহাদ। হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা জানান, শিশুটি বেঁচে নেই। ওই ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

প্রকাশিত : ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৫

১৬/০২/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: